চট্টগ্রামের রাউজানে কর্ণফুলী নদীর শাখা খালে গোসল করতে নেমে নিখোঁজের ৭ ঘন্টা পরে মো. আব্দুর রহিম (৩৫) নামের এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার হয়েছে।
৩১ মে (বুধবার) সোয়া ৬টায় নিখোঁজস্থলের ১শত মিটারের মধ্যে তার মরদেহ উদ্ধার হয়। নিহত আব্দুর রহিম বাগোয়ান ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সৈয়দ আবু জাফর চেয়ারম্যান বাড়ির মৃত আবু তাহেরের ছেলে। পরিবার ও ফায়ার সার্ভিসের সূত্রে জানা যায়, ৩১ মে (বুধবার) বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে মো. আব্দুর রহিম শরীরে ১০২° জ্বর নিয়ে বাড়ির দক্ষিণ পাশে খালে জোয়ারের সময় গোসল করতে নেমে প্রথম ডুব দিয়ে উঠে দ্বিতীয় ডুব দেওয়ার পর অনেকক্ষণ ধরে না উঠায় খোঁজ করতে থাকেন পরিবারের লোকজনসহ প্রতিবেশীরা। পরে ফায়ার সার্ভিসকে খরব দিলে প্রথমে কালুরঘাট ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে নদীতে নেমে তল্লাশি করেন পরবর্তীতে ২ টার দিকে আগ্রাবাদ ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দলের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে সাড়ে পাঁচটা পর্যন্ত খালে তল্লাশি কার্যক্রম পরিচালনা করেন।
সন্ধ্যা সোয়া ছয়টায় ঘটনাস্থলের ১শত মিটার উত্তরে স্থানীয় মৎস্যজীবী মোবারক চিৎকার দিয়ে উঠেন লাশ পাওয়া গেছে। তখন অন্যান্য মৎস্যজীবীসহ স্থানীয়রা খাল হতে তার লাশ উদ্ধার করেন এইসময় উদ্ধার কাজে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরাও অংশ নেন। নিহত যুবক ৮ ভাই ৫ বোনের মধ্যে সবার ছোট এবং অবিবাহিত। মরদেহ উদ্ধারকালে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ভূপেষ বড়ুয়া, উপজেলা যুবলীগের অর্থ সম্পাদক আজম রাশেদ, দক্ষিণ রাউজান পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি প্রকাশ সরকার, ইউপি সদস্য শ্যামল বড়ুয়া সেন্টু, উদয় দত্ত অর্ক, মো. ইয়াসিন ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন।
এই বিষয়ে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ভূপেষ বড়ুয়া বলেন, আমি সকালে একটি মামলার সাক্ষী দিতে চট্টগ্রাম আদালত ছিলাম। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে স্থানীয় সফল কৃষক নেজাম উদ্দিন আমাকে ফোন করে ঘটনার কথা জানালে আমি ফায়ার সার্ভিসকে খবর দিয়। তার প্রায় একটানা ৬ঘন্টা উদ্ধার তৎপরতা চালান। আমি সন্ধ্যা ৬টার দিকে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে খোঁজ খবর নিতে থাকি। সোয়া ৬টার দিকে ভাটার সময় খালে নৌকা নিয়ে মাছ শিকার করতে থাকা কয়েকজন জেলে লাশটি দেখতে পায়। স্থানীয়রাসহ ফায়ার সার্ভিসের লোকজন লাশটা উদ্ধার করে ঘরে নিয়ে আসেন।
আগ্রাবাদ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের লিডার টিটু কুমার বসাক বলেন, আমরা ১২:২০ টায় সংবাদ পেয়ে পৌনে ২ টার দিকে তিন ডুবুরি জাহিদ, রাজীব ও আনিসুলসহ পাঁচ জনের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে উদ্ধার তৎপরতা পরিচালনা শুরু করি। তারপূর্বে কালুরঘাট ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে উদ্ধার তৎপরতা পরিচালনা করেন। আমরা টানা ৬ঘন্টা প্রায় দুই কিলোমিটার পর্যন্ত উদ্ধার তৎপরতা পরিচালনা করি। সোয়া ৬টার দিকে জেলেরা খালে ডুবন্ত অবস্থায় লাশটি দেখতে পেলে আমরা উদ্ধার করে পরিবারের নিকট হস্তান্তর করি।
রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল হারুন বলেন, পরিবারের কোন অভিযোগ না থাকায় ময়নাতদন্ত ছাড়া লাশ দাফনের প্রক্রিয়া চলছে।
