দেশের সিটি কর্পোরেশনগুলোকে স্বাবলম্বী হওয়ার প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার আলোকে মেয়র মো. রেজাউল করিম চৌধুরী চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের আয় বৃদ্ধি নিয়েও ভাবছেন। গত মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় এ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশানার প্রক্ষিতে মেয়র আজ বৃহস্পতিবার তাঁর টাইগারপাসস্থ দপ্তরে বিভাগীয় প্রধানদের নিয়ে সভায় মিলিত হন।
সভায় মেয়র মো. রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, শুধুমাত্র সরকারি অনুদান ও থোক বরাদ্দের ওপর কর্পোরেশনের নাগরিক সেবাকার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব নয়। কর্পোরেশনকে আত্মনির্ভরশীল ও স্বয়ংসম্পূর্ণ করতে হলে সরকারের দিকে চেয়ে না থেকে করের আওতা ও আয়বর্ধক প্রকল্প গ্রহণ ছাড়া বিকল্প কোন পথ নাই। তিনি ভূ-সম্পত্তি শাখাকে কর্পোরেশনের সমস্ত সম্পত্তির হিসাব অবিলম্বে প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তার মাধ্যমে তাঁর নিকট উপস্থাপন করতে বলেন। মেয়র বলেন, মোট সম্পত্তির বিবরণ হতে পেলে বুঝবো কোথায় কি পরিমাণ সম্পত্তি অব্যবহৃত অবস্থায় আছে এবং কোথায় কোন আয়বর্ধক প্রকল্প নেয়া যায়।
হোল্ডিং ট্যাক্স ও ট্রেড লাইসেন্স-এর হালনাগাদ আদায় কার্যক্রম তরান্বিত করার পাশাপাশি সরকারি গেজেট নোটিফিকেশন অনুযায়ী কর্পোরেশন আরো কি কি কর, উপকর, রেইট, টোল এবং ফিস আদায় করতে পারে তা নিয়েও আলোচনা হয়। আলোচনায় সরকারি বাজেট অনুযায়ী কর্পোরেশন ২৬ টি খাতে কর উপকর, রেইট, টোল এবং ফি আদায় করতে পারবে।
সভায় কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শহীদুল আলম, সচিব খালেদ মাহমুদ, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম, প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তা লুৎফুন নাহার, আইন কর্মকর্তা মো.জসিম উদ্দীন, প্রধান প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম, মেয়রের একান্ত সচিব মো.আবুল হাশেম, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ডা. মো. আলী ও তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আকবর আলী, ঝুলন কুমার দাশ উপস্থিত ছিলেন।
সভায় মেয়র আরো বলেন, উল্লিখিত সরকারি গেজেট অনুয়ায়ী আরোপনীয় ২৬ খাতে কর, উপ-কর, রেইট ফিস, এ মধ্যে কিছু খাত থেকে কর্পোরেশন আয় করলেও আরো অনেক খাত রয়েছে যা করের আওতার বাহিরে। তিনি নগরীর অবকাঠামোগত উন্নয়নকে টেকসই করে সড়কের চলাচলরত কন্টইনারবাহী কাভার্ডভ্যান, লরি থেকে ফিস আদায়ে বন্দর কর্তৃপক্ষের সাথে আলাপ করে কি ব্যবস্থা নেয়া যায় সেই বিষয়ে কর্পোরেশনের কর্মকর্তাদের আইনগত দিক বিবেচনা করে ভেবে দেখতে বলেন। মেয়র বলেন, আয়বর্ধক প্রকল্প নিজম্ব আয় বৃদ্ধি না করলে কর্পোরেশনের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতন ভাতা পরিশোধ করে নাগরিক সেবা কার্যক্রম পরিচালনা করা কষ্টকর হয়ে পড়বে।

