সিটি ব্যাংকের অ্যাপস থেকে ফান্ড ট্রান্সফার ম্যাসেজ এডিট করে অফিসার সেজে ইসলামী ব্যাংকের ভুয়া জমা শ্লিপ দেখিয়ে প্রতারণার অভিযোগে মো. মজিবুর রহমান প্রকাশ হান্নান (২৮) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
এসময় তার কাছ থেকে ইসলামী ব্যাংকের ২টি জাল বক্স সীল উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার মজিবুর রহমান ফেনী জেলার ছাগলনাইয়া থানার শুভপুর ইউপির মোস্তাফিজুর রহমানের ছেলে। রোববার খুলশী থানার ঝাউতলা এলাকার মাজারগলি এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করে পতেঙ্গা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন জানান, মজিবুর রহমান প্রকাশ হান্নান একজন শিক্ষিত বেকার যুবক। ট্রান্সপোর্টের ব্রোকার হিসাবে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে মালামাল পরিবহনের জন্য গাড়ি সরবরাহ করতেন। গত ১১ জানুয়ারি ম্যাক্স গ্রæপের পতেঙ্গা হর্স ইয়ার্ড থেকে ১৭ হাজার ৩১০ কেজি এমএস প্লেট মানিকগঞ্জ ম্যাক্স ইনফ্রা ফ্যাক্টরিতে পাঠানোর জন্য ম্যাক্স গ্রæপের পতেঙ্গা এলিভেটেড এক্সপ্রেস ওয়ে ইনভেন্টরি ম্যানেজার মোহাম্মদ আশরাফুল ইসলাম হান্নানকে ২টি গাড়ি পাঠানোর জন্য অনুরোধ করেন। হান্নান দুইটি ট্রাক পতেঙ্গা হর্স ইয়ার্ডে পাঠান। এরপর মালামাল নিয়ে গাড়ি দুইটি ওই দিন সন্ধ্যা ৭টায় মানিকগঞ্জের উদ্দেশ্যে রওয়ানা করে।
পরদিন ১২ জানুয়ারি মালামাল বহনকারী একটি গাড়ি পৌঁছলেও অপর গাড়িটি পৌঁছায়নি। ম্যাক্সের পক্ষ থেকে হান্নানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, গাড়িটি মাঝপথে নষ্ট হয়ে যাওয়ায় পৌঁছতে দেরি হচ্ছে। এর দুইদন পরও গাড়িটি না পৌঁছলে হান্নান আবার জানায়, চালক মালামালগুলো অন্য কোথাও বিক্রি করে পালিয়ে গেছে। তবে পিকআপে থাকা মালামালের দাম ৪ লাখ ৭০ হাজার টাকা তিনি পরিশোধ করে দিতে চান এবং একটি একাউন্ট নাম্বার দিতে বলেন।
ম্যাক্স কোম্পানি থেকে ইউসিবিএলের একটি একাউন্ট প্রদান করা হয়। তার ঠিক একটু পর হান্নান সিটি ব্যাংকের অ্যাপস থেকে ফান্ড ট্রান্সফারের মাধ্যমে টাকা পরিশোধ করেছে বলেন। ম্যাক্স কর্তৃপক্ষ ব্যাংকে যাচাই করে জানতে পারেন কোন টাকা ক্যাশইন হয়নি। পরে হান্নানের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি মোবাইল বন্ধ করে দেন। এ ঘটনায় ম্যাক্সের আশরাফুল ইসলাম বাদী হয়ে পতেঙ্গা থানায় মামলা দায়ের করেন। রোববার রাতে অভিযান চালিয়ে খুলশী থানার ঝাউতলা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, হান্নান নিজেকে সাপ্লাই ব্যবসায়ী পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তি প্রতিষ্ঠানকে মালামাল সরবরাহের অর্ডার নেন। মালামাল দেয়ার আগে অগ্রিম হিসাবে বিভিন্ন অংকের টাকাও নেন। কিন্তু মালামাল সরবরাহ না করে সময়ক্ষেপন করতে থাকেন। গ্রাহক যখন মালামালের জন্য তাগাদা দেয়, তখন তিনি জানান, মালামাল সরবরাহ করতে দেরি হবে এবং চাইলে আমি টাকা ফেরত দেব। টাকা দিতে ইসলামী ব্যাংকের একটি একাউন্ট নাম্বার দিতে বলেন। তারপর জমা ¯িøপে ওই একাউন্ট নাম্বার লিখে রিসিভ সিল মেরে তা পূরণ করে ছবি তুলে গ্রাহককে দিয়ে প্রতারণা করেন।

