সন্দ্বীপ টু চট্টগ্রাম যাতায়াতে চরম অব্যবস্থাপনা দূর না করার কারণে বার বার মৃত্যুর মিছিলে সামিল হচ্ছে চার লক্ষ সন্দ্বীপ বাসী। যার মূল কারণ বি আই ডব্লিউ টি এ জেলা পরিষদের সমন্বয়হীনতার অভাব অথবা একে অপরকে সুক্ষ বা স্থুল কারচুপির মাধ্যমে সুবিধা প্রদান করছে বলে ধারণা সাধারণ যাত্রীসহ সুশীল সমাজেরও। ফলে গুপ্তছড়া টু -কুমিরা ঘাটে জনগণ চরম শোষন,বঞ্চনা ও ভোগান্তিতে পরছেন। যার কারণে দিন দিন বাড়ছে মৃত্যু ঝুঁকি,বাড়ছে টিকেটের দাম,এবং ঘাটের নানান অব্যবস্থাপনা নীরবে মেনে নিতে হচ্ছে ঘাটের সকল যাত্রীদের। অথচ চট্টগ্রাম টু মিরেশ্বরাই ঘোষিত নৌ-বন্দরের দক্ষিন কাট্টলি এলাকার মহেশখাল এর উপর অনুমোদন ও ইজারা প্রদানকৃত রাসমনি ঘাটকে সক্রিয় করলে অনেক সমস্যা মিটে যেতো অনায়াসে। তাই উক্ত রাসমনি ঘাট টু গুপ্তছড়া রুটে স্টিমার বা কেবিন বোট অথবা আধুনিক কোন নৌ-যান চলাচল ব্যবস্থা নিশ্চিত করলে যাতায়াতে শান্তি, নিরাপত্তা সহ সরাসরি চট্টগ্রামে গিয়ে পৌঁছতে পারতো চার লক্ষ জনগণ ।দরকার কেবলমাত্র খালটি ড্রেজিং করা সহ বাকি অবকাঠামো নিশ্চিত করা, এছাড়াও খাল সংলগ্ন একটি চলাচলের রাস্তা নিশ্চিত করা।এ বিষয়ে ইজারাদার নাজিম উদ্দিন জানান কর্তৃপক্ষ গত বছর ঘাট সংলগ্ন খালটির ড্রেজিং কার্যক্রম শুরু করবেন বলে প্রতিশ্রিতি দিয়েছেন। কিন্তু খাল সংস্কার বা ড্রেইজিং করার টেন্ডার কার্যক্রম সম্পন্ন করার পর কাঠ ও লোহা দিয়ে একটি দৃশ্যমান জেটি নির্মান করলেও ড্রেজিং কার্যক্রম শুরুও হয়নি বিগত ৯ মাসেও । তাই ইজারাদার সেটি নিশ্চিত করার জন্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান বরাবরে পরপর ৩ টি চিঠি প্রেরন করেছেন, তার বিপরীতে উপ-পরিচালক সেটির নিশ্চিত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য নির্দেশনা দিয়ে প্রধান প্রকৌশলী ড্রেজিং বিভাগ বি আই ডব্লিউ টি এ ঢাকা বরাবরে চিঠি প্রেরণ করলেও এখনো সেটি বাস্তবায়ন হচ্ছেনা কোন অদৃশ্য বা অজানা কারণে ।অন্যদিকে ২০১৬ সালে এক ডিও লেটারে নৌ-মন্ত্রালয় সচিব কর্তৃক গুপ্তছড়া ল্যান্ডিং স্টেশন ব্যবহারের অনুমতি চেয়েও একটি চিঠি প্রেরনের পর সেটা ব্যবহারের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে মন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন বি আই ডাব্লি টি এ কে ।তাই গুপ্তছড়া ল্যান্ডিং স্টেশন ব্যবহারের কোন জটিলতা নেই।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় উক্ত ঘাটের পাশে দিয়ে বন্দর সড়ক সহ দুটি হাইওয়ে রাস্তা রয়েছে।ঘাটের পাশ থেকে জহুর আহম্মেদ স্টেডিয়াম পর্যন্ত ফ্লাইওভার নির্মান কাজ প্রায় ৮০% শেষ। সেটির কাজ শেষ হলে মাত্র ১০ মিনিটে মানুষ অলংকার মোড়ে গিয়ে দ্রুত যে কোন জায়গায় যেতে পারবেন। ফলে খরচ একটু বাড়লেও সময়ে বাঁচবে দ্বিগুণ। অপর দিকে ঘাট সংলগ্ন একটি ন্যাচারাল পার্কে রয়েছে ইজারাদারের ভাড়া নেওয়া একটি বিশালাকার ঘর, সেটাকে যাত্রী ছাউনি হিসেবে ব্যবহার করার জন্য নিয়ে রেখেছেন, তবে আপাতত অন্য কাজে ব্যবহার হচ্ছে সেটি, সে ঘরে রয়েছে বাচ্চাদের দুধ খাওয়ানোর জন্য ব্রেস্ট ফিডিং কর্নার, রয়েছে টয়লেটের সু-ব্যবস্থা, মহিলা ও পুরুষের ভিন্ন ভিন্ন এবাদত খানা, বাচ্চাদের খেলনা সামগ্রী, রয়েছে শান বাঁধানো ঘাটলা সহ ছায়া সুনিবিড় প্রশান্তির ছোঁয়া, যেখানে বসে স্টিমার বা স্পীডবোর্ডের জন্য অনায়াসে অপেক্ষা করা যাবে ঘন্টার পর ঘন্টা, আসবেনা বিরক্তি,বরং আরো কিছু সময় ব্যয় করার ইচ্ছে পোষণ করবে সবাই। এছাড়াও রয়েছে বন বিভাগের বাগানের পাশ দিয়ে নদীর পাড় পর্যন্ত হেঁটে যাওয়ার ব্যবস্থা।সব মিলিয়ে যাত্রীদের যাতায়াতে মিলবে স্বস্থির নিঃশ্বাস। এখন প্রয়োজন শুধু কর্তৃপক্ষের সু-দৃষ্টি, তাহলে লাঘব হবে ৪ লক্ষ সন্দ্বীপিদের অনেক কষ্ট। তাই এর জন্য দরকার একটি আন্দোলন বা প্রশাসনিক ভাবে লিয়াঁজো বা কর্তৃপক্ষের সাথে মতবিনিময় করে সেটি নিশ্চিত করা । তাই জনগনের প্রত্যাশা পুরণে দ্রুত পদক্ষেপ নিবে কর্তৃপক্ষ এমন প্রত্যাশা সকল যাত্রী সাধারণের।

