আয়োজক জাপানের প্রধানমন্ত্রী ফুমিও কিশিদার বক্তব্যের মাধ্যমে শেষ হলো তিনদিনের জি সেভেন এর শীর্ষ সম্মেলন।শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত এবারের সম্মেলন ছিলো ব্যতিক্রমী ঘটনায় ভরপুর।বিশ্বের ধনী সাত দেশের গ্রুপ হলেও এবারের সম্মেলন প্রকৃত অর্থে বহুজাতিক সম্মেলন হয়ে গেছে।পরিষ্কার উদ্দেশ্য ছিলো এবারের সম্মেলনের।তাহলো রাশিয়াকে দমন করার জন্য বৈশ্বিক একটি প্ল্যাটফর্ম গঠন।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন সহ আরও পনেরো দেশের অংশগ্রহন নিশ্চিত করা হয়েছিলো।তারউপর হঠাৎ করেই ইউক্রেন প্রেসিডেন্ট ভালোদমির জেলোনস্কি প্রথমে বিনা নিমন্ত্রনে আরব লীগের বৈঠকে তারপর জাপানে জি সেভেন বৈঠকে উপস্থিত হয়ে এবারের শীর্ষ বৈঠককে মূলতঃ “রাশিয়া ঠেকাও,ইউক্রেন বাঁচাও” বৈঠকে পরিনত করে।সবই পরিকল্পনা মাফিক এগোচ্ছিলো।আমেরিকার এফ-১৬ যুদ্ধবিমান ও ইউক্রেনীয় পাইলটদের প্রশিক্ষনের ঘোষণা,ভারতের প্রধানমন্ত্রী ও ব্রাজিল প্রেসিডেন্টের সাথে জেলেনস্কির বৈঠক,তাঁদের কাছ থেকে প্রতিশ্রুতি আদায়,রাশিয়ার উপর আরও নিষেধাজ্ঞা জারি,হুমকি ,চীনকে চাপ দেওয়া সহ সবই হচ্ছিলো।কিন্তু বাখমুত দখল করে রাশিয়ান সারপ্রাইজ সম্মেলনের প্রতি অনেকটা চপেটাঘাত হয়ে আসে।
তাই সম্মেলনের শেষটা ঐতিহ্য মোতাবেক আয়োজক দেশের সরকার প্রধানের বক্তব্যের মাধ্যমে শেষ হয়েও আসলে হয়নি শেষ।আজ জাপানের স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় জেলেনস্কির সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে মূলতঃ সমাপ্তি ঘটবে এবারের সম্মেলনের। আজ ২১শে মে জাপানের স্থানীয় সময় বেলা আড়াইটায় বক্তব্য দিতে আসেন প্রধানমন্ত্রী ফুমিও কিশিদা।আয়োজনস্থল হিরোশিমার বেদনাদায়ক অতীত টেনে কিশিদা ইউক্রেনের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন।তিনি বলেছেন ইউক্রেনে মস্কোর আগ্রাসন ‘আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার একেবারে ভিত্তি’তে আঘাত করেছে।এই প্রতিবেদনের শুরুতে যেটি চপেটাঘাত শব্দে উল্লেখ করেছেন এই প্রতিবেদক,ফুমিও কিশিদা সেটিকেই ওভাবে কুটনৈতিক ভাষায় বলেন।তিনি আরও বলেন, বিশ্বের যেখানেই হোক না কেন, একতরফাভাবে বলপ্রয়োগ করে স্থিতাবস্থা পরিবর্তনের চেষ্টা কখনই মেনে নেওয়া যায় না।
তিনি জানান জি সেভেন যত দ্রুত সম্ভব ইউক্রেনের জন্য ন্যায্য ও স্থায়ী শান্তি আনতে চেষ্টা করবে। কিশিদা বলেন,জি সেভেন হোস্ট হিসেবে জাপানের মিশন হবে আইনের শাসনের উপর ভিত্তি করে অবাধ ও উন্মুক্ত আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাকে দৃঢ়ভাবে সমুন্নত রাখা এবং শান্তি ও সমৃদ্ধি সম্পূর্ণভাবে রক্ষা করার জন্য আমাদের সংকল্প দেখানো। রাশিয়ার পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের হুমকির প্রসঙ্গে কিশিদা বলেন”পরমাণু অস্ত্র ব্যবহারের কোনও হুমকি থাকা উচিত নয়, পারমাণবিক অস্ত্রের ব্যবহারকে ছেড়ে দেওয়া উচিত,ভিন্ন শক্তির মাধ্যমে স্থিতাবস্থা পরিবর্তন করা উচিত। সূত্র:-আল জাজিরা,রয়টার্স ও এপি।
