তিন সন্তানের জননী, শিক্ষিত ও স্বাধীনচেতা নারী, গত ৭ এপ্রিল চল্লিশ পূর্ণ করা হেলেনার রহস্যজনক মৃত্যুর ১৮ দিন পেড়িয়ে যাওয়া দিনেও আসেনি ময়নাতদন্তের রিপোর্ট!শুধু তাই নয়,হেলেনার রহস্যময় মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধানে নেমে এই প্রতিবেদকের নিকট মৃত্যু পরবর্তী সময়ে ঘটমান যাকিছু তাঁর সবকিছুতেই পরিকল্পনার স্পষ্ট ছাপ পরিলক্ষিত হচ্ছে।আইনী বাধ্যবাধকতায় তদন্তনাধীন বিষয়ে লিখতে গিয়ে অনুশাসনের কথা মাথায় রেখেই লিখতে হয় তাই আপাততঃ যেটুকু তথ্য তদন্তে কর্মকর্তাদের জন্য সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে সেটুকুই উল্লেখ করে থাকেন পেশাদার সাংবাদিকগণ।
হেলেনার মৃত্যুর পরে যে মামলাটি দায়ের করা হয় সেটিতে বাদী হয়েছে হেলেনার মেজো সন্তান ও একমাত্র পুত্র। এজাহারে আত্মহত্যাকে হাইলাইট করে নেপথ্যের প্ররোচনা দেওয়া দুইজনকে আসামী করা হয়েছে।বিশেষজ্ঞ আইনজীবীদের মতে,এজাহারেই মামলার গতিপথ ঠিক করে দেওয়া হয়েছে।অথচ বাদী কেবল এটুকুই জানে, মায়ের মৃত্যুশোকে পরিবারের সবাই যখন অস্বাভাবিক অবস্থায় ছিলো তখন কেউ একজন একটি কাগজে তাঁর স্বাক্ষর নিয়েছে। সে জানেনা কাগজে কি লেখা। তাঁকে বলা হয়েছিলো, তাঁর মায়ের হত্যার বিচারের জন্য একটা সই দিতে।
আর এটাও করা হয়েছিলো পরিবারের অন্যদের আড়ালে।গায়েবী নম্বর থেকে বিভিন্নজন হুমকি,মিমাংসা জাতীয় কথা বলতে শুরু করলে নিরাপত্তা হীনতায় হেলেনার তিন সন্তানকে নিয়ে স্বামী আত্মগোপনে এখন। এই প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা হয় বড় মেয়ে ফাতিমা ও ছেলে র সঙ্গে। অনার্স পড়ুয়া বেশ মেধাবী ও স্মার্টদর্শন ফাতিমা বলেন,আমাদের কাছে বন্ধু হয়ে এসে, আমাদের অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়েছে, সাঁজানো মামলা করেছে, সেখানে আম্মুকে রাজুর স্ত্রী উল্লেখ করা হয়েছে, অথচ কি বোকা আমরা কিছু বুঝতেই পারলাম না। ফাতিমা আর্তনাদ করে বলে, কেবলমাত্র সাংবাদিক সমাজ ছাড়া বাকি সকলের উপর থেকে আস্থা ও বিশ্বাসটা উঠে গেছে। বেশ কয়েকবার সে কান্না জড়িত কন্ঠে বলে, আপনার মাধ্যমে আমরা তিন ভাই বোন সাংবাদিক সমাজকে আম্মুর মৃত্যুর সঠিক রহস্য উদঘাটনে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হাতজোড় অনুরোধ করছি।আম্মু তো আর ফিরে আসবেনা।আমি যতোই অবিশ্বাস করি,আপনাদের অনুসন্ধান যদি বলে, আমাদের আম্মু আত্মহত্যা করেছে, মেনে নেবো। আমাদের একটিই চাওয়া এখন, তাহলো সত্য প্রকাশ হোক।পুলিশ বিশ হাজার টাকা মিসিংয়ের বিষয়টি কেনো সামনে আনছেনা,কেবল জার্নালিষ্টরাই সেই প্রশ্নের উত্তর বের করে আনতে পারে। আপনারা আমাদের একটু দয়া করুন প্লীজ।
ইংলিশে অনার্স পড়ুয়া মেয়ে বাস্তববাদীও বটে। তারপরেও প্লীজ শব্দটির পর কান্না আর থামাতেই পারছিলোনা।কেননা সবকিছুর পরে সে মাতৃহারা একটি মেয়ে ফাতিমা।
ফাতিমাকে কথা দিয়েছিলাম নিজের সাধ্যমতো সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো আমার স্বজাতি তথা সাংবাদিক সমাজের নিকট ওঁদের করুণ মিনতি পৌঁছে দিতে। জানিনা কতোটা পেরেছি, তবে ফাতিমাদের সবচেয়ে বিশ্বাসের জায়গায় এখন সাংবাদিক সমাজ, এটা বেশ বুঝতে পেরেছি।

