বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬

পঞ্চবার্ষিকী কর পুনর্মূল্যায়নের ওপর থাকা স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার

নগরবাসীর ঘাড়ে চাপল গৃহকরের বোঝা

- Advertisement -
Single page 1st Paragraph

পৌরকর (হোল্ডিং ট্যাক্স, সড়ক বাতি ও আলোকায়ন রেইট) নির্ধারণে চট্টগ্রাম সিটি কর্র্পোরেশনের (চসিক) পঞ্চবার্ষিকী কর পুনর্মূল্যায়নের ওপর থাকা স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করা হয়েছে। এর ফলে চার বছর আগে রিঅ্যাসেসমেন্টের (ভবনের পুনর্মূল্যায়ন) মাধ্যমে যে হোল্ডিং ট্যাক্স প্রস্তাব করেছিল তা আদায় করতে পারবে সংস্থাটি। ওই অ্যাসেসমেন্টে পূর্বের চেয়ে শতভাগের বেশি পৌরকর ধার্য করা হয়েছিল। এখন তা কার্যকর হলে সেই ‘অতিরিক্ত করের বোঝা’ বহন করতে হবে নগরবাসীকে। অবশ্য সিটি মেয়র বলছেন, আপিল করলে গৃহকর সহনীয় করা হবে।

চসিক সূত্রে জানা গেছে, ২ জানুয়ারি স্থগিতাদেশ প্রত্যাহারে স্থানীয় সরকার বিভাগে প্রস্তাব দেয় চসিক। পরদিন সিটি মেয়রের নির্দেশে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব হেলালুদ্দীন আহমদের সঙ্গে দেখা করে চসিকের প্রধান নির্বাহী মোহাম্মদ শহীদুল আলম এ বিষয়ে সহযোগিতা চান। এর প্রেক্ষিতে মঙ্গলবার স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করা হয়। অবশ্য বর্তমান মেয়র দায়িত্ব নেওয়ার চার মাসের মাথায় ২০২১ সালের ৩ জুন স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার চেয়ে মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব দিয়েছিল চসিক।

মঙ্গলবার স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করে চসিকে স্থানীয় সরকার বিভাগের পাঠানো দাপ্তরিক পত্রে বলা হয়, ‘চট্টগ্রাম মহানগরীতে বিগত ১০ বছর পূর্বের নির্ধারিত হারে জনসধারণ কর প্রদান করছে। এতে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আয় হতে বঞ্চিত হচ্ছে।’ পত্রে জনসাধারণের নাগরিক সেবা ও বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ড গতিশীল রাখাসহ কর্পোরেশনের আয় বৃদ্ধির স্বার্থে সিটি কর্পোরেশনের ব্যক্তি মালিকানাধীন অথবা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের হোল্ডিংসমূহের বিগত ২০১৭-২০১৮ অর্থবছরের ১ম কোয়ার্টারে প্রকাশিত পঞ্চবার্ষিকী গৃহকর পুনর্মূল্যায়নের আলোকে গৃহকর আদায়ে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বলা হয়।

এ বিষয়ে চসিকের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম বলেন, কার্যকর করার ব্যাপারে নির্দেশনা পেয়েছি। তবে কখন থেকে কার্যকর করব সেটা কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত দেবেন। এক্ষেত্রে বকেয়া আদায় করা হবে নাকি বর্তমান বা সামনের কোয়ার্টার থেকে আদায় করব সেটারও সিদ্ধান্তের বিষয় আছে। সব বিষয়ে মেয়র মহোদয় ও প্রধান নির্বাহীর সঙ্গে কথা বলে সিদ্ধান্ত নেব।

২০১৭ সালে অ্যাসেসমেন্ট স্থগিত করার কারণ হিসেবে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় চসিকে অটোমেশন শেষ না হওয়ার কথা বলেছিল। বর্তমানে অটোমেশন কার্যক্রমের অগ্রগতি কতটুকু হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রায় কমপ্লিট হয়ে গেছে। চলতি মাসেই উদ্বোধন হওয়ার কথা ছিল। অটোমেশন হয়ে যাবে।

