বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ২২তম জাতীয় সম্মেলনের সাদামাটা আয়োজন বাস্তবায়ন করতে দলের ১১টি উপ-কমিটির কাছে নিজস্ব বাজেট প্রস্তাব চেয়েছে আওয়ামী লীগ।
সম্মেলনের ব্যয়ভার কমানোর স্বার্থে আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলনসহ অন্যান্য সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের সম্মেলন সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের একইমঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে।
এই নিয়ে শুক্রবার বিকেলে ধানমন্ডিতে দলীয় সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে আওয়ামী লীগের অর্থ উপ-কমিটির এক জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় আগামী সাত দিনের মধ্যে উপকমিটিগুলোকে স্ব স্ব পক্ষের বাজেট জমা দিতে বলা হয়েছে। উপকমিটির কাছ থেকে বাজেট পাওয়ার পর অর্থ উপকমিটি সেগুলো পর্যালোচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। আগামী সাত দিনের মধ্যে বাজেট বিষয়ে ফের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
আওয়ামী লীগ দফতর সেল জানানো হয়, অর্থ উপকমিটির আহ্বায়ক আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজী জাফরউল্লাহর সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য আমির হোসেন আমু, শাহাবুদ্দিন চুপ্পু, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য লে. কর্নেল (অব.) ফারুক খান, জাহাঙ্গীর কবির নানক, আব্দুর রহমান, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীরবিক্রম, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দীন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম, দফতর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক ড. সেলিম মাহমুদ, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আবদুল মোমেন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম, সাংস্কৃতিক বিষয়ক উপকমিটির চেয়ারম্যান আতাউর রহমান আজকের জরুরি সভায় উপস্থিত ছিলেন।
সভায় আওয়ামী লীগের ২২ তম জাতীয় সম্মেলনকে সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করতে অর্থ- উপকমিটির নেতৃবৃন্দকে নির্দেশনা দেওয়া হয়।
আগামী ২৪ ডিসেম্বর ২২তম জাতীয় সম্মেলন উপলক্ষে ১১টি সম্মেলন প্রস্তুতি উপ-কমিটি গঠন করেছে আওয়ামী লীগ। ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।
আওয়ামী লীগের সম্মেলন ঘিরে অভ্যর্থনা উপকমিটির আহ্বায়ক শেখ ফজলুল করিম সেলিম এবং সদস্য সচিব ডা. দীপু মনি, অর্থ উপকমিটির আহ্বায়ক কাজী জাফরউল্লাহ এবং সদস্য সচিব এইচ এন আশিকুর রহমান, ঘোষণাপত্র উপকমিটির আহ্বায়ক শেখ ফজলুল করিম সেলিম এবং সদস্য সচিব আব্দুর রহমান, দফতর উপকমিটির আহ্বায়ক অনুপম সেন এবং সদস্য সচিব ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, গঠনতন্ত্র উপকমিটির আহ্বায়ক ড. আবদুর রাজ্জাক এবং সদস্য সচিব ড. সেলিম মাহমুদ, প্রচার ও