বান্দরবানের লামা উপজেলার সরই ইউনিয়নের ডলুছড়ি মৌজায় ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠি ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের মানুষ তাদের জন্য ৫ একর করে জমি বরাদ্ধ দেয়ার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন। শনিবার সকালে লামা উপজেলার সরই ইউনিয়নের ডলুছড়ি মৌজার জুমিয়া পরিবারের ব্যানারে ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের কয়েকজন এই সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করেন। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত থেকে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন- ডলুছড়ি মৌজার বিশয়চন্দ্র ত্রিপুরা। এসময় ডলুছড়ি মৌজার ফদরাম ত্রিপুরা কারবারী, জয়চন্দ্র ত্রিপুরা, বৈশুরাম ত্রিপুরা,অনারাং ত্রিপুরা, জরাং ত্রিপুরা, ওয়াশিং ত্রিপুরা, সাকোব ত্রিপুরা, শুময়েল ত্রিপুরা, জাকেলা ত্রিপুরা, বান্দরবান প্রেসক্লাবের সভাপতি আমিনুল ইসলাম বাচ্চুসহ সংবাদকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
বান্দরবান প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ডলুছড়ি মৌজার বিশয়চন্দ্র ত্রিপুরা বলেন, জেলার লামা উপজেলার সরই ইউনিয়নের ডলুছড়ি মৌজার বেশ কিছু জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে, আর তারই প্রেক্ষিতে আমরা এই জমির বিরোধ নিরসনে জেলা প্রশাসক বরাবরে আবেদন করেছিলাম। এর ফলে ২০২২ সালের ১৬ আগষ্ট জেলা প্রশাসক ও পার্বত্যমন্ত্রী বীর বাহাদুর এর উপস্থিতিতে আমাদের প্রত্যেককে ৫ একর করে জমি দেওয়ায় সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়, যেই সিদ্ধান্ত শুনে আমরা খুশি। তবে আমাদের এই জমি গ্রহণে আমাদের এলাকার মথি ত্রিপুরা, রংধজন ত্রিপুরা, লাংকম ম্রো, রেংয়ে ম্রোসহ কয়েকজন ব্যক্তি এই সিদ্ধান্তের বিরোধীতা করছে এবং নানা ধরণের ভয়ভীতি প্রদর্শন করছে জমি বুঝেঁ না নিতে।
ডলুছড়ি মৌজার বিশয়চন্দ্র ত্রিপুরা আরো বলেন, আমরা ত্রিপুরা সম্প্রদায় আর কারো সাথে জমি নিয়ে ঝগড়া-বিবাদ করতে চাই না, আমরা চাই সরকারী ভাবে আমাদের নামে ৫একর করে জমি দেওয়া হোক আর তাতেই আমরা খুশি।
এসময় বক্তব্য দিতে গিয়ে ডলুছড়ি মৌজার ফদরাম ত্রিপুরা কারবারী বলেন, আমরা এখন আমাদের স্বগোত্রীয়দের হামলা ও মামলার ভয়ে আছি। আর তাই প্রশাসন যদি আমাদের বিষয়টি সুদৃষ্টি প্রদান করে নজর দেন, তাহলে আমরা এই জমি নিয়ে চলতি বছর জুম চাষ করে পরিবার নিয়ে ভালো ভাবে জীবনধারণ করতে পারবো।

