আগামী ২৩ এপ্রিলে শেষ হচ্ছে বর্তমান রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদের মেয়াদ। নতুন রাষ্ট্র প্রতি নির্বাচনের জন্য আওয়ামী লীগে আলোচনার ডালপালা পাখা মেলছে প্রতিদিন। শোনা যাচ্ছে দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ দলের প্রবীন নেতাদের নাম। তবে সব কিছুই নির্ভর করছে দলীয় প্রধান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপর। দলের একজন দায়িত্বশীল নেতা বলেছেন,ফেব্রুয়ারিতেই চুড়ান্ত করা হবে পরবর্তী রাষ্ট্রপতির নাম।
আওয়ামী লীগের একাধিক শীর্ষ নেতা বলেছেন, রাষ্ট্রপতি কে হবেন এ নিয়ে আওয়ামী লীগের থিংক-ট্যাংকের মধ্যে আলাপ-আলোচনা চলছে। প্রধানমন্ত্রী নিজেওবিভিন্ন ব্যক্তির মতামত নিচ্ছেন। এ ব্যাপারে তিনিই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে,রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ দুই মেয়াদে এই পদে থাকায় তিনি আর রাষ্ট্রপতি হতে পারছেন না। সংবিধান অনুযায়ী নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হবে আগামী ফেব্রুয়ারির মধ্যে। ফলে হাতে খুব বেশি সময় নেই রাষ্ট্রপতিপ্রার্থী নির্বাচন করার। এর মধ্যে রাষ্ট্রপতিনির্বাচন করার ব্যাপারে আওয়ামী লীগ সরকারকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতেই হবে।
জাতীয় সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার বিধান রয়েছে । তফসিল ঘোষণাসহ এ নির্বাচন পরিচালনা করে নির্বাচন কমিশন। বর্তমানে জাতীয় সংসদে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণে আওয়ামী লীগ যাকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে মনোনীত করবে তিনিই রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন। ফলে রাষ্ট্রপতি কে হচ্ছেন, এ নিয়ে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রাঙ্গন ছেড়ে পুরো রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা চলছে।
বিশেষ করে আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে নতুন রাষ্ট্রপতির সময়ে। সেজন্যই রাষ্ট্রপতি কে হচ্ছেন, এটি অনেক গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই কে হচ্ছেন পরবর্তী রাষ্ট্রপতি- এ নিয়ে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সহ বিভিন্ন মহলে আলোচনা হচ্ছে।
রাষ্ট্রপতি হওয়ার দৌড়ে এখন পর্যন্ত যাদের নাম আলোচনায় এসেছে তাদের মধ্যে রয়েছেন, আওয়ামী লীগের টানা তিন বারের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, জাতীয় সংসদের বর্তমান স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী, আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু,বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সাবেক বিচারপতি খায়রুল হক, প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ড. মসিউর রহমান, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়ামসদস্য আ ক ম মোজাম্মেল হক। দলের একজন সিনিয়র নেতা বলেছেন, মতিয়া চৌধুরীকে সংসদ উপনেতা করা না হলে উনাকেই রাষ্ট্রপতি করা হতে পারে।
নতুন বছরের শুরুতে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিষয়টি আলোচনায় এসেছে আইন মন্ত্রীর একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে। গত ৪ জানুয়ারি সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছেন, ‘যেহেতু তিনি (বর্তমান রাষ্ট্রপতি) দুই মেয়াদ থেকেছেন, সংবিধান অনুযায়ী আর থাকতে পারেননা। সেহেতু আমরা নতুন রাষ্ট্রপতি দেখব।’ মো. আবদুল হামিদকে তৃতীয় মেয়াদের জন্য রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করতে হলে সংবিধান পাল্টাতে হবে- এ কথা জানিয়ে আইন মন্ত্রীবলেন, ‘এখন পর্যন্ত সংবিধান পাল্টানোর কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই।’
ফলে সংবিধান সংশোধন করে তৃতীয় মেয়াদের জন্য মো. আবদুল হামিদ পুনরায় রাষ্ট্রপতি হচ্ছেন না এটা নিশ্চিত। আর আওয়ামী লীগের দলীয় ফোরমেও জোরেশোরে আলোচনা হচ্ছে নতুন রাষ্ট্রপতি নিয়ে। এখন পর্যন্ত দলীয় ফোরমে আনুষ্ঠানিক ভাবে এ নিয়ে আলোচনা হয়নি। কিংবা দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনাও এ বিষয়টি ফোরামে উল্লেখ করেননি। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ বলছেন, সব কিছু বিবেচনা করে একজন যোগ্য ব্যক্তিকে রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন দেওয়া হবে, যিনি কোনো রকম প্রতিকূল পরিস্থিতি তৈরি হলে দক্ষতার সঙ্গে মোকাবিলা করতে পারেন।
টানা দুই মেয়াদে দায়িত্বে থাকা বর্তমান রাষ্ট্রপতি মো.আবদুল হামিদের মেয়াদ শেষ হচ্ছে ২৩ এপ্রিল। সংবিধান অনুযায়ী একজন রাষ্ট্রপতি দুবারের বেশি রাষ্ট্রপতি পদে থাকতে পারেননা। সংবিধান অনুযায়ী, তৃতীয় মেয়াদে তার আর রাষ্ট্রপতি হওয়ার সুযোগ নেই। ফলে ২৩ এপ্রিলের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হবে।
সংবিধানের ৫০(২) অনুচ্ছেদে বলা আছে, ‘একাদিক্রমে হউক না হউক- দুই মেয়াদের অধিক রাষ্ট্রপতি পদে কোনো ব্যক্তি অধিষ্ঠিত থাকিবেন না।’বর্তমান রাষ্ট্রপতি পর পর দুই মেয়াদে এ দায়িত্ব পালন করে ফেলেছেন। এ কারণে জাতীয়সংসদের মাধ্যমে পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হবে। আগামী ২৪ এপ্রিলের মধ্যেই পরবর্তী পাঁচ বছরের জন্য দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে নতুন কারও শপথ নেওয়ার কথা।
২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল মো.আবদুল হামিদ রাষ্ট্রপতি হিসেবে প্রথম দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এরপর ২০১৮ সালের ২৪ এপ্রিল দ্বিতীয় মেয়াদে রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন তিনি। মো. আবদুল হামিদ রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগে সাত বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হনএবংস্পিকার হিসেবে দুইবার দায়িত্ব পালন করেন। তিনিই একমাত্র ব্যক্তি যিনি টানা দুই মেয়াদে রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এ দায়িত্ব পালন কালে তিনি দলমত ঊর্ধ্বে সবার কাছে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিতে পরিণত হয়েছেন।
এ ছাড়া তিনি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্নেহভাজন ছিলেন। আওয়ামী লীগের সর্বমহলে তিনি জনপ্রিয়। সুনাম ও সাফল্যের সঙ্গে তিনি দায়িত্ব পালন করেছেন বিরোধী দলীয় উপনেতা, ডেপুটি স্পিকার ও দুবার স্পিকার হিসেবে। দীর্ঘ ৪২ বছরের অন্যতম প্রধান কর্মস্থল সংসদ থেকে অধিষ্ঠিত হয়েছিলেন দেশের ২১তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে। রাষ্ট্রের গুরুদায়িত্ব পালন কালেও জনবিচ্ছিন্ন নন আবদুল হামিদ।

