কারও স্ট্রোক হলে দ্রুত উপযুক্ত হাসপাতালে নিতে হবে এই শ্লোগানকে সামনে রেখে অ্যাপোলো ইমপেরিয়াল হাসপাতালের উদ্যোগে শনিবার বিশ্ব স্ট্রোক দিবস উপলক্ষে হাসপাতালের অডিটোরিয়ামে এক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।
সেমিনারে অধ্যাপক ডা রবিউল হোসেন সকলকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, আপনারা ইতিমধ্যে জেনেছেন সম্প্রতি ইমপেরিয়াল হাসপাতাল, ভারতের বিখ্যাত অ্যাপোলো হাসপাতাল গ্রুপের সাথে পার্টানারশিপ করে অ্যাপোলো ইমপেরিয়াল হাসপাতাল এর সূচনা করেছে। এই পার্টনারশিপ অনুযায়ী অ্যাপোলো হাসপাতাল গ্রুপ, ইমপেরিয়াল হাসপাতালের প্রশাসনিক কার্যক্রম, ক্লিনিক্যাল কার্যক্রম পরিচালিত করা সহ চিকিৎসা জনশক্তি প্রশিক্ষণ, টেকনোলজী ট্রান্সফার, টেলি মেডিসিন ও টেলি রেডিওলজী সেবা প্রদানে সহযোগীতা করবে।
প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা রবিউল হোসেন আরো বলেন, মস্তিষ্কের স্ট্রোক চিকিৎসায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ন হল সময়, দেরিতে চিকিৎসা করালে আশানুরূপ সুফল পাওয়া যায়না। স্ট্রোকের লক্ষণ যদি কারো মধ্যে দেখা যায়, তাহলে তাঁকে দ্রæত হাসপাতালে নিতে হবে। কারণ, প্রথম সাড়ে চার ঘণ্টার মধ্যে আসতে পারলে বিশেষ কিছু চিকিৎসার মাধ্যমে তাঁদের সুস্থ করে তোলা সম্ভব। কিন্তু সময় পার হয়ে গেলে মস্তিষ্কের কোষগুলো স্থায়ীভাবে নষ্ট হয়ে যেতে পারে। তিনি বলেন বয়ষ্ক মানুষের স্ট্রোক হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে। অবশ্য স্ট্রোক প্রতিরোধ করাও সম্ভব। ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ, রক্তে চর্বি ও স্থূলতা নিয়ন্ত্রন, অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা না করা এবং ধূমপান পরিহার করার মাধ্যমে স্ট্রোক প্রতিরোধ করা যায়। তিনি আরও বলেন, স্ট্রোক হার্টের রোগ নয়, এটা মস্তিষ্কের রোগ, এ বিষয়ে সবার ধারণা থাকা জরুরি। অ্যাপোলো ইমপেরিয়াল হাসপাতাল চট্টগ্রামে মস্তিষ্কের স্ট্রোক চিকিৎসায় ডেডিকেটেড নিউরো আইসিইউ সহ “স্ট্রোক সেন্টার” এর কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
সেমিনারে অ্যাপোলো ইমপেরিয়াল হাসপাতালের নিউরোমেডিসিন বিভাগের কনসাল্টেন্ট ডা. ইশতিয়াক আহমেদ তার প্রবন্ধে উল্লেখ করেন, এই হাসপাতালে আইভি থ্রম্বোলাইসিসসহ স্ট্রোকের সব ধরনের আধুনিক চিকিৎসা আছে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে আমরা যেটা করছি, তা হলো হার্টে যেমন এনজিওগ্রামের সাহায্যে রিং বসানো হয়, তেমনি মাথার খুলি না কেটে ব্রেইনেও এনজিওগ্রামের সাহায্যে আমরা এই কাজ করছি। এটাই আধুনিক চিকিৎসা। ব্রেইনে এনজিওগ্রামের সাহায্যে রিং বসিয়ে দিলে স্ট্রোকের রোগী দ্রæত সুস্থ হয়ে উঠে। দেশেও অত্যাধুনিক চিকিৎসার ব্যবস্থা আছে, এটা সবাইকে জানাতে চাই। কারণ, আমরা চাই, দেশের সবাই যেন এই চিকিৎসা পেতে পারেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন স্ট্রোকে এই ধরনের উন্নত চিকিৎসা পেতে হলে স্ট্রোক হওয়ার সাড়ে চার ঘণ্টার মধ্যে রোগীর চিকিৎসা শুরু করতে হবে এবং সে জন্য রোগীকে এই সময়ের মধ্যেই উপযুক্ত হাসপাতালে নিয়ে আসতে হবে।
সেমিনারে আরও প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিউরোসার্জারী বিভাগের প্রধান, অধ্যাপক ডা. এস. এম. নোমান খালেদ চৌধুরী, তিনি তার প্রবন্ধে উল্লেখ করেন, স্ট্রোক মস্তিষ্কের একটি রোগ। মস্তিকের রক্তনালির সমস্যার কারণে স্ট্রোক হয়ে থাকে। সমস্যা দুই ধরনের হতে পারে। কখনো কখনো রক্তনালি বন্ধ হয়ে যেতে পারে বা রক্তনালি ছিড়ে রক্তক্ষরণ হওয়ার কারণেও স্ট্রোক হতে পারে। স্ট্রোক হঠাৎ করেই হয়। হঠাৎ করে কথা জড়িয়ে গেলে অথবা শরীরের কোনো অংশ অবশ হয়ে গেলে বুঝতে হবে, তাঁর স্ট্রোক হয়েছে। এ রকম হলে দ্রæত হাসপাতালে নিতে হবে। স্ট্রোকের আধুনিক চিকিৎসা এখন চট্টগ্রামেই রয়েছে, যা জনগণকে জানানোর জন্য প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ এবং জনসচেতনতা। সেমিনারে প্যানেল অফ এক্সপার্ট হিসেবে বক্তব্য উপস্থাপন করেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিউরোমেডিসিন বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. মো. হাসানুজ্জামান, নর্দার্ন ইন্টারন্যাসেনাল মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের আইসিইউ কনসালটেন্ট ও নিউরোসার্জন অধ্যাপক ডা. মো. ফরিদুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিউরোসার্জারী বিভাগের পক্ষ থেকে কমিউনিটি অপথালমোলজির জনক অধ্যাপক ডা. রবিউল হোসেন কে সম্মাননা জ্ঞাপন করা হয়।
প্রশ্ন উত্তর পর্বে অংশগ্রহণ করেন মেজর ডা. রেজাউল করিম, ডা. দিল আনজিজ, ডা. নাসরিন সুলতানা, ডা. তনিমা রায় প্রমূখ। অ্যাপোলো ইমপেরিয়াল হাসপাতালের একাডেমিক কোওর্ডিনেটর ডা এ, কে, এম, আরিফ উদ্দিন আহমেদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সমাপনী বক্তব্যে অ্যাপোলো ইমপেরিয়াল হাসপাতালের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন প্রতিষ্ঠানের নবনিযুক্ত সিএমও ডা. প্রকাশ কে. এন.।

