পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা:) উপলক্ষে সন্দ্বীপ উপজেলা প্রশাসন এর উদ্যোগে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন সম্পন্ন হয়েছে ধর্মীয় ভাব গাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে।
১৬ সেপ্টেম্বর সকালে উপজেলা পরিষদ সভা কক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে সভাপতিত্ব করেন সহকারী কমিশনার ভূমি তাসফিক সিগবাত উল্লাহ। অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আতিক উল্যাহ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক সন্দ্বীপ শাখার ব্যাবস্থাপক মুঃ আক্তারুজ্জামান সুজন, উপজেলা শিক্ষা অফিসার খোরশেদ আলম, উপজেলা প্রকৌশলী আবদুল আলিম, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী রবিন সরকার,পৌর প্রকৌশলী মোর্শেদ আলম ও রবিউল ইসলাম প্রমূখ।
বক্তারা বলেন হজরত মুহাম্মদ (সা.)–এর প্রতিটি কথা ও কর্মই মানবজাতির জন্য অনুকরণীয় ও অনুসরণীয়। বিশ্বমানবতার জন্য অনিন্দ্যসুন্দর অনুসরণীয় শিক্ষা ও আদর্শ রেখে গেছেন মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)। সব ধরনের কুসংস্কার, অন্যায়, অবিচার, পাপাচার ও দাসত্বের শৃঙ্খল ভেঙে মানবসত্তার চিরমুক্তি, শান্তি, প্রগতি ও সামগ্রিক কল্যাণের বার্তা নিয়ে এসেছিলেন মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)। বিশ্ববাসীকে তিনি মুক্তি ও শান্তির পথে আসার আহ্বান জানিয়ে অন্ধকার যুগের অবসান ঘটিয়েছিলেন এবং সত্যের আলো জ্বালিয়েছেন। উল্লেখ্য যে আজ ১২ রবিউল আউয়াল। বিশ্বনবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জন্ম দিবস। সারা বিশ্বের মুসলমানরা এই দিনটিকে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) হিসেবে পালন করেন।হজরত মুহাম্মদ (সা.) পৃথিবীতে এসেছিলেন তাওহিদের মহান বাণী নিয়ে। প্রচার করেছেন শান্তির ধর্ম ইসলাম। তাঁর আবির্ভাব এবং ইসলামের শান্তির বাণীর প্রচার সারা বিশ্বে আলোড়ন সৃষ্টি করে।সৌদি আরবের মক্কা নগরের বিখ্যাত কুরাইশ বংশে ৫৭০ খ্রিষ্টাব্দের এই দিনে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) জন্মগ্রহণ করেন। ৬৩২ খ্রিষ্টাব্দের একই দিনে তিনি ইহলোক ত্যাগ করেন।মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর বাবা আবদুল্লাহ ও মা আমিনা। জন্মের আগেই রাসুল (সা.) তাঁর বাবাকে হারান এবং ছয় বছর বয়সে তিনি মাতৃহারা হন।
সমগ্র আরব জাহান যখন পৌত্তলিকতা ও অনাচারের অন্ধকারে নিমজ্জিত ছিল, সেই আইয়ামে জাহেলিয়ার যুগে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে সারা বিশ্বজগতের জন্য রহমতস্বরূপ পাঠিয়েছিলেন সর্বশক্তিমান মহান আল্লাহ।বিনয়, সহিষ্ণুতা, দয়া, সহমর্মিতা সহ সব মানবিক সদ্গুণের সর্বোচ্চ বিকাশ ঘটেছিল হজরত মুহাম্মদ (সা.) এর মধ্যে। শ্রেষ্ঠ মানবিক গুণাবলির অধিকারী হিসেবে তিনি ধর্ম-বর্ণ-সম্প্রদায় নির্বিশেষে সর্বকালে সর্বজনস্বীকৃত। ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত, বেশি বেশি দরুদ পাঠ, দান-খয়রাতসহ নফল ইবাদতের মধ্য দিয়ে দিনটি অতিবাহিত করবেন। অনেকে এই দিনে নফল রোজা রাখেন।

