বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট ২০২৬

আমিরাতে প্রাক ইসলাম যুগের খৃষ্টান মঠ আবিস্কার

- Advertisement -
Single page 1st Paragraph

সংযুক্ত আরব আমিরাতের উপকূলের একটি দ্বীপে প্রাচীন একটি খ্রিস্টান মঠ আবিষ্কৃত হয়েছে। দেশটির কর্মকর্তারা গত বৃহস্পতিবার এ কথা জানিয়েছেন। এই মঠটি খুব সম্ভবত আরব দেশগুলিতে ইসলাম ধর্ম প্রসারের আগে নির্মিত হয়েছিল।

ডয়চে ভেলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সিনিয়াহ দ্বীপের মঠটি পারস্য উপসাগরের তীরে প্রাথমিক খ্রিস্টধর্মের ইতিহাসে নতুন দিশা দেখাল। উম আল-কুওয়াইনের শেখডমের অংশ সিনিয়াহ। আমিরাতে পাওয়া দ্বিতীয় মঠ এটি। প্রায় এক হাজার ৪০০ বছরের মঠটি যখন তৈরি হয়, তখন মরুভূমির বিস্তার ঘটেনি। এখনকার মতো সমৃদ্ধ তেল শিল্পের সূচনাও হয়নি। আবুধাবি এবং দুবাইয়ের আকাশছোঁয়া অট্টালিকা তখন কল্পনার বাইরে ছিল।

সময়ের ইতিহাসের কাছে হারিয়ে যায় দুটি মঠ। পণ্ডিতরা বিশ্বাস করেন, খ্রিস্টানরা ধীরে ধীরে ইসলাম ধর্ম নেন। ইসলাম পরবর্তীতে অনেক বেশি প্রচলিত হয়। আজ খ্রিস্টানরা বৃহত্তর মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে সংখ্যালঘু। এরই মাঝে পোপ ফ্রান্সিস বৃহস্পতিবার মুসলিম নেতাদের সঙ্গে আন্তঃধর্মীয় সংলাপ প্রচারের জন্য নিকটবর্তী বাহরাইনে গিয়েছেন।

সংযুক্ত আরব আমিরাত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতœতত্ত্বের সহযোগী অধ্যাপক টিমোথি পাওয়ার এই মঠ আবিষ্কারের কাজে যুক্ত। তার কথায়, সংযুক্ত আরব আমিরাত ‘একটি জাতির গলিত পাত্র’। তার কথায়, ‘হাজার বছর আগে এখানে অসাধারণ কিছু ঘটেছিল। সেই কথা জানা প্রয়োজন।’

মঠটি সিনিয়াহ দ্বীপে অবস্থিত। এটি উম্ম আল-কুওয়াইনের খোর আল-বেইদা জলাভূমিকে রক্ষা করে। পারস্য উপসাগরের উপকূল বরাবর দুবাই থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার (৩০ মাইল) উত্তর-পূর্বের আমিরাত দ্বীপ এটি।

এর নামের অর্থ হল ‘ফ্ল্যাশিং লাইট’, সম্ভবত তপ্ত সূর্যের প্রভাবের কারণ এই নাম। বালির স্তূপের ফাঁক দিয়ে সূর্যের আলো এসে পড়ে মরুভূমিতে। দ্বীপের উত্তর-পূর্ব দিকে প্রতœতাত্ত্বিকরা মঠটি খুঁজে পেয়েছেন।

৫৩৪ এবং ৬৫৬ সালের মধ্যে মঠের ভিত্তি তারিখে নমুনার কার্বন ডেটিং করা হয়েছে। ইসলামের নবী মোহাম্মদ (সা:) জন্মগ্রহণ করেন ৫৭০ সালে। বর্তমান সৌদি আরবের মক্কা জয় করার পর ৬৩২ সালে মৃত্যু হয় তার।

উপর থেকে দেখা গেলে বোঝা যাবে, সিনিয়াহ দ্বীপে খ্রিস্টান উপাসকরা চার তলার মঠের একটি একক ঘরের গির্জার মধ্যে প্রার্থনা করতেন। ভিতরের কক্ষগুলিতে ব্যাপটিজমাল হরফ রয়েছে। রুটি বেক করার জন্য একটি চুলা বা গোষ্ঠীবদ্ধ রীতিপালনের জন্য ওয়েফার রয়েছে। একটি বেদিও ছিল সেখানে। গির্জার মূল অংশে ওয়াইনের জন্য একটি ইনস্টলেশনও ছিল।

মঠের পাশে চারটি ঘরের দ্বিতীয় ভবন রয়েছে। সম্ভবত চারপাশে মঠের উঠান ছিল। অনুমান করা হচ্ছে, গির্জা বা মঠের প্রথম বিশপের বাড়ি ছিল এটি। বৃহস্পতিবার সংযুক্ত আমিরাতের সংস্কৃতি ও যুব মন্ত্রী নওরা বিনত মোহাম্মদ আল-কাবি এবং উম্ম আল-কুওয়াইনের পর্যটন ও প্রত্মতত্ত্ব বিভাগের চেয়ারম্যান, আমিরাতের শাসকের ছেলে শেখ মজিদ বিন সৌদ আল মুল্লা এটি পরিদর্শন করেন।

দ্বীপটি শাসক পরিবারের সম্পত্তির অংশ হিসেবে রয়ে গেছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের বেশিরভাগ অংশ দ্রুত বিকশিত হয়েছে। তাই এই জায়গাগুলি দ্রুত আবিষ্কার করে সংরক্ষণের চেষ্টা হচ্ছে।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের সংস্কৃতি মন্ত্রক এই খননকাজে অর্থায়ন করেছে। খননের কাজ এখনো চলছে। প্রত্মতাত্ত্বিকরা বিশ্বাস করেন, গির্জা থেকে মাত্র কয়েকশ মিটার (গজ) দূরে, ভবনগুলি প্রাক-ইসলামি গ্রামের অংশ ছিল।

