সারাদেশে ইতিমধ্যে অনুষ্ঠিত হয়ে যাওয়া ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে ব্যাপক সংখ্যায় নৌকাডুবির ঘটনা ঘটেছে।এমনকি নৌকা প্রতীক নিয়ে
মাত্র ৪২ ভোট পাওয়ার মতো অবাস্তব ঘটনা ঘটেছে। নৌকা প্রতীক পাওয়া সেই লোক ঐ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি পদে আছেন তেরো বছর ধরে।সেখানে বিজয়ী হয়েছেন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী। ভোট পেয়েছেন চার হাজার আটশ
প্লাস।৪২ ভোট দিয়ে নৌকাকে কিন্তু বিএনপি বা অন্য দলের কেউ অপমানিত করেনি।করেছে দলীয় সাংসদ ও জেলার শীর্ষ নেতারা। দেশের ৯৫% জায়গায় নৌকাডুবির নেপথ্যে নিজ দলীয় লোকজনেরই ভূমিকা।মানেটা পরিস্কার।সাংগঠনিক একটি শুদ্ধি অভিযান দেশজুড়ে চালানো আওয়ামী লীগের
জন্য সময়ের দাবি।নেত্রীর প্রতি আনুগত্য, আদর্শ ও প্রতিকে শ্রদ্ধা না থাকা ব্যক্তি যতোবড় নেতাই হোন, দলে থাকার অধিকার তাঁদের নেই।
এইসব ব্যক্তিদের ছাড় দিলে আওয়ামী লীগকে সামনের দিনগুলোতে ভয়ানক খেসারত দিতে হবে বলে অভিমত দিয়েছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকগণ।তাঁদের মতে কেবল নারায়ণগঞ্জ নয়,আনুগত্যহীন ব্যাক্তি যেখানেিআছেন ব্যবস্থা সেখানেই নিতে হবে।
এবার নারায়ণগঞ্জের কথায় আসি। নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ, সহযোগী ও অঙ্গ সংগঠনের শতকরা ৯৯%কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে অনেক আগেই। আর প্রায় সবকয়টি কমিটিই গঠিত হয়েছিলো নেপথ্যের ইশারায়।কারো ইচ্ছা অনিচ্ছার কোন মূল্য ছিলোনা এখানে।আগেই তোষণ ও আনুগত্য দেখিয়ে পদ নিশ্চিত করে কেবল লোক দেখানো আয়োজন করে কমিটি ঘোষণা করে দেওয়া হয়েছে।
এটাই জেলা ও মহানগরের উপজেলা,থানা,ইউনিয়ন এর সকলকমিটিগুলোর একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ এসে যায় একজনের কাছে।নেতার বদান্যতায় পদবি পেয়ে দলীয় প্রধান এবং আদর্শ ও প্রতীকের চেয়ে’ ভাই’হয়ে ওঠেন পূজনীয়।শেষ অবধি শাহ নিজাম দম্ভ সহকারে বলেই বসেন,আমরা আওয়ামী লীগ না ভাই লীগ করি।নারায়ণগঞ্জে কমিটির সদস্য ছাড়া তৃনমূল নেতাকর্মী সমর্থকদের মধ্যে এই রাজনীতি হয়ে উঠেছে চরম ঘৃনিত।সেই সাথে যুক্ত হয় বিগত ইউপি নির্বাচনে নৌকা ডুবিয়ে দেওয়ার প্রধান কুশীলব রুপে ভাই ও তাঁর অনুগতদের প্রকাশ্য ভূমিকা।
একসময় এই তৃনমূলেই এতো জনপ্রিয় ছিলেন যে,নারায়ণগঞ্জের আওয়ামীলীগের প্রতীক হয়ে উঠেছিলেন সাংসদ শামীম ওসমান।
জননেত্রী শেখ হাসিনারও স্নেহময় ছায়াতলে জায়গা করে নিয়েছিলেন।মিডিয়া যখন তাঁর নেতিবাচক রাজনৈতিক কর্মকান্ড নিয়ে সরব, গডফাদার তকমা সেঁটে দিয়েছে তাঁর গায়ে, নজিরবিহীন ভাবে জননেত্রী শেখ হাসিনা সংসদে দাঁড়িয়ে তাঁর পক্ষে কথা বলে মিডিয়ার মাতামাতি বন্ধ করেন।দল
,নেত্রী,আদর্শ ও প্রতীকের প্রতি অনুগত সেই শামীম ওসমান নৌকা ডুবিয়ে দিতে পারেন,গোলাম রসুল এর মতো ত্যাগী,নির্যাতিত,পরীক্ষিত
নেতাকে মাইনাস করে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের রক্ত মাখা সেন্টুকে দলে প্রতিষ্ঠিত করতে পারেন,এমনকি স্বয়ং নেত্রীর ডাক উপেক্ষা করে অনুগতদের নিবৃত্ত রাখার ধৃষ্টতা দেখাতে পারেন তা তৃণমূলের কাছে অকল্পনীয় কিন্তু বাস্তব চিত্র হয়ে আসার পর তাঁদের কাছে শ্রদ্ধা হারিয়ে তিনি বীতশ্রদ্ধ হয়ে গেছেন।তাই দলকে ঢেলে সাঁজানোর ঘোষণায় ভীষণ খুশি তৃনমুল।তাঁদের দাবি হচ্ছে,সকল সংগঠনে নতুন রক্তপ্রবাহ শুরু হোক।কোন ভাই বা বোন ভাগ্নীলীগ নয়,জননেত্রী শেখ হাসিনার প্রতি অনুগত,ত্যাগী ও পরীক্ষিতদের দিয়ে গঠিত হোক ওয়ার্ড হইতে জেলা কমিটিগুলো।আর কোন তদবির, সুবিধাভোগী মিডিয়ার “রক্তক্ষরণ” মার্কা গসিপ নিউজে প্রভাবিত হয়ে কেন্দ্র থেকে কোন ছাড় যেনো না দেওয়া হয়। জাহাঙ্গীর কবির নানক যথাযথ বলেছেন, দুষ্ট গরুর চাইতে শূন্য গোয়াল ভালো।

