চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের আওতাধীন ইউনিট, ওয়ার্ড ও থানা সম্মেলন দ্রুত সময়ের মধ্যে শেষ করার জন্য নির্দেশনা দিয়েছেন আওয়ামী লীগের সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রোববার (১৯ ফেব্রুয়ারি) গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগ নেতাদের সৌজন্য সাক্ষাতে এই নির্দেশনা দেন।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাতের বিষয়ে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দিন বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আগামী রমজানের আগে ইউনিট ও ওয়ার্ড সম্মেলন শেষ করতে বলেছেন। ইউনিট ও ওয়ার্ড সম্মেলনের পরে দ্রুততম সময়ে থানা সম্মেলন শেষ করে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সম্মেলন আয়োজনের নির্দেশ দেন।
তিনি আরও বলেন, দলের প্রাথমিক সদস্য সংখ্যা বাড়ানোর জোর দিয়ে আওয়ামী লীগের সভানেত্রী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দলের তৃণমূল পর্যায়ে ত্যাগী ও নিবেদিত ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগ, শ্রমিক লীগ ও প্রবীণ সদস্যদের মূল্যায়ন করার নির্দেশ দেন। বিএনপির অপপ্রচার ও আন্দোলনের নামে নাশকতাসহ সকল ষড়যন্ত্র জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সর্তকভাবে মোকাবেলা করারও নির্দেশনা দেন। এছাড়াও তৃণমূল ও সকল নেতাকর্মীদের এ সময়ে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি।
গণভবনে যাওয়া নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মাহতাব-নাছিরের বিরোধীরা সভানেত্রী শেখ হাসিনার কাছে সম্মেলন না হওয়ার জন্য এই দুই নেতাকে দায়ী করেন। তারা অভিযোগ করেন, ইউনিট কমিটিগুলো সাংগঠনিক বিধিবিধান ও গঠনতন্ত্র উপেক্ষা করে একতরফাভাবে করা হয়েছে। কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠকে সম্মেলন নিয়ে যেসব সিদ্ধান্ত হয়েছিল, মাহতাব-নাছিরের বাধায় সেগুলো বাস্তবায়ন হয়নি। এ অবস্থায় ওয়ার্ড এবং থানা কমিটির সম্মেলনও একতরফাভাবে করে ফেলতে চাচ্ছেন তারা।
মাহতাব-নাছিরের বিরোধীরা প্রথমে নগর আওয়ামী লীগের সম্মেলন শেষ করে নতুন নেতৃত্বের তত্ত্বাবধানে ওয়ার্ড এবং থানা সম্মেলন করার দাবি জানান। অন্যদিকে, আ জ ম নাছির উদ্দীন সকল অভিযোগ খণ্ডন করেন। কী কী কারণে সম্মেলন করা যায়নি, কারা কারা বাধা দিয়েছেন এসব বিষয় তিনি সভানেত্রীর সামনে উপস্থাপন করেন। তিনি ওয়ার্ড ও থানায় সম্মেলন শেষ করে নগর কমিটির সম্মেলন করার দাবি জানান।
জানা গেছে, পাল্টাপাল্টি অভিযোগ জানানোর সময় নেতাদের মধ্যে কয়েকদফা উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়। সভানেত্রী শেখ হাসিনা হস্তক্ষেপ করে পরিস্থিতি সামাল দেন। জানতে চাইলে নগর আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি খোরশেদ আলম সুজন বলেন, ‘আমরা বলেছি, ওয়ার্ড সম্মেলন হবে থানা কমিটির অধীনে। কিন্তু বেশ কয়েকটি থানায় তো স্ট্রাকচারই ঠিক নেই। তারা সম্মেলন করবে কিভাবে? সেজন্য আমরা আগে নগর কমিটি সম্মেলন করার প্রস্তাব দিয়েছিলাম। নেত্রী সবকিছু শুনেছেন। তিনি সাংগঠনিক ধারাবাহিকতা রক্ষায় আগে তৃণমূলের সম্মেলন শেষ করতে বলেছেন। নগর আওয়ামী লীগের বিষয় সভানেত্রী নিজে ঠিক করবেন বলে জানিয়েছেন।’

