সরকারের পদত্যাগ সহ ১০ দফার চলমান বিএনপি জোটের আন্দোলনের দ্বিতীয় ধাপের কর্মসূচীর বুধবার(১১জানুয়ারি) গণঅবস্থান। সারাদেশের ১০ বিভাগীয় শহরে বেলা ১১টা থেকে বিকাল ৩ টা পর্যন্ত অবস্থান কর্মসূচী চলবে। সেখান থেকে ঘোষণা আসবে আবার নতুন কর্মসূচী। বিএনপি ও তার মিত্রদের ঘনিষ্ট সূত্রগুলোর সাথে কথা বলে জানা গেছে ইস্যু ভিত্তিক কিছু কর্মসূচীর ঘোষণা আসতে পারে। এর মধ্যে আগামী ১৬ জানুয়ারি বিদুৎতের মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে বিদুৎ অফিস ঘেরাও কর্মসূচীর কথা জানা গেছে। এ ছাড়া মানববন্দন, পদযাত্রার মতো কর্মসূচী ও ঘোষণা করা হতে পারে। লিয়াজোঁ কমিটি বসে আজ রাতেই তা চুড়ান্ত করবেন বলে জানা গেছে।
এদিকে আজকের গণঅবস্থান কর্মসূচীকে বড় ধরনের শোডাউনে পরিণত করতে বিএনপি ও জোট সঙ্গীদের জোর তৎপরতা অব্যহত রয়েছে। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগও আজ রাজপথে সর্তক পাহারায় থাকার ঘোষণা দেয়ায় মানুষের মধ্যে এক ধরনের ভয় আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। বিএনপির প্রতিটি কর্মসূচীর জবাবে একই দিন পাল্টা কর্মসূচী দিয়ে আসছে।
ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ বলছে, সম্ভাব্য সন্ত্রাস-নৈরাজ্য ঠেকাতে ‘শান্তি সমাবেশ’ কর্মসূচির মাধ্যমে মাঠে থাকবেন দলটির নেতাকর্মীরা।
এ বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বিএনপির সমাবেশগুলোতে মানুষের ঢল দেখে জনরোষের ভয়ে বিনা ভোটে নির্বাচিত আওয়ামী লীগ সরকার ভয় পেয়ে গেছে। তাই তারা বিএনপির কর্মসূচির দিন পাল্টা কর্মসূচি দিয়ে অবৈধ সরকারের গদি রক্ষার চেষ্টা করছে। কিন্তু লাভ হবে না। জনতার ঢেউয়ে এসব বাধা উড়ে যাবে। শুধু সময়ের ব্যাপার মাত্র।
অন্যদিকে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও তর্থ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, বিএনপি ও তার মিত্ররা আন্দোলনের নামে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে চায়। আর জনগণের জানমালের নিরাপত্তা দেওয়া যে কোনো সরকারের প্রথম ও প্রধান দায়িত্ব। ক্ষমতাসীন দল হিসেবে আওয়ামী লীগেরও দায়িত্ব মানুষের শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা করা। সরকার ও দল সেই দায়িত্ব পালনে যা করার দরকার, সবই করবে।
প্রসঙ্গত,নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনসহ ১০ দফা দাবিতে গণঅবস্থানে মানুষের ঢল নামাতে চায় বিএনপি। ঢাকায় বিএনপি ঘোষিত গণঅবস্থান কর্মসূচি নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সকাল ১১টা থেকে শুরু হবে। চার ঘণ্টার এ অবস্থান কর্মসূচিকে সমাবেশে রূপ দিতে এরই মধ্যে প্রস্তুতি শেষ করেছেন দলটির নেতাকর্মী। ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপির প্রতিটি থানা, ওয়ার্ড, এমনকি ইউনিট পর্যায়ে প্রস্তুতি সভা শেষ করা হয়েছে। একইভাবে দলটির বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতারাও তাঁদের সর্বাত্মক প্রস্তুতি শেষ করেছেন।
বিএনপি নেতারা জানান, বাংলাদেশের মানুষ তার মালিকানা, ভোটাধিকার, আইনের শাসন এবং জীবনের নিরাপত্তা ফিরে পেতে চায়। এ জন্য অবৈধ ফ্যাসিস্ট, দখলদার, অনির্বাচিত ও নির্যাতনকারী সরকারকে বিদায় নিতে হবে। আর তাদের বিদায়ের জন্য বিএনপিসহ গণতন্ত্রকামী অন্যান্য রাজনৈতিক দলও যুগপৎ আন্দোলন করছে। জনগণের সম্মিলিত আন্দোলনে এই সরকারের অবশ্যই বিদায় ঘটবে।
ঢাকার পাশাপাশি অন্যান্য বিভাগীয় শহরেও এ কর্মসূচি সফল করতে কেন্দ্র থেকে টিম গঠন করে দেওয়া হয়েছে। দলের সিনিয়র নেতাদের এসব বিভাগের টিমপ্রধান করে বিভাগীয় নেতা থেকে শুরু করে প্রতিটি জেলা ও মহানগর নেতাদের এ কর্মসূচি বাস্তবায়নে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
বিএনপির দপ্তরের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স জানান, কেন্দ্র থেকে যে টিম গঠন করা হয়েছে, এর সদস্যরা ই ওই সব বিভাগীয় শহরে গেছেন। তাঁদের উপস্থিতিতে গণঅবস্থান কর্মসূচি পালন করা হবে।
জানা গেছে, কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে কুমিল্লা বিভাগের দলনেতা বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু, চট্টগ্রামে মো. শাহজাহান, ময়মনসিংহে আবদুল আউয়াল মিন্টু, ঢাকায় ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, খুলনায় শামসুজ্জামান দুদু, রাজশাহীতে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মিজানুর রহমান মিনু, ফরিদপুরে দলের যুগ্ম মহাসচিব মজিবর রহমান সরোয়ার, সিলেটে অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, বরিশালে হাবিব-উন-নবী খান সোহেল এবং রংপুরে হারুন-অর-রশিদ।
বিএনপি ছাড়াও সাতদলীয় গণতন্ত্র মঞ্চ, ১২ দলীয় জোট, ১২ দলীয় জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট, এলডিপি, জামায়াতে ইসলামী, মোস্তফা মোহসীন মন্টুর নেতৃত্বাধীন গণফোরাম, চার দলের জোট গণতান্ত্রিক বাম ঐক্য এবং ১৫ সংগঠন সমন্বয়ে সমমনা গণতান্ত্রিক জোটের নেতাকর্মী ঘোষিত গণঅবস্থান কর্মসূচি পালনের প্রস্তুতি গ্রহণ করছেন। এদিন রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে একই সময়ে তাঁরা এ কর্মসূচি পালন করবেন।

