দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম ৮ আসনের নির্বাচনের মাঠ দিন দিন সরগরম হচ্ছে ইতিমধ্যে জাতীয় পার্টি মনোনীত সোলাইমান আলম শেঠ ও দুই স্বতন্ত্র প্রার্থী মাঠে সরব রয়েছে। ভোট দেয়ার ব্যাপারে ভোটারদের মধ্যে নেই কোন উৎসাহ উদ্দীপনা বিভিন্ন স্হানে লাগেনি পোস্টার ব্যানার ও আগেকার দিনে প্রার্থী ও নেতাকর্মীদের প্রচার-প্রচারণায় প্রতিটি এলাকায় উৎসবের আমেজ তৈরি হতো। কিন্তু এবার তার ব্যতিক্রম। আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছিলেন দলের নগর সাংগঠনিক সম্পাদক নোমান আল মাহমুদ। সমঝোতায় নৌকার প্রার্থীকে মনোনয়ন প্রত্যাহার করতে হয়েছে। ভোটের মাঠে এখানে রয়েছে আরও ১০ প্রার্থী।
ভোটের পরিবেশ নিয়ে আক্ষেপ করে পৌরসভা ২ নং ওয়ার্ডের ভোটার শিক্ষক সাহেদুল আলম বলেন,আগেকার দিনের সেই ভোট উৎসব আর নেই ভোটের পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে নির্বাচন কমিশনকে সজাগ দৃষ্টি দিতে হবে। এই আসনে গত দুইবার মনোনয়ন পেয়েও জোটের কারণে এমপি হওয়ার স্বপ্ন স্বপ্নই রয়ে গেল চট্টগ্রাম নগর আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ আবদুচ ছালামের । এবার দলের মনোনয়ন না পেয়ে প্রথম বারের মত নির্বাচনের মাঠে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে কেটলি প্রতীক নিয়ে নির্বাচনের মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন তিনি। অন্যদিকে আরেক স্বতন্ত্র প্রার্থী বিজয় কুমার চৌধুরী ফুলকপি প্রতিক নিয়ে প্রচার প্রচারণা চালাচ্ছেন।
তিনি বলেন, আমি ছাত্র জীবন থেকে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত যেহেতু নৌকা প্রতীকের প্রার্থী নেই সেহেতু দলের নেতাকর্মীরা আমার সাথেই আছে। সরেজমিনে দেখা যায়, এ আসনে ১০ জন প্রার্থী নির্বাচনের মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে তাদের মধ্যে জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য সোলাইমান আলম শেঠ, নগর আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ স্বতন্ত্র প্রার্থী আবদুচ ছালাম, নগর আওয়ামী লীগের সদস্য স্বতন্ত্র প্রার্থী বিজয় কুমার চৌধুরী, বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট টেলিভিশন প্রতীকের এস.এম. আবুল কালাম আজাদ, তৃণমুল বিএনপির সোনালী আশঁ প্রতীকের সন্তোষ শর্মা, কল্যাণ পার্টির মোহাম্মদ ইলিয়াছ, ইসলামিক ফ্রন্টের চেয়ার প্রতীকের সৈয়দ মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন, এনপিপির আম মার্কা প্রতীকে কামাল পাশা,বাংলাদেশ ইসলামি ফ্রন্টের মোমবাতি প্রতিকের আবদুন নবী, বাংলাদেশ কংগ্রেসের ডাব প্রতিকের মোঃ মহিবুর রহমান বুলবুল, এদের পাচঁ প্রার্থী ছাড়া বাকিদের দেখা নেই নির্বাচনী মাঠে।
