নগরীর কোতোয়ালি থানার টেরিবাজারে ‘আল বয়ান’ একটি রেস্তোরাঁ থেকে গ্রেফতার জামায়াত-শিবিরের ৪৯ নেতাকর্মীকে কারাগারে প্রেরণ করেছেন আদালত।
এরআগে এ ঘটনায় কোতোয়ালি থানার এস আই মো. মোমিনুল হাসান মঙ্গলবার বাদী হয়ে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলায় গ্রেফতার ৪৯ জনের নাম উল্লেখসহ পলাতক ১৬ ও ১০-১৫ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে। মামলার বাদী মোমিনুল হাসান জানান, গ্রেফতার আসামিদের দুপুরে আদালতে সোপর্দ করা হয়। আদালত প্রত্যেককে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (অপারেশন) রুবেল হাওলাদার জানান, ‘গ্রেফতার আসামিদের মধ্যে প্রথম দিন পাঁচ জনের বিরুদ্ধে পাঁচ দিন করে রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে অন্যদের রিমান্ড আবেদন করা হবে।’
গ্রেফতারকৃতরা হলেন, কোতোয়ালি থানা জামায়াতের আমির মো. ফরিদুল আলম (৪৭), কোতোয়ালি থানা দক্ষিণ শাখার সমন্বয়ক মো. ফরিদ উদ্দিন (৪৪), কোতোয়ালি থানা দক্ষিণ শাখার বায়তুল মাল সম্পাদক মো. নুরুল কবির (৬৫), কোতোয়ালি থানা দক্ষিণ শাখার দফতর সম্পাদক এমদাদ উল্লাহ (৩৪), বকসিরহাট শাখা জামায়াতের সাধারণ সম্পাদক সাইফুদ্দিন খালেদ (৩৫), অর্থ জোগানদাতা আবুল মনছুর (৫০), টেরীবাজার শাখার জামায়াত সভাপতি মো. হুমায়ুন কবির (৫০), টেরীবাজার কাটাপাহাড় শাখার সভাপতি রাশেদুল করিম (৩৪), টেরীবাজার কাটা পাহাড় শাখার জামায়াত সহ-সভাপতি হাফেজ মো. তাজুল ইসলাম (৩৮), টেরীবাজার ইমাম ম্যানশন শাখার সভাপতি মোহাম্মদ ইসরাফিল (৫০)।
বাকিরা জামায়াত ও শিবিরের কর্মী বলে দাবি করেন কোতোয়ালি থানার ওসি জাহিদুল কবির।
এদিকে গ্রেফতার ৪৯ জনের মধ্যে নয় জন জামায়াত ইসলামীর বিভিন্ন পদে থাকা সক্রিয় নেতা বলে জানিয়েছে পুলিশ। গ্রেফতার বাকি ৪০ জনের মধ্যে অর্থ যোগানদাতা এবং সক্রিয় কর্মী-সমর্থক রয়েছেন। কয়েক বছর ধরে আড়ালে থেকে কার্যক্রম পরিচালনা করলেও সম্প্রতি দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও ১১৬ জন আলেমের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে অভিযোগ করাকে পুঁজি করে মঙ্গলবার চট্টগ্রাম জুড়ে নাশকতার মাধ্যমে তারা প্রকাশ্যে আসার পরিকল্পনা করছিলেন বলে দাবি পুলিশের।
পুলিশ জানায়, সেই পরিকল্পনা প্রণয়নে সোমবার রাতে নগরীর কোতোয়ালি থানার টেরিবাজারে ‘আল বয়ান’ নামে একটি ভাতের হোটেলে তারা বৈঠকে বসেছিলেন।

