যুক্তরাষ্ট্রে পুলিশের গুলিতে বাংলাদেশি শিক্ষার্থী সৈয়দ ফয়সাল আরিফের মৃত্যুর প্রতিবাদে ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সামনে মানববন্ধন করেছে সচেতন নাগরিক সমাজ নামে একটি সংগঠন। একইসঙ্গে এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চেয়েছে সংগঠনটি।
সোমবার(৯জানুয়ারি) দুপুর ১২টায় মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানবন্ধনটি শুরু হয়ে প্রায় আধা ঘণ্টা পর শেষ হয়। এ সময় শতাধিক মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
মানববন্ধন থেকে ‘আমেরিকায় মানবাধিকার আজ কোথায়?’, ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’, যুক্তরাষ্ট্রে আজ মানবাধিকার ভূলুণ্ঠিতসহ নানা প্ল্যাকার্ডে প্রতিবাদ জানায় সংগঠনটি। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ২৬নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর হাসিবুর রহমান মানিক।
কাউন্সিলর হাসিবুর রহমান মানিক বলেন, আমরা সাধারণ জনগণ। যুক্তরাষ্ট্রে আমার এক বাঙালি ভাইকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। তারা মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছে। কথায় কথায় যুক্তরাষ্ট্র মানবাধিকারের কথা বলে। কিন্তু আমাদের বাঙালি যুক্তরাষ্ট্রেই মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার হচ্ছে। তারা যদি এমন করে তাহলে এটা কেমন মানবাধিকার?
তিনি বলেন, এটা আমরা পৃথিবীকে জানাতে চাই। আমাদের দেশে কিছু হলে বিদেশি রাষ্ট্রদূতরা প্রতিবাদ করে। এখন বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতরাও প্রতিবাদ করুক। আমরা এটা করেছি, বিশ্বের প্রতিটি জায়গায় যেন এটা ছড়িয়ে পড়ে।
যুক্তরাষ্ট্রের জ্যেষ্ঠ প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা রিয়ার অ্যাডমিরাল এইলেন লবাখের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল বর্তমানে ঢাকায় অবস্থান করছেন। সোমবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্র সচিবের সঙ্গে তাদের বৈঠকের কথা রয়েছে।
মানববন্ধনে ফয়সালের কোনো আত্মীয়-স্বজন ছিলেন না বলেও জানান কাউন্সিলর।
উল্লেখ্য সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যের ক্যামব্রিজে পুলিশের গুলিতে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এক শিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন। নিহত শিক্ষার্থীর নাম সাইদ ফয়সাল।
জানা গেছে, নিহত ফয়সালের গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে। তিনি ইউনিভার্সিটি অব বোস্টনে (ইউম্যাস) লেখাপড়া করতেন। তার পরিবারের প্রায় সবাই বোস্টনে বাস করেন।
মার্কিন সম্প্রচারমাধ্যম সিসিএস নিউজ জানিয়েছে, স্থানীয় সময় বুধবার (৪ জানুয়ারি) দুপুরে সাইদ ফয়সাল নামের ওই শিক্ষার্থী পুলিশের গুলিতে গুরুতর আহত হন। আহত অবস্থায় তাকে ম্যাসাচুসেটস জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করার পর তার মৃত্যু হয়।
পুলিশের দাবি, তারা গুলি করার আগে ওই তরুণ ধারালো ছুরি হাতে পুলিশের দিকে এগিয়ে যান। তাকে থামাতে প্রথমে স্পঞ্জ রাউন্ড ছোড়া হয়েছিলো।
কিন্তু এতেও তিনি না থেমে পুলিশের দিকে আসতে থাকেন। তখন একজন পুলিশ কর্মকর্তা গুলি চালান।

