দেশের প্রায় সব পরিবারের মধ্যেই কম-বেশি বিরোধ লক্ষ করা যায়। ব্যক্তিগত বিষয় থেকে শুরু করে সম্পত্তি, দেনা, পাওনা ইত্যাদি বিষয়ে এসব বিরোধ দেখা দেয়। বিরোধ দেখা দিলে অনেকে রাগে ও ক্ষোভে সংঘাতে জড়ান। আবার কেউ আগ-পিছ না ভেবে থানায় বা আদালতে গিয়ে মামলা ঠুকে দেন। কিন্তু মামলা-মোকদ্দমার পথে যে দীর্ঘসূত্রতা, তা আগে থেকে অনেকে বুঝতে পারেন না। এমন অনেক মামলা-মোকদ্দমা রয়েছে যা কয়েক যুগ পার হলেও নিষ্পত্তির মুখ দেখে নি। অনেকেই পারিবারিক সম্পত্তির ভাগবাটোয়ারাসহ ঠুনকো বিষয়ে ক্ষোভের বশে মামলায় জড়িয়ে মূল সম্পত্তির দশগুণ ব্যয় করে নিঃস্ব হয়ে দিকবিদিকশুন্য হয়ে ঘুরছে। একটু সচেতন হলে এসব পারিবারিক বিরোধ কয়েক মুহূর্তের মধ্যে সামাজিক বৈঠকের মাধ্যমে অতি সহজ উপায়ে নিষ্পত্তি করা সম্ভব।
সামাজিক উদ্যোগে এমন একটি মহতি ঘটনা ঘটেছে রাউজান উপজেলার নোয়াপাড়া ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের হাজী আব্দুর রউফ সুফীর বাড়িতে। এই বাড়ির মরহুম বাচা মিয়ার দুই পুত্র মুহাম্মদ বাদশা মিয়া ও শামশুল আলমের পরিবারের মধ্যে সম্পত্তি ভাগবাটোয়ারার বিষয়ে মনোমালিন্য জের ধরে দীর্ঘ দুই দশক ধরে চলছিল পারিবারিক বিরোধ। এই পারিবারিক বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য সমাজপতিদের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছিলেন বাদশা মিয়ার ছেলে সংযুক্ত আরব আমিরাত প্রবাসী নুরুল আজিজ ও তার পরিবার। সংবাদটি গত তিনমাস পূর্বে সিপ্লাস টিভিতে প্রচারিত হয়।সংবাদটি প্রকাশিত হওয়ার পর দুই পরিবারের বিরোধ নিরসনে উদ্যোগ নেন সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন মুহাম্মদ আলাউদ্দিন, জাহেদুল আলম, মো. জিকু, মো. আরিফ, আবদুল রহিম, মো. মোরশেদ, নিয়ামুল হোসেন, মো হাসানসহ অন্যান্য ব্যক্তিবর্গ। তারা উভয় পরিবারের সাথে ধাপে ধাপে আলোচনা চালিয়ে গত শুক্রবার দুই পরিবারের দুই দশকের পারিবারিক বিরোধ নিষ্পত্তি করতে সক্ষম হয়। এতে করে উভয় পরিবারের মধ্যে আনন্দে ছটা ছড়িয়ে পড়ে। মৃত বাচা মিয়ার তৃতীয় প্রজন্মের দুই চাচাত ভাই নুরুল আজিজ ও মো. শাহাজানের পরিবারের মধ্যে হৃদ্যতা ছড়িয়ে পড়ে।
দীর্ঘ দুই দশক ধরে চলে আসা পারিবারিক বিরোধ সামাজিকভাবে নিষ্পত্তি হওয়ায় তারা বেশ সন্তুষ্ট প্রকাশ করেন। দীর্ঘসময় ধরে চলে আসা পারিবারিক বিরোধ নিয়ে আইন-আদালত সহ নানা হয়রানিমূলক বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে তারা অন্যান্য পরিবারের প্রতি আহ্বান জানান, যে কোন পারিবারিক সমস্যা আইন-আদালতে না গিয়ে পারিবারিক ও সামাজিকভাবে নিষ্পত্তি করুন। এটাই উত্তম পন্থা বলে মনে করেন সামাজিক ব্যক্তিবর্গরা।

