সমীকরনটা ছিলো পঞ্চম তথা এই ম্যাচ জিতলেই পাকিস্তান সিরিজ জিতবে।হেরে গেলে অন্ততঃ সিরিজ হারবেনা।টস থেকে শুরু করে ম্যাচের ত্রিশ ওভার তথা নিউজিল্যান্ডের ব্যাটিংয়ের দশম ওভার পর্যন্ত চিত্রনাট্য পাকিস্তানের জয়ের দিকেই ছুটছিলো।দুই দল মিলিয়ে চল্লিশ ওভারের শেষ দশ ওভারে লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে উপস্থিত দর্শকতো বটে,পুরো বিশ্বের ক্রিকেট ভক্তরা মন্ত্রমুগ্ধের মতো দেখলো কিভাবে ফিরে এসে ম্যাচ জেতা যায়!১৯৪ রানের লক্ষ্যে ব্যাটিংয়ে নেমে শূন্যরানে প্রথম,চার রানে দ্বিতীয়, ছাব্বিশ রানে তৃতীয় ও তিয়াত্তর রানে চতুর্থ উইকেট হারানো নিউজিল্যান্ডের তখন ৬১ বলে চাই ১২১ রান।
বল হাতে কিউইদের কাঁপিয়ে দিচ্ছিলেন ইমাদ ওয়াসীম ও হারিস রউফ।সাথে শাহিন শাহ আফ্রিদি সহ পাক বোলিং লাইনআপের বিপক্ষে বল প্রতি দুই রানের সমীকরণ মেলানো অসম্ভব বলেই মনে হচ্ছিল।কিন্তু কিউই দলে মার্ক চ্যাপম্যান নামের একজন তখনো ক্রিজে ছিলেন।পাঁচ ম্যাচ টি টোয়েন্টি সিরিজে একটি ম্যাচ বাদে বাকি সব ম্যাচেই পাক বোলারদের নিকট আতংক হয়ে থেকেছেন যিনি।দল হারলেও চ্যাপম্যান ছিলেন টপ পারফরমার।সিরিজের শেষ ম্যাচকে তিনি বেছে নিলেন নিজের সেরাটি দেখানোর জন্য।জিমি নিশামকে নিয়ে চ্যাপম্যান দেখালেন,এভাবেও ফিরে আসা যায়!দুজন মিলে দলকে অবিশ্বাস্য জয় এনে দিয়ে যখন প্যাভিলিয়নে ফিরছিলেন,তখনো চারবল বাকি ছিলো।আর মার্ক চ্যাপম্যানের নামের পাশে তখন অপরাজিত ১০৪ রানের বিষ্ময়কর ফিগার।মাত্র ৫৭ বল খেলে এগারোটি চার ও চারটি ছয়ের মাধ্যমে অপরাজিত সেঞ্চুরি করে টেলিভিশন ধারাভাষ্যকারদের “নিউ ওয়ান্ডার” উপাধী আদায় করে নেন।অপরদিকে ২৫ বলে চারটি চার ও দুটো ছয়ের মাধ্যমে অপরাজিত ৪৫ রানের ইনিংস খেলে চ্যাপম্যানকে যোগ্য সঙ্গ দেন জিমি নিশাম। অথচ ম্যাচ রিপোর্টটা হতে পারতো পাক ওপেনার রিজওয়ানের দুই রানের আক্ষেপের।অপরাজিত ৯৮ রান করলেও দুই রানের জন্য সেঞ্চুরি মিসের আফসোসটা সহজে ভুলতে পারবেন না রিজওয়ান। গতরাতে লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে টস জিতে নিজেরা বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নিলে অনেকেই বিষ্মিত হয়েছিলেন।কেননা গাদ্দাফি স্টেডিয়ামের চেজিং রেকর্ড খুবই খারাপ।ব্যাট করতে নেমে বাবর আজমকে নিয়ে ৫১ রানের পার্টনারশীপ গড়েন রিজওয়ান।বিনা উইকেটে ৫১ রানের দলটি হঠাৎই তিন উইকেটে ৫২ রানে পরিণত হয়। পরে ইফতেখার ও ইমাদ ওয়াসিমকে নিয়ে বিশ ওভারে দলীয় টোটাল ১৯৩ রান করেন রিজওয়ান।শেষ দুটো বলে ষ্ট্রাইক পেয়েও তিন অংকের ম্যাজিক ফিগার ছুঁতে পারেননি তিনি।ক্রিকেটের নতুন বিষ্ময় চ্যাপম্যানের ইনিংস শেষ পর্যন্ত ম্যাচের সবকিছু ম্লান করে দিয়ে সবটা আলো নিজের করে নেন।নিউজিল্যান্ডকে নিশ্চিত সিরিজ হার থেকে বাঁচিয়ে সিরিজ ড্র করে একই সাথে ম্যান অফ দ্য ম্যাচ ও সিরিজ নির্বাচিত হন মার্ক চ্যাপম্যান। সংক্ষিপ্ত স্কোর:-পাকিস্তান ১৯৩/৮(২০),রিজওয়ান ৯৮*, ইফতেখার ৩৬,ইমাদ ওয়াসিম ৩১।ব্রায়ান টিকনার ৩/৩৩। নিউজিল্যান্ড ১৯৪/৪(১৯.২)মার্ক চ্যাপম্যান ১০৪*,জিমি নিশাম ৪৫*, ইমাদ ওয়াসিম ২/২১। ফল:-নিউজিল্যান্ড ৬ উইকেটে জয়ী। সিরিজ:-২-২ ড্র ম্যান অফ দ্য ম্যাচ ও সিরিজ:-মার্ক চ্যাপম্যান।