তারমধ্যে জাতীয় পার্টির প্রার্থী সোলাইমান আলম শেঠ, স্বতন্ত্র প্রার্থী আবদুচ সালাম,স্বতন্ত্র প্রার্থী বিজয় কুমার চৌধুরী, ইসলামিক ফ্রন্ট চেয়ার প্রতিকের প্রার্থী এস এম ফরিদ উদ্দিন, ইসলামী ফ্রন্টের আব্দুন নবীকে সমর্থকদের সাথে নিয়ে প্রচার প্রচারণা করতে দেখা গেছে। জাতীয় পার্টির প্রার্থী সোলাইমান আলম শেঠ বলেন, জোটের প্রার্থী হিসেবে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা আমার পক্ষে কাজ করবে, নির্বাচিত হলে জনগণের পাশে থাকব উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখব । পশ্চিম গোমদন্ডী এলাকার বেলাল হোসেন বলেন, প্রতি নির্বাচনে কালুরঘাট সেতু বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দেয়া হলেও অদৃশ্য কারণে আমরা আজও অবহেলিত। এর প্রতিকার চাই ইসলামিক ফ্রন্টের প্রার্থী এস এম ফরিদ উদ্দিন বলেন, জাতির প্রয়োজনে দেশী বিদেশী সব যড়যন্ত্র থেকে দেশ রক্ষা করতে নির্বাচন করছি । নির্বাচিত হলে জনগণের ভাগ্য বদলাতে কাজ করব। আসনটিতে নৌকার প্রার্থী না থাকায় বিপাকে আওয়ামী লীগ। নির্বাচন নিয়ে আওয়ামী লীগের অনেক নেতাকর্মীরা দলীয় নির্দেশনা না পাওয়ায় ত্রি – ধারায় বিভক্ত আছে। কিছু অংশ স্বতন্ত্র প্রার্থী বিজয় কুমার চৌধুরীর ও কিছু অংশকে ছালাম ও শেঠের পক্ষে প্রচারণা চালাতে দেখা গেছে।
ইতিমধ্যে নগর আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি ও সিটি করপোরেশনের সাবেক প্রশাসক খোরশেদ আলম সুজন ছালামের পক্ষে ও সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাসির উদ্দিন কি পক্ষে সমর্থন দিয়ে ভোটারদের কাছে ভোট চেয়েছে। উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ও দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য শাহাদাত হোসেন বলেন, দলীয় কোন সিদ্ধান্ত না থাকায় নেতাকর্মীরা বিভিন্ন প্রার্থীর পক্ষে ছুটছেন। যে যার মত কাজ করুক তবে ভোটের পরিবেশ যেন উৎসবের হয় এটাই আমরা প্রত্যাশা করছি। বিগত নির্বাচন গুলোর ন্যায় এবারও নির্বাচনী ইস্যু কালুরঘাট সেতু অবহেলিত বোয়ালখালীবাসীর ‘আক্ষেপ’ ঘুচাতে প্রতিশ্রুতি নয় বাস্তবে রূপ দিতে বদ্ধপরিকর বলে জানান স্বতন্ত্র প্রার্থী আবদুচ ছালাম। তিনি আরও বলেন, ‘আমি প্রতিশ্রুতিতে নয়, বাস্তবায়নে বিশ্বাস করি। যদি সুযোগ পাই; ইনশাআল্লাহ অবশ্যই চেষ্টা করবো। ইসলামী ফ্রন্টের প্রার্থী আবদুন নবী বলেন, গত নির্বাচন গুলোর প্রেক্ষাপট ভোটারদের হতাশ করেছে। ভোটের পরিবেশ সৃষ্টি হলে জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী আমুচিয়া ইউনিয়নের ভোটার এনামুল হক বলেন, তবে প্রতিবারই এমন আশ্বাস পেলেও প্রতিশ্রুতিই সীমাবদ্ধ কালুরঘাট সেতুর বাস্তবায়ন ।
উল্লেখ্য, চট্টগ্রাম-৮ ( বোয়ালখালী-চান্দগাঁও-পাঁচলাইশ) আসনে মোট ভোটার ৫ লাখ ১৫ হাজার ৫৭৩ জন। এরমধ্যে বোয়ালাখালীর ১ লাখ ৮৯ হাজার ৪০ জন। এতে পুরুষ ভোটার ৯৮৮৩৮ এবং নারী ভোটার ৯০২০২ জন। এছাড়া বোয়ালখালী আসনে ভোট কেন্দ্রের সংখ্যা রয়েছে ৭৮টি (স্থায়ী)।