চট্টগ্রামের কালুরঘাটে রিজেন্ট টেক্সটাইলে শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষে পুলিশসহ অন্ততঃ অর্ধশতাধিক শ্রমিক আহত হয়েছেন। আজ সোমবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। শ্রমিকদের আন্দোলনে সকাল থেকে কালুরঘাট সেতুতে যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকায় ভোগান্তিতে পড়েছেন নানা শ্রেণি পেশার মানুষ।
এদিকে বিক্ষোভের কারণে সকাল থেকে যান চলাচল বন্ধ থাকায় অবর্ণনীয় দুর্ভোগে পড়েছে যাত্রীরা। রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কোনা সমঝোতা না হওয়াতে কালুরঘাট দিয়ে গাড়ি চলাচল বন্ধ রয়েছে।
শ্রমিক সাইফুদ্দিন জানান, বকেয়া বেতন পরিশোধের দাবিতে সকাল সাড়ে ৭টা থেকে মিলের মূল ফটকে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করতে থাকি।
এসময় কালুরঘাট ব্রিজে যান চলচলা বন্ধ করে দেয়া হয়। পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন একাধিকবার চেষ্টা করেও কোনো সুরাহা করতে পারেনি মালিকপক্ষের সাথে। সকাল ১১টার দিকে শিল্প পুলিশ কারখানা এলাকায় এসে সাড়ে ১১টার দিকে কয়েক নারী শ্রমিককে বিতাড়িত করতে চাইলে লেগে যায় সংঘর্ষ। এসময় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পুলিশের লাটিচার্জের জবাব দিতে শ্রমিকরা বালু, ইটের কণা, কাঠ দিয়ে প্রতিরোধ করতে থাকে। আধাঘণ্টা ধরে চলে এ সংঘর্ষ। এসময় ১৭ শ্রমিক ও ৭ পুলিশ আহত হয়।
আহত শ্রমিকদের মধ্যে লিজা আকতার (২০), রিজা আকতার (৩০), আবু সাঈদ রুবেল (২৭), মোহাম্মদ মামুনন (২২) এবং পুলিশের মধ্যে সজিব (২৭), গোলাম নবী (৫৪), মহিউদ্দিন (২৭), বৃষ্টি বড়ুয়া (২৩), হাসান মাহমুদ রুবেল (২৬), এসআই যতীন্দ্র ত্রিপুরা (৩৫) উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চিকিৎসা নিয়েছেন। এরপর শ্রমিকরা রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করে। এখনও পর্যন্ত যান চলাচল করতে দিচ্ছে না শ্রমিকরা।
এ ব্যাপারে টেক্সটাইলের জিএম এডমিন আহমেদ রফিক ইমতিয়াজ বলেন, ‘করোনার আর্থিক সংকটের কারণে শ্রমিকদের বেতন দিতে পারি নাই। দ্রুত বেতন দিয়ে দেয়া হবে।’
বোয়ালখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবদুল করিম বলেন, পুলিশ পরিস্থিতি নিন্ত্রয়ণে আনার চেষ্টা চলছে। যান বাহন চলাচল সআভাবিক করতে শ্রমিকদের সড়ক থেকে সরিয়ে দিতে চাইলে শ্রমিকরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট পাটকেল ও চোখে বালু নিক্ষেপ করে। এতে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ বেশ কয়েকজন পুলিশ আহত হয়।

