ইতিমধ্যে সারাদেশ তাঁকে জেনে গেছে।তাঁকে নারায়ণগঞ্জের শীর্ষ সন্ত্রাসী শ্যুটার রিয়াজ নামেই চিনে গেছেন দেশের মানুষ আমাদের গর্বিত এলিট ফোর্স র্যাব এর মাধ্যমে।
গত বৃহস্পতিবার (৭ এপ্রিল )কারওয়ান বাজারের মিডিয়া সেন্টারে এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে র্যাব অস্ত্র ও মাদক সহ রিয়াজ বাহিনীর লিডার রিয়াজ ও সেকেন্ড ইন কমান্ড জাহিদুল ইসলাম ওরফে কালা ভাগিনা এবং বাহিনীর আরও তিন সদস্য সহ মোট পাঁচজনকে গ্রেফতারের কথা জানায়।যা দেশের সকল মিডিয়ায় ফলাও করে প্রচার করে।সাম্প্রতিক কালে বড় মাপের কোন সন্ত্রাসী মিডিয়ার শিরোনাম হয়নি।সন্ত্রাসের ধরণে বদল এসেছে।এখন তথ্য সন্ত্রাস,প্রযুক্তি সন্ত্রাস,আতংক সৃষ্টির দ্বারা উদ্দেশ্য হাসিল সহ বিভিন্ন রুপ ধারণ করেছে সন্ত্রাস।অস্ত্র নির্ভর বা বাহিনীর মাধ্যমে বড়সড় এলাকা নিয়ন্ত্রণের সংস্কৃতি থেকে বেড়িয়ে এলেও সন্ত্রাস আছে বহাল তবিয়তেই।র্যাব এর সংবাদ সম্মেলনের পর রিয়াজ বাহিনী সম্পর্কে জানতে সরেজমিনে দুই দিন রুপগন্জ ও সোনারগাঁও যান এই প্রতিবেদক।স্থানীয় মানুষ, ভুক্তভোগী, আইনশৃংখলা রক্ষাবাহিনি ও এলিট ফোর্স র্যাব এর তথ্যের উপর ভিত্তি করে তৈরী করা “রিয়াজনামা” পাঠকদের জন্য তুলে ধরছি।
ব্রোকেন পরিবারের সন্তান আলোচ্য রিয়াজ অভিভাবক শূন্যতায় কৈশোরেই বখে যাওয়া গ্রুপের সাথে মিশে ‘কিশোর গ্যাং’ তৈরী করে ছোট খাটো অপরাধের পাশাপাশি মাদক গ্রহণে অভ্যস্থ হয়ে ওঠে।রুপগন্জের এক মাদকের ডিলার তখন রিয়াজের পৃষ্ঠপোষক হিসেবে থাকলেও পরবর্তী সময়ে নিজের সাহস ও অস্ত্র চালনায় পারদর্শীতার মাধ্যমে গ্রুপ লিডার বনে গিয়ে কয়েকজন রাজনৈতিক নেতার স্নেহধন্য হয়ে যায়।শুরুতে তাঁর গ্রুপ আট দশজনে সীমাবদ্ধ থাকলেও সময়ের সাথে সাথে সেই সংখ্যা বেড়ে গিয়ে বর্তমানে কমপক্ষে শতাধিক সদস্যের বাহিনীতে পরিণত হয়েছে।একই সাথে রুপগন্জ ও সোনারগাঁওয়ের বিশাল এলাকার অপরাধ কর্মকান্ডের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ বাহিনীর সদস্যদের মাধ্যমে নিজের মুঠোয় নিয়ে নেয় রিয়াজ।স্থানীয় মানুষের ভাষ্যমতে হেন অপরাধ নেই যা করতোনা রিয়াজ বাহিনী। মাদক,চাঁদাবাজি,অপহরণ,ইভটিজিং, কথায় কথায় গুলি করে দেওয়া এমনকি কমপক্ষে তিনটি হত্যাকান্ডে সরাসরি সম্পৃক্ততা আছে রিয়াজ ও তাঁর অনুগতদের। রুপগন্জ ও সোনারগাঁও থানার কয়েকজন অসৎ পুলিশকে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে পোষ মানিয়ে অবাধে সে চালিয়ে এসেছে এতোদিন সন্ত্রাসী কর্মকান্ড।