বাড়বে করের বোঝা : অ্যাসেসমেন্টের পর ১ লক্ষ ৮৫ হাজার ২৪৮টি হোল্ডিংয়ের বিপরীতে ২০১৭-২০১৮ অর্থবছরে চসিক ৮৫১ কোটি ৩০ লাখ ৬৪ হাজার ৫৫৯ টাকা পৌরকর আদায়ের প্রস্তাব করে, যা পূর্বের অর্থবছরে ছিল ১০৩ কোটি ৪৪ লাখ ১৮ হাজার ৫৩৭ টাকা। অর্থাৎ অ্যাসেসমেন্টের পর ৭৪৭ কোটি ৮৬ লাখ ৪৬ হাজার ২২ টাকা পৌরকর বেড়ে যায়।

করদাতারা বলছেন, পূর্বে ভবনের মূল্যায়ন করা হতো বর্গফুটের ভিত্তিতে। কিন্তু স্থগিত হওয়া রিঅ্যাসেসমেন্টে করা হয় ভবনের ভাড়া বা আয়ের বিপরীতে। এতে এক লাফে কর বহু গুণে বেড়ে গিয়েছিল।

চসিক সূত্রে জানা গেছে, দি সিটি কর্পোরেশন ট্যাক্সেশান রুলস অ্যাক্ট ১৯৮৬-এর ২১ ধারা মতে, সিটি এলাকায় প্রতি পাঁচ বছর অন্তর সকল প্রকার স্থাপনার পরিমাপ ও সংশ্লিষ্ট তথ্য সরেজমিনে সংগ্রহ করে পৌরকর নির্ধারণ করা হয়। আইনটির আলোকে ২০১৬ সালে গৃহ ও ভূমির পঞ্চবার্ষিকী কর পুনর্মূল্যায়ন করে চসিক। এর মধ্যে ২০১৬ সালের ২০ মার্চ প্রথম দফায় নগরের ১১টি ওয়ার্ডে অ্যাসেসমেন্ট শুরু করে এবং একই বছরের ২০ জুন শেষ হয়। দ্বিতীয় দফায় একই বছরের ১৮ অক্টোবর বাকি ৩০টি ওয়ার্ডে অ্যাসেসমেন্ট শুরু করে এবং তা শেষ হয় ২০১৭ সালের ১৫ জানুয়ারি। পুনর্মূল্যায়ন শেষে তা ২০১৭ সালের ৩১ আগস্ট জনসম্মুখে প্রকাশ করা হয়।

চসিকের অ্যাসেসমেন্টর বিষয়টি প্রকাশ হওয়ার পর প্রস্তাবিত পৌরকরের বিরুদ্ধে আপত্তি জানান ভবন মালিকরা। বিভিন্ন সংগঠনের ব্যানারে তারা মাঠে নামেন। এক্ষেত্রে চট্টগ্রাম করদাতা সুরক্ষা পরিষদ নামে একটি সংগঠন ধারাবাহিক কর্মসূচি পালন করে। প্রয়াত মেয়র মহিউদ্দীন চৌধুরী ও সাবেক মেয়র মনজুর আলমও এর বিরোধিতা করেন। ২০১৭ সালের ১৬ নভেম্বর গৃহকর বৃদ্ধি করায় জাতীয় সংসদেও ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন মন্ত্রী-এমপিরা।

এপর একই বছরের ২৬ নভেম্বর স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে বৈঠক করেন মন্ত্রণালয়টির শীর্ষ কর্মকর্তারা। এতে সারা দেশের গৃহকর কার্যক্রম অটোমেশনের আওতায় না আসা পর্যন্ত অ্যাসেসমেন্ট স্থগিতের সিদ্ধান্ত হয়, যা ১০ ডিসেম্বর চসিককে পত্র দিয়ে জানিয়ে দেয় মন্ত্রণালয়। অবশ্য এর আগে মৌখিক নির্দেশনার প্রেক্ষিতে ২৭ নভেম্বর থেকে অ্যাসেসমেন্ট কার্যক্রম স্থগিত করেছিল চসিক। স্থগিতের আগের দিন পর্যন্ত ৬৭ হাজার ৩৫২ জন হোল্ডার আপিল করেন। এর মধ্যে ৩ হাজার ৯৭৮টি আপিল নিষ্পত্তিও করা হয়ছিল।

