ভারতের গুজরাট রাজ্যের মোরবিতে মাচ্ছু নদীর ওপর নির্মিত ঝুলন্ত সেতু ধসে অন্তত ১৪১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এখনও অনেকে নিখোঁজ রয়েছেন। মৃত ও নিখোঁজদের মধ্যে অধিকাংশই নারী ও শিশু। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত দুই শতাধিক লোক।
মাচ্ছু নদীর উপর ১৮৮০ সালে ব্রিটিশরা সাড়ে তিন লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করেছিল ঐতিহাসিক এই ঝুলন্ত সেতু। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর টানা সাত মাস সংস্কার শেষে গত ২৬ অক্টোবর খুলে দেওয়া হয়েছিল সেতুটি।
জানা যায়, একসাথে ১২৫ জন মানুষের ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন ৭৬৫ ফিট দৈর্ঘ্যের সেতুটিতে ছটপূজা উপলক্ষে ৪০০-৫০০ মানুষ উঠে পড়েছিল। আবার অনেকে বলছেন সেতুটি খুলে দেওয়ার পর থেকে উৎসুক মানুষজন প্রতিদিনই ভিড় করছিল। এই মর্মান্তিক পরিণতির ২৪ ঘণ্টা আগেই ওই সেতুতে ধরা পড়েছিল অন্য এক ছবি। যাতে দেখা যায়, শত শত লোক দাঁড়িয়ে রয়েছে ওই ঝুলন্ত সেতুতে।
এদিকে দুর্ঘটনার পরপরই সোস্যাল মিডিয়ায় একাধিক ভিডিও পোস্ট করা হয়। সেখানে দেখা যাচ্ছে, শত শত মানুষ ওই ব্রিজে উঠে পড়েছে। কেউ সেই ব্রিজে উঠে লাফাচ্ছেন, কেউ মারছেন রেলিংয়ে লাথি। প্রবলভাবে দুলতে থাকে সেতুটি। এমনই একটি ভিডিয়ো প্রকাশ্যে এসেছে। যদিও ওই ভিডিওটির সত্যতা যাচাই করা যায়নি।
এনডিটিভি সূত্রে খবর, রোববার সন্ধ্যা ৬টা ৪২ মিনিটে ভেঙে পড়ে সেতুটি। ওই সময় ছটপুজো উপলক্ষে প্রায় ৫০০ মানুষের জমায়েত হয়েছিল। তা হলে কি অতিরিক্ত মানুষের চাপ সামলাতে না পেরেই ভেঙে পড়ল সেতুটি?
জানা গেছে, সংস্কারের পর গত ২৬ অক্টোবর সেতুটি জনসাধারণের জন্য আবার খুলে দেওয়া হয়েছিল। আর তার ৫ দিনের মাথায় এত বড় বিপর্যয় ঘটল।
প্রাণ বাঁচাতে কেউ কেউ সেতুর ভাঙা অংশের রেলিং ধরে ঝুলতে থাকেন। আবার কেউ নদীতে সাঁতরে ডাঙায় ওঠার চেষ্টা করেন। স্থানীয়দের দাবি, মৃতদের মধ্যে অধিকাংশ নারী ও শিশু। তাদের ধারণা, সেতু ধসের কারণে সব লোক মাচ্ছু নদীর পানিতে পড়ে তীব্র স্রোতে ভেসে গেছে। যার ফলে ব্যাপক প্রাণহানীর ঘটনা ঘটেছে।
এই ঘটনায় মৃতদের পরিবারকে ২ লাখ টাকা করে আর্থিক সাহায্যের কথা ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। পাশাপাশি আহতদের ৫০ হাজার টাকা করে আর্থিক সাহায্যের কথা ঘোষণা করেছেন। মৃতদের পরিবারকে ৪ লাখ টাকা করে আর্থিক সাহায্যের কথা ঘোষণা করেছে গুজরাট সরকার।
সূত্র: এনডিটিভি
ইউডি

