২০১৪ সালের ২৩ জুলাই বান্দরবানের লামা উপজেলার সরই ইউনিয়নস্থ হাছনা পাড়ায় জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে দুই পক্ষের মারামারিতে মোহাম্মদ ইসলামদের হামলায় নিহত হন কালু মিয়া। এ ঘটনায় পরের দিন নিহতের ভাতিজা জাকের হোসেন বাদী হয়ে মোহাম্মদ ইসলামসহ ১১ জনকে অভিযুক্ত করে একটি হত্যা মামলা (জিআর ৭৪/১৪) করেন। এতে মামলার বিবাদীরা গ্রেফতারও হন। এর মধ্যে পুলিশি তদন্তে তিন জনকে বাদ দিয়ে ৮জনের বিরুদ্ধে চার্জসীট দেয়া হয়। পরবর্তীতে বিবাদীরা একে একে আদালত থেকে জামিনে বের হয়। ইসলামরা জামিনে বের হয়ে সম্প্রতি নিহত কালু মিয়ার চার ছেলে ও মামলার বাদী জাকের হোসেনকে উল্টো হত্যা করে লাশ গুম সহ বিভিন্ন ভাবে হুমকি দিচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন বেলাল হোসেনরা। তারা জানান, মোহাম্মদ ইসলামদের হুমকিতে নিহত কালু মিয়ার বিদেশ ফেরত ছেলে বেলাল হোসেনসহ পরিবারের অন্যরা বর্তমানে রাতের বেলায় নিজ ঘরে ঘুমাতে পারছেন না। হুমকির কারণ হিসেবে বাদী পক্ষ জানায়, মূলত হত্যা মামলা থেকে রেহাই পেতে একের পর এক হুমকি অব্যাহত রেখেছেন বিবাদী মোহাম্মদ ইসলামরা। তাছাড়া দীর্ঘ তিন পুরুষের ভোগদখলীয় জমিতে বিদেশ ফেরত বেলাল হোসেন একটি পাঁকা বাড়ি নির্মাণ শুরু করেন। স্থানটি মোহাম্মদ ইসলামদের জায়গার সীমানা থেকে প্রায় দেড়শ থেকে দুইশ হাত দূরে। বর্তমানে এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে কোন কথাকাটাকাটিও হয়নি। অথচ এটি মেনে নিতে পারছেন না প্রতিপক্ষ মোহাম্মদ ইসলামরা, তারা অযথা হয়রানির উদ্দেশ্যে গত ২ মার্চ গোপনে উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ফৌজদারী কার্যবিধি ১৪৫ ধারায় প্রতিকার চেয়ে একটি অভিযোগ করেন। এতে বিদেশ ফেরত বেলাল হোসেন, ভাই রেজাউল করিম, হেলাল উদ্দিন ও মাসুদ করিম, স্থানীয় মৃত বাচা মিয়ার ছেলে হাবিবুর রহমান সহ ভাজিতা জাকের হোসেনকে বিবাদী করা হয়। এসব বিবাদীদের মধ্যে হেলাল হোসেন বিদেশে রয়েছেন। প্রতিপক্ষ মোহাম্মদ ইসলাম কর্তৃক হুমকি ও মিথ্যা অভিযোগে দায়েরকৃত মামলা থেকে রক্ষা পেয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন বেলাল হোসেনরা।
সরেজমিন জানা যায়, কালু মিয়া ও তার ভাই হাবিবুর রহমানের নামে ডলুছড়ি মৌজার ১৩৩নং হোল্ডিং মূলে ৩ একর প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণীর জমি রয়েছে। কালু মিয়ারা বংশ পরস্পরায় এ জমি ১৯৫২ সাল থেকে ভোগ করে আসছেন। বর্তমানে জমির মূল্য বেড়ে যাওয়ায় আট বছর আগে হঠাৎ কালু মিয়াদের ভোগ দখলীয় জমির ভিতরে মোহাম্মদ ইসলামদের জমি রয়েছে বলে দাবী করে দখলের অপচেষ্টা শুরু করেন।
ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. নুরুল আলম, স্থানীয় আবদুর রহিম ও আবদুল করিম জানায়, বন্দোবস্তি পেয়ে গত তিন পুরুষ ধরে কালু মিয়ারা ওই জমিতে বসতঘর ও ফলদ বাগান সৃজন করে ভোগ করে আসছেন। কিন্তু ৭-৮ বছর ধরে মোহাম্মদ ইসলামরা জমি তাদের দাবী করে ঝামেলা শুরু করেন। বর্তমানে কালু মিয়ার ছেলেরা পুরাতন ঘর ভেঙ্গে নতুন করে পাকা দালান নির্মাণ করতে গেলে মোহাম্মদ ইসলাম অযথা নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে ফৌজদারী অভিযোগ করে বাঁধা প্রদান করছেন। আমাদের জানা মতে মূলত কালু মিয়াদের ভিতরে ইসলামদের কোন জায়গা নেই। শুধু তাই নয়, বাড়াবাড়ি করলে কালু মিয়ার মত তার ছেলে ও ভাতিজাদেরকেও হত্যা করে লাশ গুম করবে বলে হুমকি দিচ্ছেন মোহাম্মদ ইসলামরা।
হুমকির অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত মোহাম্মদ ইসলাম বলেন, বর্তমানে যে জায়গায় বেলাল হোসেনরা দালান নির্মাণ করছেন, সেটা আমাদের জায়গা। তাই বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে প্রতিকার চেয়ে ফৌজদারী অভিযোগ করেছি।
এ বিষয়ে লামা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভুমি) কার্যালয়ের সার্ভেয়ার তনক চাকমা বলেন, বাদী মোহাম্মদ ইসলামদের অভিযোগ সরেজিমন তদন্ত করেছি। দু এক দিনের মধ্যে বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।

