তিন সন্তানের জননী হেলেনা(৪০)রহস্যজনক মৃত্যু বরণ করেছেন ১৭ দিন পার হচ্ছে আজ ২৩ এপ্রিল।কিন্তু এতোদিনে রহস্য উদঘাটন তো বহুদূর এমনকি ময়নাতদন্ত রিপোর্টও আসেনি বলে জানালেন হেলেনার স্বামী, বড় মেয়ে ও মা।অনার্স পড়ুয়া বড় মেয়ে ফাতিমা বলেন,আমরা প্রতিদিনই থানায় পোষ্ট মর্টেম রিপোর্টের জন্য তাগিদ দিলেও থানা থেকে একই কথা বলে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। বলে,রিপোর্ট আসলে আমরাই জানিয়ে দিবো।তাঁদের এবং আশেপাশের মানুষের ভাষ্য মতে, পরিকল্পিত হত্যাকান্ডকে আত্মহত্যা প্রমান করতে পুলিশ, প্রভাবশালী মহল,সাংবাদিক পরিচয় দেয়া এক নারী মোটা অংকের টাকা দিয়ে হেলেনার মৃত্যু
আত্মহত্যা প্রমানে সকল আয়োজন সম্পন্ন করে এনেছিলেন প্রায়।পাঠকের নিকট ঘটনার বিস্তারিত প্রকাশ করলে বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে উঠবে সকলের নিকট। নিহত হেলেনা নারায়ণগঞ্জের বন্দর থানাধীন নবীগঞ্জ খেয়াঘাট সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা। স্বামী
ও তিন সন্তান নিয়ে এই এলাকাতেই বসবাস। অন্য দশজন নারীর মতো কেবলই গৃহিণী ছিলেননা তিনি। বিগত দুই দশক ধরেই নিয়মিত রাজনৈতিক সভা-সমাবেশ ও দলীয় কর্মকান্ডে সক্রিয় ভূমিকা রেখে আসছিলেন।পদ পদবীর প্রতি মোহ ছিলোনা
সারাজীবন বঙ্গবন্ধুর কর্মী হিসেবেই থাকতে চেয়েছিলেন। বছর খানেক ধরে স্বামীর সাথে রাগ করে হেলেনা ঐ মহল্লায় একটি বাসা ভাড়া নিয়ে বাস করে আসছিলো।সন্তানেরা পালা করে মাকে সঙ্গ দিতো।স্বামীর কাছ থেকে দূরে থাকার সময় রাজনৈতিক সহকর্মী রাজু বিভিন্ন ভাবে হেলেনাকে সাপোর্ট দিয়ে নিজেকে হেলেনার আসল বন্ধু হিসেবে জাহির করতে চেষ্টা করে।সম্প্রতি রাখঢাক না রেখে রাজু হেলেনাকে বিয়ের প্রস্তাব দেয়।গত ৪ এপ্রিল হেলেনা তাঁর ফেসবুক আইডিতে একটি পোস্টে জানায়,রাজু যা চায় তা কোনদিনই সম্ভব নয়। এটা সে বুঝতেই চায়না।জীবনটাকে রাজু বিষিয়ে দিচ্ছে। ও আমাকে বাঁচতে দিবেনা।পরদিনই তা আবার রিমুভ করে দেওয়া হয়।পরদিন তথা ৫ এপ্রিল রাজু তাঁর আইডিতে পোস্ট দিয়ে বলে,হেলেনা ও তাঁর মাঝে কোন ঝামেলা নেই, তাঁরা খুবই সুখে দাম্পত্য জীবন কাটাচ্ছেন।পোস্টের সাথে সে হেলেনার ও তাঁর ছবি জুড়ে দেয়।যা বিভিন্ন সভা-সমাবেশে তোলা ছিলো।
তারপর আসে সেই ৬ এপ্রিল।বেলা আড়াইটার সময় হেলেনা শহরে যাওয়া বড় মেয়ে ফাতিমার সাথে স্বাভাবিক কথা বলে মোবাইলে।কথা শেষ করে হেলেনা ঘরের দরজা ভিড়িয়ে ঘরে শুয়ে পড়ে।দুপুরের ঐ সময়টাতে ভাতঘুমে ব্যস্ত আশেপাশের মানুষেরা।সাড়ে তিনটা থেকে পৌনে চারটায় রাজু চিৎকার করে জানায় হেলেনা ফাঁসি দিয়েছে। পড়শি সত্তরোর্ধ সালেম মিয়া বলেন,ফ্যানের সাথে ঝুলছিলো হেলেনা কিন্তু ওঁর দুই পা খাটের সাথে লেগেছিল। কোন মানুষের পক্ষে এভাবে ফাঁসি দেয়া অসম্ভব বলে সকলেই দাবী করেন।নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে চলা সোনিয়া নামের এক ত্রিশ বছর বয়সী নারী বিকেলে পুলিশ নিয়ে এসে হেলেনার লাশ নামায়।
শুরু থেকে তদন্ত ছাড়াই পুলিশ এটা আত্মহত্যা বলে প্রচার শুরু করে।কোরাস ধরে সেই সোনিয়া।হেলেনার মা,স্বামী, সন্তানেরা যতোই বলে,এটা আত্মহত্যা নয়,ততোই পুলিশ তাঁদের সাথে অমানবিক আচরণ করে। শুরুতেই অপমৃত্যু মামলা দায়ের করে পুলিশ।হেলেনার পরিবারের চাপে আইওয়াশ মূলক পুলিশ রাজুকে আটক করে রাজকীয় হালে একদিন একরাত রেখে কোর্টে চালান করে দেয়। তারপর থেকে সমাজের বিশেষ মহল,সোনিয়া ও বেনামি নম্বর থেকে মোবাইলে হেলেনার সন্তানদের বোঝানোর চেষ্টা করা হয়, তাঁদের মা তো আর ফিরে আসবেনা।আর রাজুর হাত বহু লম্বা।তারচেয়ে আপোষ করে লাখ পাঁচেক টাকা নিয়ে দিলে ভালো হয়না? তাঁরা তা ঘৃনাভরে প্রত্যাখান করে অপেক্ষা করে পোষ্টমর্টেম রিপোর্টের জন্য।
এই প্রতিবেদক বহুবারের চেষ্টায় তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মিজানের সঙ্গে কথা বলতে সমর্থ হন গত রাত আটটার সময়।পোষ্টমর্টেম রিপোর্ট আসতে কি ১৬ দিন সময় লাগে?উত্তরে মিজান বলেন, ওটাতো আমাদের হাতে নয়।হাসপাতাল থেকে না দিলে আমরা কি করতে পারি?কথিত সাংবাদিক সোনিয়ার সাথেও কথা হয়।কোন প্রশ্নেরই স্বাভাবিক উত্তর দিতে পারছিলোনা সে।
এক পর্যায়ে ফোন কেটে দেয় সে।