প্রকাশনা উপ কমিটির আহ্বায়ক মো. শাহাবুদ্দিন চপ্পু এবং সদস্য সচিব আবদুস সোবহান গোলাপ, স্বেচ্ছাসেবক ও শৃঙ্খলা উপকমিটির আহ্বায়ক আবুল হাসনাত আব্দুল্লাহ এবং সদস্য সচিব আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, মঞ্চ ও সাজসজ্জা উপকমিটির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক এবং সদস্য সচিব মির্জা আজম, সাংস্কৃতিক উপকমিটির আহ্বায়ক আতাউর রহমান এবং সদস্য সচিব অসীম কুমার উকিল, খাদ্য উপকমিটির আহ্বায়ক মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীরবিক্রম এবং সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম, স্বাস্থ্য উপকমিটি আহ্বায়ক মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন এবং সদস্য সচিব ডা. রোকেয়া সুলতানা।
নির্বাচন কমিশনে দলের আয়-ব্যয়ের হিসাব জমা দেওয়ার তথ্য থেকে জানা যায়, ২০২১ সালে দলটির আয় হয়েছে ২১ কোটি ২৩ লাখ ৪৬ হাজার ১০৬ টাকা। অন্যদিকে এ বছরে দলটির মোট ব্যয় হয়েছে ৬ কোটি ৩০ লাখ ১৯ হাজার ৮৫২ টাকা। রোববার (৩১ জুলাই) সকালে আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ এইচ এন আশিকুর রহমান ইসি সচিব মো. হুমায়ুন কবীর খোন্দকারের কাছে তাদের ২০২১ সালের অডিট রিপোর্ট জমা দিয়েছিলেন।
দলের হিসাবে বলা হয়েছে, গত ২০২০ সালের তুলনায় ২০২১ সালে আওয়ামী লীগের আয় দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে। ২০২০ সালে এ আয়ের পরিমাণ ছিল ১০ কোটি ৩৩ লাখ ৪৩ হাজার ৫৩৩ টাকা। ফলে আগের বছরের তুলনায় ১০ কোটি ৯০ লাখ ২ হাজার ৫৭৩ টাকা বেশি হয়েছে।
বছর শেষে আওয়ামী লীগের ব্যাংকে স্থিতি ছিল ৭০ কোটি ৪৩ লাখ ৭০ হাজার ১৬৬ টাকা। এর আগের বছর (২০২০ সালে) শেষে স্থিতি ছিল ৫০ কোটি ৭৬ লাখ ৩৭ হাজার ১৯৪ ঢাকা। ২০২০ পঞ্জিকা বছরের তুলনায় ১৪ কোটি ৯৩ লাখ ২৬ হাজার ২৫৫ টাকা দলটি আয় বৃদ্ধির কারণ হিসেবে জানিয়েছে মনোনয়ন ফরম বিক্রয় ও প্রাথমিক সদস্য সংগ্রহ ফরম বিক্রয়। আয়ের প্রধান খাতগুলো মনোনয়ন ফরম বিক্রয়, প্রাথমিক সদস্য সংগ্রহ ফরম বিক্রয় ও সম্পত্তি হতে আয়।
এদিকে ২০২১ সালে আয় বাড়লেও ব্যয় কমেছে দলটির। ২০২১ সালে আওয়ামী লীগের মোট ব্যয় হয়েছে ৬ কোটি ৩০ লাখ ১৯ হাজার ৮৫২ টাকা। ২০২০ সালে ব্যয় ছিল ৯ কোটি ৯৪ লাখ ৪৯ হাজার ৯৩১ টাকা। ২০২০ পঞ্জিকা বছরের তুলনায় ৩ কোটি ৬৪ লাখ ৩০ হাজার ৭৯ টাকা কম হয়েছে।
ব্যয় কমার কারণ হিসেবে তারা জানিয়েছে, ২০২০ সালে কোভিড অতিমারিতে দলীয় নেতাকর্মীদের আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছিল। কিন্তু ২০২১ পঞ্জিকা বছরে নগদ অর্থ বিতরণের পরিমাণ কম ছিল। ব্যয়ের প্রধান খাতগুলো কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতন ভাতা বাবদ, সংগঠন পরিচালন ব্যয়, অফিস ভাড়া, প্রচার ও প্রকাশনা।
২০২১ পঞ্জিকা বছরে আওয়ামী লীগের বছর শেষে উদ্বৃত্ত ছিল ১৪ কোটি ৯৩ লাখ ২৬ হাজার ২৫৪ টাকা। ২০২০ পঞ্জিকা বছরের তুলনায় এর পরিমাণ ১৪ কোটি ৫৪ লাখ ৩২ হাজার ৬৫৩ টাকা বেশি।
ইউডি