রুপগঞ্জের বরপা এলাকার কান্চন(৩৮) নামের এক ব্যবসায়ী এই প্রতিবেদককে বলেন এতটুকু একটা ছেলে অথচ লক্ষাধিক মানুষের মূর্তিমান আতংক হয়ে উঠেছিলো বর্বরতার দ্বারা।তিনি নিজেও দুই লাখ টাকা চাঁদা দিতে বাধ্য হয়েছেন তাঁকে দশমাস আগে।থানায় অভিযোগ করতে যাবার পথেই রিয়াজ ফোন করে বলে,রুপগন্জে সেই পুলিশ নাই যে আমার বিরুদ্ধে কেইস ফাইল করব,যদি কাউকে কিছু কস,তর মাইয়ার দিকে সবসময় পিস্তল তাক করা থাকে।একমাত্র সন্তানের জন্য এ বিষয়ে কাউকে কিছু বলিনি।কথা হয় সোনারগাঁওয়ের শ্যামবাজার এলাকার ডিপার্টমেন্টাল ষ্টোরের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মালিকের সাথে। তিনি বলেন, রিয়াজ বাহিনী যতো অপরাধ করেছে, যদি ভুক্তভোগীরা আইনের আশ্রয় নিতো তাহলে ওঁর নামে মামলার সংখ্যা হতো কমপক্ষে পাঁচশ-এর বেশি।রুপগন্জের হাটাবো বাড়ৈপাড়ার ব্যবসায়ী মানিক নিজের হাতে গুলির ক্ষত দেখিয়ে বলেন,এমন দিনের আশায় এই ক্ষত নিয়ে দুই বছর ধরে অপেক্ষা করছি। তিনি বলেন, রিয়াজ ও তাঁর বাহিনী সবসময় দম্ভ করে বলতো,প্রশাসন তাঁদের হাতের পুতুল। কিন্তু RAB ওঁকে এরেস্ট করে এই দুই উপজেলার অগণিত মানুষের দোয়া পেয়েছে। আমি তাঁদের প্রতি আপনার মাধ্যমে স্যালুট জানাচ্ছি। রুপগন্জে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এএফএ সায়েদ রিয়াজকে পুলিশের শেল্টার দেয়ার অভিযোগ খন্ডন করে বলেন,পুলিশ বাহিনীর রুটিন ওয়ার্কের অংশ হিসেবে আগের কোন সদস্য এখন থানায় নেই।এখন যাঁরা আছেন তাঁদের কেউ রিয়াজ বা তাঁর অনুগতদের সাথে সম্পৃক্ত নেই।প্রতিদিনই পুলিশ তাঁর বাহিনীর সদস্যদের গ্রেফতারে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানান তিনি। উল্লেখ্য,দীর্ঘদিন গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে দুই উপজেলার অপরাধ জগতের মূল হোতা হিসেবে চিন্হিত করে গত ৬ এপ্রিল মধ্যরাতে অভিযান চালিয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলার শীর্ষ সন্ত্রাসী রিয়াজ ওরফে শ্যুটার রিয়াজকে চার সহযোগী সহ গ্রেফতার করে RAB।এসময় তাঁদের সাথে তিনটি বিদেশি পিস্তল, তিনটি ম্যাগাজিন,১২ রাউন্ড গুলি,৬ টি দেশীয় অস্ত্র, একটি মোটরসাইকেল ও ৬০০ পিস ইয়াবা পাওয়া যায়। পরদিন সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এই তথ্য মিডিয়াকে জানান বাহিনীর আইন ও গণমাধ্যম শাখার কর্মকর্তা খালিদ আল মঈন। তিনি আরও জানান, বাইশ বছর বয়সী এই সন্ত্রাসীর নামে দুই থানায় ২ টি হত্যা,৬ টি হত্যা প্রচেষ্টা,অপহরণ, মাদকের মোট ১৫ টি মামলা এবং অসংখ্য জিডি ও অভিযোগ রয়েছে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের দ্বারা সেই সংবাদ প্রচার হলে দুই উপজেলার সকল শ্রেণি পেশার মানুষের মাঝে স্বস্তি নেমে আসে।এজন্য সকলেই RAB কে ধন্যবাদ জানান।

