চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার উপর দিয়ে যাওয়া সর্তা খালের ভাঙ্গন তীব্র আকার ধারণ করেছে। বর্ষায় ভাঙ্গন অব্যাহত থাকলে ও বর্তমানে বৃস্টি কমলে নদীর পানি কমে যাওয়ার সাথে সাথে ভাঙ্গন প্রক্রিয়া আরও তীব্রতর হচ্ছে। মারাত্মক ভাঙনে ইতোমধ্যে বিলীন হয়ে গেছে এ উপজেলার খিরাম ও ধর্মপুর ইউনিয়ন এলাকায় নদী তীরবর্তী কয়েক’শ বসতবাড়ি ও শত শত একর কৃষি জমি। ভাঙ্গনে ভিটে মাটি হারিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে অনেক পরিবার ও হাজার হাজার মানুষ। হুমকির মুখে রয়েছে আরো অনেক ঘরবাড়ি সহ শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের অভিযোগ ভাঙ্গনস্থানে শুধুমাত্র সার্ভেতেই সীমাবদ্ধ পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাজ। তবে পাউবো’র দাবি অর্থবরাদ্ধপেলে দ্রুত খালের ভাঙন রোধে কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করবে তারা।
জানা যায়, বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তবর্তী পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকা থেকে উৎপত্তি হয়ে ফটিকছড়ির খিরাম ও ধর্মপুর ইউনিয়নের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে সর্তা খাল। এ খালের তীব্র ¯্রােতের কবলে পড়ে নদীর ভাঙ্গনে সহায় সম্বল ভিটে মাটি হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছে দুই ইউনিয়নের মগকাটা, হচ্ছারঘাট সমিতিরহাট ও পূর্ব ধর্মপুর এলাকার শত শত পরিবার। ভাঙনের কবলে বহু পরিবার এলাকা ছেড়ে অন্যত্র চলে যেতে বাধ্য হয়েছে। বর্ষা মৌসুমে ভারি বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে দুই ইউনিয়নের সর্তার খাল ভাঙনের কবলে পড়ে বহু পরিবার এলাকা ছেড়ে অন্যত্র চলে যেতে বাধ্য হয়েছে। প্রতি বর্ষা মৌসুমে চরম উৎকণ্ঠায় দিনাতিপাত করে সর্তা পাড়ের হাজারো মানুষ।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, খিরাম ও ধর্মপুর ইউনিয়নের পূর্বপাশের অধিকাংশ এলাকা ভাঙন ঝুঁকিতে রয়েছে। এতে কৃষি জমি, বসতবাড়ি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয়সহ নানা স্থাপনা হুমকির মুখে পড়েছে।
স্থানীয়রা জানান, গত দুই/তিন কয়েক বছরে প্রায় চার শতাধিক পরিবার বসতভিটা হারিয়ে অন্যত্র চলে গেছে। খালের গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে কয়েকশ একর কৃষি জমি। এ ভাবে ভাঙন অব্যাহত থাকলে এবং ভাঙ্গন প্রতিরোধে জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে সবই নদীতে বিলীন হয়ে যাবে বলে আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।
সর্তা খাল এলাকার বাসিন্দা লাইলা বেগম ও আনোয়ারা বেগম বলেন, কয়েক বছর আগে আমাদের পূর্ব পুরুষের বাড়িসহ বসতভিটা খালে হারিয়ে গেছে। এখন অন্যের জায়গায় বসবাস করছি। তাও এখন হুমকির মুখে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও সংবাদকর্মী ইফতেখার আসিফ জানান, এই এলাকায় খালের ভাঙন ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। বিগত দিনে অন্তত দুইশ’ বাড়ি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। এখনই খাল ভাঙন ঠেকাতে না পারলে অন্যান্য স্থাপনাগুলোও বিলীন হয়ে যাবে।
ধর্মপুর ইউনিয়নেরন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল কাইয়ুম জানান, পূর্ব ধর্মপুরে কয়েক বছর ধরেই ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। অস্থায়ী গাইড বাঁধ নির্মাণ করা হলেও পানির শ্রোতে আবারও ভেঙে যায়। তবে স্থায়ীভাবে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ড বরাবর আবেদন করেছি। তারা একবার এসে বেরী বাঁধ নির্মাণের জন্য সার্ভে করে গেলেও এখন পর্যন্ত কোনো কাজ বা খাল ভাঙ্গন ঠেকাতে কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করতে দেখা যায়নি।
চট্টগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ড ডিবিশন-১ এর উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী আরিফুর রহমান বলেন, প্রয়াজনীয় অর্থ বরাদ্ধ নিশ্চিত করতে মন্ত্রণালয়ে চাহিদাপত্র প্রেরণ করা হয়েছে। অর্থবরাদ্দ পেলে যত দ্রুত সম্ভব খালের ভাঙন রোধে দ্রুত কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
চট্টগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ড ডিভিশন-১এর নির্বাহী প্রকৌশলী তয়ন কুমার ত্রিপুরা বলেন সর্তা খালটি পাহাড় থেকে উৎপত্তি। তাই বর্ষা এলেই উজানের পানি প্রবাহ বেড়ে গিয়ে প্রবল ¯্রােতের সৃস্টি হয়। এসময় খালের দুই তীরের ভাংগন বেড়ে যায়। ভা্গংন রোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহন করা হচ্ছে।

