বিপন্ন মানবতায় বিবেকবান মাত্রেই কেঁদে উঠবে মন। পৃথিবীতে এখন সবচেয়ে যন্ত্রণাময় জীবন কাটাচ্ছে ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় বাস করা শিশুরা।ওঁদের জন্য পৃথিবীর সব জায়গার বিবেকবান মানুষের কষ্ট হয়,ওঁদের কষ্ট লাঘবের ইচ্ছা জাগে।কিন্তু এই পৃথিবীর কিছু দৃষ্টিকটু বৈষম্যের নিকট শান্তিকামী মানুষ আজ অসহায় হয়ে গেছে।তাই সাধ্যের মধ্যে যেটুকু সম্ভব সেটুকুই করে চলেছেন তাঁরা।যেমনটি করেছে বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্ট চাইল্ড রাইটস কমিটি।
আজ ১৬ জানুয়ারী মঙ্গলবার আপিল বিভাগের রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ সাইফুর রহমান চিঠি পাঠানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।কমিটির সভাপতি ও আপিল বিভাগের বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের স্বাক্ষরে এই চিঠি পাঠানো হয়। সাইফুর রহমান জানান,ফিলিস্তিনের গাজায় শিশুদের নিরাপত্তা প্রদানে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য গত ১৪ জানুয়ারি জাতিসংঘ মহাসচিবকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সুপ্রিম কোর্ট চাইল্ড রাইটস কমিটি চিঠি পাঠিয়েছে। তিনি আরো জানান,প্রধান বিচারপতির নির্দেশনা অনুযায়ী এ চিঠি পাঠানো হয়েছে।চিঠিতে বলা হয়েছে, ফিলিস্তিনের গাজার সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে জাতিসংঘের শিশু অধিকার কনভেনশনের (ইউএনসিআরসি) অনুচ্ছেদ ৩৮ (১) ও (৪) এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘনের ফলে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন সুপ্রিম কোর্ট চাইল্ড রাইটস কমিটি। শিশুদের জীবন ও সামগ্রিক কল্যাণের জন্য, শিশুদের বিরুদ্ধে সব ধরনের সহিংসতার অবসান, শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য কার্যকর কূটনৈতিক পদক্ষেপ গ্রহন,শিশুদের জন্য প্রয়োজনীয় মানবিক সহায়তা প্রদান এবং যথাযথ আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা প্রয়োগসহ দ্রুত ও উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আন্তরিকভাবে অনুরোধ করা হয়েছে চিঠিতে।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়,বিশ্বের সব শিশুর আনন্দ ও সমৃদ্ধি নিশ্চিতকরণে যেহেতু আমাদের সমষ্টিগত নৈতিক দায়বদ্ধতা রয়েছে,সেহেতু বিশ্বের শিশুদের প্রতিপালন ও উন্নতি বিধানকল্পে জাতিসংঘের সব উদ্যোগে সমর্থন ও অবদান রাখতে সুপ্রিম কোর্টের চাইল্ড রাইটস কমিটি বদ্ধপরিকর। সুপ্রিম কোর্ট চাইল্ড রাইটস কমিটির সদস্য বিচারপতিরা হলেন যথাক্রমে বিচারপতি নাইমা হায়দার, বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ, বিচারপতি নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরী।

