আগামীকাল শুক্রবার(৩০ডিসেম্বর) ঢাকায় বিএনপি জোটের ডাকা গণমিছিলের দিন। গত ১০ ডিসেম্বর ঢাকার গণসমাবেশ থেকে এ কর্মসূচী ঘোষণা করা হয়েছিল ২৪ ডিসেম্বর। কিন্তু এ দিন আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলন থাকায় দলটির অনুরোধে ৩০ ডিসেম্বর করা হয়েছে। এ গণমিছিলকে কেন্দ্র করে বিএনপি জোটের বিশাল প্রস্তুুতি। তারা যুগপৎ ভাবে এ কর্মসূচী পালন করতে কয়েকদিন থেকে জোর প্রস্তুুতি নিতে দেখে গেছে।
ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের পতন, নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্বাবধায়ক সরকারের অধিনে জাতীয় নির্বাচন, সকল রাজবন্দিদের মুক্তিসহ ১০ দফা দাবিতে আন্দোলন শুরু করেছে বিএনপি জোট।
বিএনপির এই আন্দোলনে যুক্ত হয়েছে গণতন্ত্র মঞ্চ, ১২ দলীয় জোট, সাত দলীয় জোট, জামায়াত ও এলডিপিসহ আরও কয়েকটি রাজনৈতিক দল।
এদিকে আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির পূর্বঘোষিত গণমিছিল নয়াপল্টন থেকে শুরু হয়ে মগবাজার চৌরাস্তায় গিয়ে শেষ হবে বলে জানিয়েছেন দলটির ভাইস-চেয়ারম্যান ও ঢাকা বিভাগীয় গণমিছিলের প্রধান সমন্বয়ক ডা.এ জেড এম জাহিদ হোসেন।
তিনি বলেন, আমাদের গণমিছিল হবে শান্তিপূর্ণ। আগামীকাল দুপুর ২ টায় নেতাকর্মীরা জমায়েত হয়ে মিছিলটি নয়াপল্টনস্ত দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে শুরু হয়ে কাকরাইল, শান্তিনগর, মালিবাগ হয়ে মগবাজার চৌরাস্তা ঘুরে ফের নয়াপল্টনে এসে শেষ হবে।
ঢাকাবাসীকে গণমিছিল সফল করার আহ্বান জানিয়ে ডা.জাহিদ বলেন, গণমিছিল করা আমাদের সাংবিধানিক অধিকার। সেটার জন্যই আমরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সহযোগিতা চাওয়ার জন্য ডিএমপি কার্যালয়ে গিয়েছিলাম। ডিএমপি আমাদেরকে সর্বাতœক সহযোগিতা করবে।
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফৎ আলী সপু, নির্বাহী কমিটির সদস্য নাজিম উদ্দীন আলম, ইকবাল হোসেন শ্যামল, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সদস্য সচিব আমিনুল হক, ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নিপুন রায় চৌধুরী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
কাল শুক্রবার ঢাকায় গণমিছিলের প্রস্তুতি হিসেবে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপি প্রায় প্রতিদিনই যৌথসভা, সমন্বয় সভা ও প্রস্তুতি সভা করছে। একইভাবে দলটির প্রতিটি অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরাও পৃথকভাবে প্রস্তুতি সভা শুরু করেছেন।
বিএনপির পাশাপাশি শরিক দলগুলোও তাদের সক্ষমতা দেখাতে চায়। গণতন্ত্র মঞ্চ, ১২ দলীয় জোটও নানা উদ্যোগ নিয়েছে। নিজেদর মধ্যে একাধিকবার যৌথসভা করেছে। জোটগতভাবে প্রস্তুতির পাশাপাশি দলীয়ভাবেও নানান উদ্যোগ নিয়েছে। এদিকে রাজধানীতে সরকার বিরোধী গণমিছিল সফল করতে মাঠে থাকছে জামায়ত। ইতোমধ্যে নানা প্রস্তুতি শেষ করেছে বলে জানা গেছে।
সাত দল নিয়ে গঠিত গণতন্ত্র মঞ্চে। এ জোটের অন্যতম দল গণসংহিত আন্দোলন। দলটির প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি বলেন,৩০ ডিসেম্বর গণমিছিল করবো। কর্মসূচি ঘোষণা আগেই করা হয়েছে। গণতন্ত্র মঞ্চের সাতটি দল এক সঙ্গে এই কর্মসূচি পালন করবে। মিছিল সামনে রেখে গণতন্ত্র মঞ্চ সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়েছে। আমরা জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে থেকে মিছিল শুরু করবো।
লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি-এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল অলি আহমেদ বলেন, ৩০ ডিসেম্বর গণমিছিলের ১০০ ভাগ প্রস্তুতি শেষ করেছে এলডিপি। এলডিপির অফিসের সামনে থেকে বিকাল ৩টায় মিছিল শুরু হবে। মালিবাগ মোড়ে এসে মিছিল শেষ হবে।
বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু স্লোগান নিউজকে বলেন, আমাদের এই কর্মসূচি ছিলো ২৪ ডিসেম্বর। এদিন আওয়ামী লীগের সম্মেলন থাকার করণে আমাদের গণমিছিল না করার অনুরোধ করেছিলো। এজন্য ঢাকায় গণমিছিলের তারিখ পিছিয়ে ৩০ ডিসেম্বর করা হয়েছে। গণমিছিল সফল করতে সব ধরণের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। সারাদেশে আমাদের বিভাগী গণসমাবেশ ও গণমিছিল সফল হয়েছে। নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষও আমাদের কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছে। আগামী ৩০ ডিসেম্বরের গণমিছিলেও অংশ নিবে।

