মোহাম্মদ রফিক নামের এক ব্যাক্তি গভীর জঙ্গল থেকে বেরিয়ে আসছেন কাঁধে ঝাড়ু ফুলের আঁটি নিয়ে। দৃশ্যটি দেখা যায়,চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির হাজারিখিল অভায়ারণ্যে। কথা হলে তিনি জানান,প্রতি মৌসুমে জঙ্গলের ভিতর গিয়ে এ ফুলগুলো সংগ্রহ করে বাজারে বিক্রি করি। বিক্রি করে ১থেকে দেড় হাজার টাকা পাই। তা দিয়ে সংসার চলে। তিনি বলেন,প্রতিদিন যাওয়া হয়না। যেদিন যায়,সকাল সকাল রওনা দি। জঙ্গলের কয়েক কিলোমিটার ভিতরে চলে যায় সেখান থেকে সংগ্রহ করে নিয়ে আসি।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন,বনের ভিতরে হরিন,মেছোবাঘ,বানর,ভাল্লুক,সাপসহ বিভিন্ন জন্তুজানোয়ার চোখে পরে। অন্য জন্তুজানোয়ার মানুষ দেখলে সরে গেলেও ভাল্লুক সরেনা আক্রমন করতে চাই। ঝুঁকি নিয়ে জঙ্গলের ভিতর যায় কেন জানতে চাইলে তিনি জানান পেটের দায়ে। না গেলে পেটে খাবার আসবে কোথায় থেকে। সংসার চলবে কেমনে? এদিকে উপজেলার হাটবাজারে ঝাড়ু ফুল বা উলু ফুল বিক্রির ধুম পড়েছে। মৌসুমী ফুল হিসেবে শীতকালে হাটবাজারে এ ফুল আসে।
সরেজমিন উপজেলার হাটবাজারে গিয়ে দেখা যায়, বাজারে প্রচুর ঝাড়ু ফুল আসছে এবং ভালো বিক্রিও হচ্ছে। আট দশটি শালকা আঁটি করে বেঁধে বিশ ত্রিশ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করছে। বিক্রেতারা উপজেলার বিভিন্ন পাহাড়ি অঞ্চল ও পার্বত্য চট্টগ্রামের খাগড়াছড়ির থেকে সংগ্রহ করে বাজারে বিক্রি করছেন। ঘর বাড়ি-দোকানপাট থেকে শুরু করে সর্বত্র পরিস্কারের কাজে ঝাড়ু ফুল ঝাড়ু হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এখন ঝাড়ু ফুলের মৌসুম। কাঁচা ঝাড়ু ফুল সংগ্রহ করে শুকিয়ে সারা বছরের জন্য রেখে দেন ব্যবহারকারীরা।
জানা যায়, এক সময় ফটিকছড়ির বিভিন্ন স্থানে প্রচুর পরিমাণ এ ঝাড়ু ফুল জন্মাত। সভ্যতার ক্রম বিকাশে অপরিকল্পিতভাবে বন জঙ্গল উজাড় করার ফলে পাহাড়ি এ ফুল এখন আর তেমন পরিলক্ষিত হয় না। এখন কিছুটা দেখা মেলে হাটবাজারগুলোতে বিক্রেতারা বিভিন্ন অঞ্চল থেকে সংগ্রহ করে বাজারে বিক্রি করতে। এ ছাড়া মেঠাস্টিকের তৈরি কৃত্রিম ঝাড়ুর প্রভাবে বর্তমান ঝাড়ু ফুলের ব্যবহারও দিন দিন কমছে বলে ব্যবসায়ীরা জানান। যার ফলে বাণিজ্যিকভাবে চাষের আগ্রহী হচ্ছেন না চাষিরা। তবে সচেতন মহল মনে করেন বাণিজ্যিকভিত্তিক উৎপাদন হলে এ ঝাড়ু ফুলের দেশ বিদেশে বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে।

