ঈদ ছুটিতে পর্যটকদের পদভারে মুখোরিত খাগড়াছড়ির রামগড় সীমান্ত নদীতে নির্মিত বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী সেতু-১ ও নবনির্মিত ইমিগ্রেশন ভবন এলাকা। বর্তমানে রামগড় স্থলবন্দর এলাকাটি পর্যটকদের বাড়তি বিনোদন কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। সরেজমিনে দেখা গেছে,রবিবার ঈদের দ্বিতীয় দিন বিকেল থেকে রামগড় পৌরসভার সীমান্তবর্তী মহামুনি বন্দর এলাকায় ঈদের ঘুরাগুরিতে মৈত্রীসেতু স্থলে ভিড় করেছেন হাজার হাজার দর্শনার্থী। বন্দর অবকাঠামো নির্মাণ, ইমিগ্রেশন চালু করা হলে সাবেক মহকুমা রামগড়ের যোগাযোগে আশার আলো দেখছেন স্থানীয়রা। একইভাবে আর্থসামাজিক উন্নয়নে নতুন পথের সূচনা হবে বলেও মনে করছেন তারা।

সেতুটি উদ্বোধনের পরথেকে প্রতিদিন বিকেলে দূরদুরান্ত থেকে সাজেক গামী পর্যটক সহ বহু পর্যটক দৃষ্টি নন্দন সেতুটি দেখতে আসেন। বর্তমানে সেতু স্থলে পর্যটকদের বাড়তি আকর্ষণ যুক্ত করেছে নব নির্মিত ইমিগ্রেশন ভবন। চট্টগ্রাম থেকে আসা রাফসান নামে এক দর্শনার্থী জানান, রামগড়ে তার পৈতৃকনিবাস। অনেক আগেই এই সেতু নির্মাণের খবর শুনেছেন। দৃষ্টিদন্দন সেতুটি তাদের মুগ্ধ করেছে। সেতু দেখতে আসা রামগড়ের স্থানীয় বাসিন্দা ফেনী সরকারী কলেজের শিক্ষার্থী আবু বক্কর মাহফুজ বলেন, পর্যটনময় শহর রামগড়ের বুকে দেশের প্রথম দৃষ্টিনন্দন মৈত্রীসেতু-১ শহরের সৌন্দর্য ও পরিচিতি আরো বাড়িয়ে দিয়েছে। তিনি বলেন, রামগড়ে স্থলবন্দর চালু হলে দুই দেশের বাণিজ্য, পর্যটন, কর্মসংস্থান বাড়বে বলেও মনে করেন তিনি।
রামগড় উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বিশ্ব প্রদীপ কুমার কার্বারী জানান, সেতু পর্যটনে নতুন মাত্রা যুক্ত করেছে। খুবদ্রুত ইমিগ্রেশন ব্যবস্থা চালু হবে তখন সেতু হয়ে বাড়বে কর্মযজ্ঞতা। তাছাড়া শিগ্রই বন্দর অবকাঠামো ও সড়ক উন্নয়ন শুরু হবে এতেকরে মানুষের আর্থসামাজিক উন্নয়ন সহ পাল্টেযাবে রামগড়ের সামগ্রিক দৃশ্যপট। রামগড় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, ঈদে রামগড়ের সবকটি পর্যটন স্পটে সিভিলে পুলিশের তৎপরতা রয়েছে। মৈত্রীসেতু-১ স্থলে বিজিবি’র টহল ও নজরদারীতা রয়েছে।
প্রসঙ্গত, ২০১৫ সালের ৬ জুন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী সেতু-১ ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। খাগড়াছড়ির রামগড়ে মহামুনি এলাকায় প্রায় ১০ একর ভূমি অধিগ্রহণ করে মৈত্রী সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হয়। সেতু নির্মাণের ব্যয়ভার বহন করছে ভারত সরকার। ৪১২ মিটার দৈর্ঘ্যরে সেতুটি নির্মাণে খরচ হচ্ছে ৮২ দশমিক ৫৭ কোটি রুপি। ২০২১ সালের ৯ মার্চ ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দুই দেশের মধ্যে সংযোগ স্থাপনকারী ‘বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী সেতু-১’-এর উদ্বোধন করেন।