দ্বীপের অন্য অংশে কাছাকাছি একটি গ্রামও রয়েছে, যেটিকে ব্রিটিশরা ১৮২০ সালে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে উড়িয়ে দিয়েছিল। এই অঞ্চলটি ট্রুশিয়াল স্টেটস নামে পরিচিত ছিল। এটিকেই সংযুক্ত আরব আমিরাতের সূচনা বলা যায়। সেই গ্রামের ধ্বংসলীলা মূল ভূখণ্ডে উম আল-কুওয়াইনের আধুনিক কাঠামো তৈরি করেছে।

ইতিহাসবিদরা বলেছেন, শুরুর দিকের গির্জা এবং খ্রিস্টান মঠগুলি পারস্য উপসাগর বরাবর বর্তমান ওমানের উপকূল এবং ভারত পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছিল। প্রতœতাত্ত্বিকরা বাহরাইন, ইরাক, ইরান, কুয়েত এবং সৌদি আরবে অনুরূপ গির্জা এবং মঠ খুঁজে পেয়েছেন।

নয়ের দশকের গোড়ার দিকে, প্রত্মতাত্ত্বিকরা সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রথম খ্রিস্টান মঠটি স্যার বানি ইয়াস দ্বীপে আবিষ্কার করেন। এটি আজ সৌদি সীমান্তের কাছে আবু ধাবির উপকূলে একটি প্রকৃতি সংরক্ষণ এবং বিলাসবহুল হোটেলের জন্য বিখ্যাত। উম আল-কুওয়াইনে আবিষ্কৃত মঠের সময়কালেই সেটি তৈরি হয়েছিল বলে ধারণা।

উম আল-কুওয়াইনের খোর আল-বেইদা জলাভূমির প্রাথমিক জীবনের প্রমাণটি নিওলিথিক যুগের। পাওয়ার বলেন, অন্তত ১০ হাজার বছর ধরে এই এলাকায় মানুষের বসবাস ছিল।

জলাভূমির কাছাকাছি এলাকাটি আমিরাতের বারাকুডা বিচ রিসোর্টে কম দামের মদের দোকানের জন্য বেশি পরিচিত। সাম্প্রতিক মাসগুলিতে, কর্তৃপক্ষ ‘মৃত্যুর বণিক’ নামে পরিচিত একজন রাশিয়ান বন্দুকবাজের সঙ্গে যুক্ত একটি সোভিয়েত-যুগের কার্গো প্লেন ধ্বংস করতে বাধ্য হয়েছে। কারণ এটি ৬৭৫ মিলিয়ন ডলার দিয়ে রিয়েল এস্টেট উন্নয়নের জন্য সিনিয়াহ দ্বীপে একটি সেতু তৈরি করছে।

পাওয়ার বলেন, উন্নয়ন প্রত্মতাত্ত্বিক কাজকে উত্সাহ দেয়ায় মঠটি আবিষ্কার করা গিয়েছে। এলাকাটিকে ঘিরে ফেলে সুরক্ষিত করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি। তার কথায়, অতীতের কোন রহস্যগুলি দ্বীপের বালির পাতলা স্তরের নীচে লুকিয়ে রয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তার কথায়, ‘এটি সত্যিই একটি আকর্ষণীয় আবিষ্কার, কারণ এটি গুপ্ত এক ইতিহাস। এটির কথা ব্যাপক অর্থে সবাই জানেন না।’

ইউডি

এই বিভাগের সব খবর

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহত যোদ্ধা মিতুর খোঁজ নিলেন প্রধানমন্ত্রী

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহত যোদ্ধা মিতুর খোঁজ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আহত যোদ্ধা মিতু হাসপাতালের শয্যা থেকে আজ সরাসরি ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’- এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে...

পুনর্গঠিত হয়েছে চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ড

দেশের চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন কার্যক্রমকে আরও গতিশীল, আধুনিক ও সমন্বিত করার লক্ষ্যে ১৫ সদস্যের ‘বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ড’ পুনর্গঠন করেছে সরকার। সম্প্রতি তথ্য ও সম্প্রচার...

জুলাই গণহত্যায় জড়িত সবার বিচার নিশ্চিত করবে সরকার : ভূমি প্রতিমন্ত্রী

ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন বলেছেন, ‘জুলাই গণহত্যার সাথে জড়িত সবার বিচার এই সরকার নিশ্চিত করবে। ১৭...

সর্বশেষ

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহত যোদ্ধা মিতুর খোঁজ নিলেন প্রধানমন্ত্রী

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহত যোদ্ধা মিতুর খোঁজ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক...

পুনর্গঠিত হয়েছে চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ড

দেশের চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন কার্যক্রমকে আরও গতিশীল, আধুনিক ও সমন্বিত...

জুলাই গণহত্যায় জড়িত সবার বিচার নিশ্চিত করবে সরকার : ভূমি প্রতিমন্ত্রী

ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর...

নতুন বাংলাদেশের পথচলা শুরু হবে জুলাই স্মৃতি জাদুঘর থেকে : অধ্যাপক ইউনূস

অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন,...

ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে হত্যাকাণ্ডের বিচার হবে স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য : প্রধানমন্ত্রী

ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে হতাহতদের পরিবারের শোকাহত সদস্যদের আশ্বস্ত করে প্রধানমন্ত্রী...

জুলাই স্মৃতি জাদুঘরের দুয়ার খুলেছে, উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতিচিহ্ন ধরে রাখার জন্য গড়ে তোলা জুলাই...