প্রতিবছর দেশে ৫ লাখ মানুষ টাইফয়েড রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন, এর মধ্যে মারা যায় ৮ হাজার মানুষ। যার বেশির ভাগই শিশু। তাই টাইফয়েড জ্বর থেকে সুরক্ষিত রাখতে সরকারের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় শিশুদের মাঝে টিকা প্রদানের পরিকল্পনা গ্রহণ করে। এ ধারাবাহিকতায় সারাদেশের মত বান্দরবান জেলার লামা উপজেলায়ও টিকাদান ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত হবে। এই উপলক্ষ্যে উপজেলার সাতটি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা এলাকার ৩৬ হাজার ১০৩জন শিশুকে বিনামূল্যে টাইফয়েড টিকা প্রদানের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এর মধ্যে স্কুল পর্যায়ে রয়েছে ২৫ হাজার ৭৯৬জন ও কমিউনিটি পর্যায়ে ১০ হাজার ৩০৭জন শিশু। দুর্গম পাহাড়ি এলাকা সত্বেও ৯৫% টিকা নিবন্ধন কাজ সম্পন্ন করায় চট্টগ্রাম বিভাগে প্রথম স্থান অর্জন করে লামা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। আজ রবিবার (১২ অক্টোবর) সকালে পৌরসভা এলাকার নুনারবিল মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশুদের মাঝে টিকা প্রদানের মাধ্যমে এ কর্মসূচীর উদ্ভোধন হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, লামা উপজেলায় স্কুল পর্যায়ে ১৯৪টি, ১৪৪টি অস্থায়ী ও ১টি স্থায়ী (উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স) টিকা কেন্দ্রের মাধ্যমে বিনামুল্যের টাইফয়েড টিকা প্রদানের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। সে মতে কমিউনিটি পর্যায়ে ৯ মাস থেকে ১৫ বছর বয়সী ও স্কুল পর্যায়ে প্রাক প্রাথমিক থেকে ৯ম শ্রেণীর শিক্ষার্থীরদের এ টিকা প্রদান করা হবে। স্কুল পর্যায়ে ১০দিন ও কমিউনিটি পর্যায়ে ৮দিন সরকারি ছুটি ও ইপিআই সেশন ব্যতিত প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত এই কার্যক্রম চলবে।
প্রতিকেন্দ্রে ২জন ভেকসিনেটর দায়িত্ব পালনের পাাশাপাশি ১৮জন সহ স্বাস্থ্য পরিদর্শক, পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক, স্যানেটারি পরিদর্শক, এনটি ইপিআই ও স্বাস্থ্য পরিদর্শক টিকা প্রদান কেন্দ্র পরিচালনা করবেন বলে জানান, মেডিকেল টেকনোলজিষ্ট (ইপিআই) ফখরুল ইসলাম। রুপসীপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. শাহ আলম জানায়, তার এলাকার বেশির ভাগই দুর্গম। নদী ও পাহাড়ি পথ বেয়ে যাতায়াত করতে হয়। তাই টিকা থেকে সেখানকার শিশুরা বাদ পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে দুর্গমের সব শিশুকে টিকার আওতায় আনা সম্ভব। উপজেলায় ৩৬ হাজার ১০৩জনকে টিকা প্রদানের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণের সত্যতা নিশ্চিত করে শনিবার বিকালে লামা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা গোলাম মোস্তফা নাদিম বলেন, ১২ অক্টোবর থেকে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত স্কুল ও ১ নভেম্বর থেকে ১৬ নভেম্বর পর্যন্ত কমিউনিটি পর্যায়ের শিশুরা টিকা নিতে পারবেন। টিকা গ্রহনে ভয়ে কোন কারণ নেই। যাদের জন্ম নিবন্ধন নেই বা যারা এখনো নিবন্ধন করতে পারেনি, তারাও টিকা নিতে পারবেন। টিকা থেকে দুর্গম পাহাড়ি এলাকার একটি শিশুও যাতে বাদ না পড়ে, সে ব্যবস্থার পাশাপাশি সার্বক্ষনিক মনিটরিং করা হবে। এ টিকা নিলে শিশুরা টাইফয়েড মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা পাবে। তাই শতভাগ টিকা কার্যক্রম বাস্তবায়নে শিশু অভিভাবক ও শিক্ষকসহ সকলের সহযোগিতা চেয়েছেন ডা. গোলাম মোস্তফা নাদিম।

