চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এ টি এম পেয়ারুল ইসলাম বলেছেন, আমি আমার সামর্থের মধ্যে অটিজম নিয়ে আন্তরিকভাবে কাজ করতে চাই। দ্বি-মাসিক অটিজম জগৎ সাময়িকী প্রকাশের ক্ষেত্রে সহযোগিতার করতে চাই। ভবিষ্যতে অটিজম আক্রান্ত সন্তানদের নিয়ে কী করা যায় এ বিষয়ে শীঘ্রই অটিজম সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গকে নিয়ে বৈঠক করবো। বেশিকিছু করতে না পারলেও অন্তত এবিষয়ে একটা গাইডলাইন তৈরি করা যাবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সুযোগ্য কন্যা সায়মা ওয়াজেদ পুতুল অটিজম নিয়ে যেভাবে আন্তরিকভাবে কাজ করছেন, তাতে এই বিশেষ সন্তানরা অবশ্যই উপকৃত হবে বলে আমার বিশ্বাস। অটিজম আক্রান্তদের ব্যাপারে পরিবারের পাশাপাশি সমাজের মানুষেরও দায়বদ্ধতা রয়েছে। সমাজের প্রতিটি স্তরে এ বিষয়ে সচেতনতার বিকল্প নেই।
৭ অক্টোবর শনিবার সকালে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের এস রহমান মিলনায়তনে অটিজম জগৎ সাময়িকীর প্রকাশনা উৎসবে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ টি এম পেয়ারুল ইসলাম এ কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রবীণ সাংবাদিক এম নাসিরুল হক। আলোচনায় অংশ নেন দৈনিক আজাদীর সহযোগী সম্পাদক শিশুসাহিত্যিক রাশেদ রউফ, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সভাপতি সালাহ্উদ্দিন মো. রেজা, শিক্ষাবিদ প্রফেসর রীতা দত্ত, নাট্যকার ও সাংবাদিক প্রদীপ দেওয়ানজী,চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক দেবদুলাল ভৌমিক, অধ্যাপক ডা. বাসনা মুহুরী, সাংবাদিক-শিশুসাহিত্যিক বিপুল বড়ুয়া, অভিভাবকদের পক্ষ থেকে কাজী জিনাত রহমান, তাহরিন তারান্নুম এবং স্পেশাল এডুকেটরদের পক্ষ থেকে শুক্লা আচার্য।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন অটিজম জগৎ সম্পাদক রাজন বড়ুয়া। সঞ্চালনায় ছিলেন আবৃত্তিশিল্পী শ্রাবন্তী বড়ুয়া।
বক্তারা বলেন, বিশেষ শিশুরা সমাজের বা পরিবারের জন্য বোঝা নয়। বিশ্বের অনেক বিজ্ঞানী আছেন, যারা একসময় অটিজম আক্রান্ত ছিলেন। তাদের পরিবারের পরিচর্যার কারণে তারা সমাজে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং মানবজাতির জন্য অনেক কল্যাণকর কাজ করে গেছেন। জেসন আরডে-র প্রসঙ্গ টেনে বলেন, তিনি ১৭ বছর পর্যন্ত লেখাপড়া করতে পারেন নি, অথচ ৩৭ বছর বয়সে তিনি কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হয়েছেন। বিশেষ শিশুদের প্রতি মানসিকতা পরিবর্তনের প্রতি বক্তরার সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে অতিথিদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেন বিশেষ সন্তানর নির্ঝর বড়ুয়া অগ্র, আজমাইন, অলিন হাজরা’সহ সৌমিক বড়ুয়া, নুজহাত তাবাস্সুম । এরপর অতিথিরা অটিজম জগৎ সাময়িকীর মোড়ক উন্মোচন করেন।
এ সময় সাংবাদিক নির্মল চন্দ্র দাশ, প্রদীপ নন্দী, মাখন লাল সরকার, মঞ্জুরুল আলম মঞ্জু, মুস্তফা নঈম, সবুর শুভ, মো. শহীদুল ইসলাম, নুরউদ্দিন আহমদ, সুলতান মাহমুদ সেলিম, নাজমুল আলিম সাদেকী, সাইদুল আজাদ, রুমেন চৌধুরী, বাচ্চু বড়ুয়া, শোয়েব আহমদ, লেখক দীপক বড়ুয়া, সংগঠক নান্টু বড়ুয়া, ছড়াকার গোফরান উদ্দিন টিটু, চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্সের পিআরও মোকাম্মেল হক খান, নিষ্পাপ অটিজম স্কুলের শিক্ষক পিকু চৌধুরী, শিমু সিংহ, রীমা চৌধুরী, ফাল্গুনী শ্যাম, সুজয় চৌধুরী, অভিভাবক স্বপ্না বড়ুয়া, ইঞ্জিনিয়ার পরিমল চন্দ্র পাল, মুক্তা রাণী বড়ুয়া, জীবক বড়ুয়া, শাহরিয়ার কবীর, নয়ন বড়ুয়া, সুমন বড়ুয়া, রাজীব বড়ুয়া, মিলন কান্তি রুদ্রসহ অনেক অভিভাবক, বিশেষ সন্তান উপস্থিত ছিলেন।

