চলতি বছরে বাংলাদেশে এ পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ১৮২ জন মারা গেছেন, যা এক বছরে সর্বোচ্চ। এ বছর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৪৪ হাজার ৮০২ জন, যা এক বছরে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। বিশেষজ্ঞরা বছরের শুরুতেই বলেছিলেন, এ বছর দেশে ডেঙ্গু ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে। তাদের সেই অনুমানেই সত্য হয়েছে।
কীটতত্ত্ববিদরা বলছেন, এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে সঠিক সময়ে কার্যকর উদ্যোগ না নেওয়ার কারণে ডেঙ্গু পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। চলতি মাসের মাঝামাঝি সময় থেকে ডেঙ্গুর তীব্রতা কমতে শুরু করবে বলে আশা করছেন তারা।
তবে, অন্যান্য বছর যে হারে রোগী কমেছিল, এ বছর সে হারে নাও কমতে পারে। জনসচেতনতাই ডেঙ্গু প্রতিরোধে সহায়তা করতে পারে বলে মনে করছেন তারা।
বাংলাদেশে প্রথম ডেঙ্গু রোগের তথ্য রেকর্ড করা হয় ২০০০ সালে। সেই বছর ডেঙ্গুতে ৯৩ জনের মৃত্যু হয় এবং ৫ হাজার ৫৫১ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। দেশে ডেঙ্গু সবচেয়ে ভয়াবহ আকার ধারণ করে ২০১৯ সালে। ওই বছর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ১৭৯ জনের মৃত্যু হয় এবং হাসপাতালে ভর্তি হন ১ লাখ ১ হাজার ৩৫৪ জন। গত বছর দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত ১০৫ জন মারা যান এবং হাসপাতালে ভর্তি হন ২৮ হাজার ৪২৯ জন।
কীটতত্ত্ববিদ ড. মনজুর আহমেদ চৌধুরী বলেন, ‘মেয়র হানিফের পর ঢাকা নগরীতে ডেঙ্গু প্রতিরোধে কেউ তেমন কার্যকর উদ্যোগ নিতে পারেননি। এ বছর ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুরুর দিকে যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে সেগুলো কার্যকর ছিল না বলেই ডেঙ্গু এই ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। আমরা রোগী ও মৃত্যুর যে তথ্য পাই, এর বাইরেও অনেকেই ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হচ্ছেন এবং মারা যাচ্ছেন। ঢাকার বাইরে এডিস অ্যালবোপিকটাস মশা ডেঙ্গু ছড়াচ্ছে। এই এডিস অ্যালবোপিকটাস মশা ঝোপ-ঝাড়, গাছপালার মধ্যে থাকে। কাজেই জনগণের সচেতন হওয়া ছাড়া এখন আর ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব না।’
এই কীটতত্ত্ববিদের পরামর্শ, ‘এই মুহূর্তে সিটি করপোরেশনের করার কিছু নেই। একমাত্র জনসচেতনতাই পারবে মানুষকে ডেঙ্গু থেকে বাঁচাতে। ডেঙ্গু থেকে বাঁচতে বাসায় সকাল-বিকেল অ্যারোসেল স্প্রে করতে হবে, শিশু থেকে শুরু করে সব বয়সের মানুষকে ফুলশার্ট, ফুলপ্যান্ট এবং হাতে ও পায়ে মোজা পরে থাকতে হবে। দিনে ঘুমালে অবশ্যই মশারির ভেতর ঘুমাতে হবে।’
কীটতত্ত্ববিদ অধ্যাপক কবিরুল বাশার বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তন ও অপরিকল্পিত নগরায়নের ফলে ডেঙ্গুর বাহক এডিস মশার ঘনত্ব বেড়েছে। চলতি বছরে মে মাসে ডেঙ্গুর মৌসুম শুরু হয়। আমরা শুরুতেই কার্যকরভাবে এডিস মশা নিয়ন্ত্রণ করতে পারিনি। এর ফলে জ্যামিতিক হারে মশা বেড়ে ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে ডেঙ্গু পরিস্থিতি।’
তিনি বলেন, ‘বৃষ্টিপাত, আর্দ্রতা, তাপমাত্রা, এডিস মশার ঘনত্ব এবং ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা দেখে মনে হচ্ছে, শিগগির ডেঙ্গু পরিস্থিতির উন্নতি হবে না। তবে আশা করছি, নভেম্বরের মাঝামাঝি সময় থেকে রোগী কমতে শুরু করবে। তবে তা অন্যান্য বছরের মতো কমবে না।’
ইমা

