কোভিড সংক্রমণ বৃদ্ধির মধ্যে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে শিশুদের ঠান্ডাজনিত রোগ। ডায়রিয়া, শ্বাসকষ্ট, অ্যালার্জি, চর্মরোগসহ শীতকালীন নানা ধরনের রোগে হাসপাতালে ভিড় বেড়েছে রোগীদের। যার মধ্যে বেশিরভাগই শিশু। সরেজমিনে গিয়ে চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালে দেখা যায়, বহির্বিভাগে টিকিটের জন্য রোগীদের ভিড়। ডাক্তারের রুমের সামনে রোগী ও স্বজনদের দীর্ঘলাইন। তার মধ্যে শিশুর সংখ্যাই বেশি।
এসময় কথা হয় ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত ৫ বছর বয়সী ফারিজার পিতা ওয়াহাবের সঙ্গে। তিনি জানান, দুইদিন থেকেই মেয়ের সর্দি ও শুকনো কাশি। বাসায় প্রাথমিক চিকিৎসা দিলেও শুক্রবার রাতে অবস্থার অবনতি ঘটে। পরে পারিবারিক ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলে হাসপাতালে নিয়ে আসেন। দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। এখনও ডাক্তার দেখাতে পারিনি। হাসপাতালের নিচ তলায় দুই নম্বর ওয়ার্ডে ঠান্ডাজনিত অসুস্থতার কারণে ভর্তি করা হয়েছে দুই মাস বয়সী রাতুলকে। তার সঙ্গে রয়েছেন মা নূরনাহার আক্তার ও দাদি জেসমিন বেগম।
চট্টগ্রামের কাটগড় মাইজপাড়া এলাকার বাসিন্দা নূরনাহার আক্তার বলেন, গত কয়েকদিন ধরে ছেলের ঠান্ডাজনিত রোগ দেখা দিয়েছে। স্বাভাবিকভাবে নিঃশ্বাস নিতে পারছে না। এই কারণে গত সোমবার তাকে হাসপাতালে ভর্তি করি। এরপর থেকে অক্সিজেন দেওয়া হচ্ছে।
ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি পাঁচ বছর বয়সী সুমাইয়ার মা সুরাইয়া বেগম বলেন, হঠাৎ সর্দি ও কাশি বেড়ে গেলে স্থানীয় ফার্মেসি থেকে ওষুধ কিনে এনে খাইয়েছি। রাতে জ্বরের সাথে হালকা শ্বাস কষ্ট বাড়লে পরশু মধ্যরাতে এখানে নিয়ে আসি। আবহাওয়া পরিবর্তন ও ঠাণ্ডার কারণে এমনটা হয়েছে বলে জানিয়েছে চিকিৎসকরা।
চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালের পরিচালক ডা. নুরুল হক বলেন, শীতে শিশুদের ঠাণ্ডা জনিত রোগ বেশি হয়। শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা বৃদ্ধি পায়। আমাদের এখানে বর্তমানে যেসব রোগী আসছে তাদের বেশিরভাগই ঠাণ্ডাজনিত সমস্যা নিয়ে আসছে। এর মধ্যে নিউমোনিয়া, সাধারণ সর্দি, কাশি ও ডায়রিয়ার রোগীও আছে। গত দুই সপ্তাহে নিউমোনিয়ার রোগী বেশি এসেছে। ঠাণ্ডাজনিত সমস্যায় আক্রান্তদের মধ্যে ১৫-২০ শতাংশ রোগী নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত। এর মধ্যে ব্রংকাইটিস, অ্যাজমা রোগীও আছে। শীতকালে সাধারণত এ সব রোগ বৃদ্ধি পাই।
ঠান্ডাজনিত রোগের প্রতিকার নিয়ে জানতে চাইলে শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. ফরিদুল ইসলাম বলেন, শিশুদের যাতে ঠান্ডা না লাগে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। শীতকালে শিশুদের একটু বেশিই যত্ন নিতে হয়। ঠান্ডা খাবার যেমন- জুস, আইসক্রিম খাওয়ানো যাবে না। সবসময়ই তাদের গরম খাবার দিতে হবে। সাধারণত সর্দি কাশি হলে বাসায় প্রাথমিক চিকিৎসা দিলেই সুস্থ হয়ে যায়। তবে শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা দেখা দিলে অবশ্যই হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া উচিত।