পরে ২০১৯ সালের ২২ সেপ্টেম্বর চসিকের তৎকালীন প্রশাসক খোরশেদ আলম সুজন শুধু সরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে স্থগিত হওয়া রিঅ্যাসেসমেন্টের আলোকে পৌরকর আদায়ে প্রস্তাব দেন। এর প্রেক্ষিতে ২৫ অক্টোবর সরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করে নেয় মন্ত্রণালয়। তবে ব্যক্তি মালিকানাধীন ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে পূর্বের স্থগিতাদেশ বহাল থাকায় সাধারণ ভবন মালিকরা রক্ষা পায় ‘অতিরিক্ত’ করের বোঝা থেকে। গতকাল সেটাও প্রত্যহার করা হলো।

চট্টগ্রাম করদাতা সুরক্ষা পরিষদের যুগ্ম সম্পাদক ও মুখপাত্র হাসান মারুফ রুমী বলেন, অ্যাসেসমেন্টটা অবৈধ। এটা নিয়ে মামলা হয়েছিল। যদিও মামলাটি খারিজ হয়ে যায়। তবে সেখানে উচ্চ আদালতের একটা পর্যবেক্ষণ ছিল। পর্যবেক্ষণে বলা হয়, ১৯৯১ সালের বাড়ি ভাড়া আইন অনুযায়ী ১০ শতাংশ বাড়ানো যায়। অ্যাসেসমেন্টেও তেমন করা যেতে পারে। কিন্তু শতভাগ বাড়িয়েছে। এ অবস্থায় অ্যাসেসমেন্টটির স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করে তা বাস্তবায়ন হবে হাই কোর্টের পর্যবেক্ষণের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

তাছাড়া ওই অ্যাসেসমেন্টে ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছিল বলে পত্র-পত্রিকায় ছাপা হয়েছিল। সেটা নিয়ে মানুষ আন্দোলন করে। সে আন্দোলনের প্রেক্ষিতে হোক বা মানুষকে অতিরিক্ত করের বোঝা থেকে রক্ষার জন্য হোক অ্যাসেসমেন্টটি স্থগিত হয়েছিল। এখন সেটা আবার বাস্তবায়ন করা হবে মানুষের দাবির সাথে সাংঘর্ষিক। এটার দ্বারা প্রমাণিত হচ্ছে সিটি কর্পোরেশন ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে। এখন মানুষের ওপর চাপ এলে সেটা তারা মেনে নেবে না।

এই বিভাগের সব খবর

পোশাক শ্রমিকদের কর্মস্থলে ফিরে যাওয়ার আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে সাধারণ শ্রমিকদের কোনো প্রকার উসকানি ও গুজবে কান না দিয়ে নিজ-নিজ কর্মস্থলে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন,...

চট্টগ্রামে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় ১২০ কোটি টাকা অনুদানের প্রাথমিক আশ্বাস জাইকার

চট্টগ্রাম নগরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়নে প্রায় ১২০ কোটি টাকা অনুদান দিতে প্রাথমিক সম্মতি জানিয়েছে জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা)। এ অনুদানের আওতায় নগরের বর্জ্য সংগ্রহ...

একনেকে ৫৮ হাজার ৮৯ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন, তিতাসে হবে দুটি নতুন গ্যাসকূপ

জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ৫৮ হাজার ৮৮ কোটি ৯২ লাখ টাকা ব্যয়ে ১৩টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে...

সর্বশেষ

পোশাক শ্রমিকদের কর্মস্থলে ফিরে যাওয়ার আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে সাধারণ শ্রমিকদের কোনো প্রকার উসকানি...

চট্টগ্রামে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় ১২০ কোটি টাকা অনুদানের প্রাথমিক আশ্বাস জাইকার

চট্টগ্রাম নগরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়নে প্রায় ১২০ কোটি টাকা...

একনেকে ৫৮ হাজার ৮৯ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন, তিতাসে হবে দুটি নতুন গ্যাসকূপ

জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ৫৮ হাজার...

হাটহাজারীতে ১০০ হতদরিদ্র পরিবারের মধ্যে আর্থিক সহায়তা প্রদান

ভূমি এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ...

চট্টগ্রাম রেঞ্জে পুলিশের বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার ১১৭৯

চট্টগ্রাম রেঞ্জের ১১ জেলায় কিশোর গ্যাং, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী...

মিরসরাইয়ে অস্ত্রসহ যুবক গ্রেপ্তার

চট্টগ্রাম জেলার মিরসরাইয়ে একটি দেশীয় তৈরি এলজি, পাঁচটি রকেট...