প্রায় ১৩ বছর পর এবার ঢাকায় এলে মঞ্চ মাতালেন কবীর সুমন (চট্টোপাধ্যায়)। তবে বাংলাদেশে আসার আগে আয়োজকদের কাছে তাঁর শর্ত ছিল একটাই, খেয়ালের আয়োজন রাখতে হবে। হলোও তাই, শিল্পীর আবদার বলে কথা। মঞ্চে খেয়াল গাইলেন সুমন। তবে শ্রোতারা তো হলে এসেছিলেন সুমনের এতদিনের চেনাজানা জীবনমুখী গান শুনবেন বলে। কিন্তু সেই চেনাজানা সুমনের কণ্ঠে রাগরাগিনীর কাষ্ঠ খেয়াল শ্রোতারা বেশ উপভোগই করেছেন।
হল ভর্তি দর্শক দেখে অভিভূত হয়ে বলেও দিলেন ‘এই জন্যই বেঁচে ছিলাম। বেঁচে আছি বাংলা ভাষার খেয়ালের জন্য। খেয়ালের পাশাপাশি মঞ্চে কথার ফুলঝুরিও ছড়িয়ে দিচ্ছিলেন সুমন।
তার ভাষায়, ‘আমি জানপ্রাণ দিয়ে গানের কথা ও গঠনে কিছু পরিবর্তন আনতে পেরেছি। ছোটবেলা থেকে বাংলা আধুনিক গান শুনেছি। এখন যদি আমাকে বলেন, কয়েক দিন ধরে টানা বাংলা আধুনিক বাংলা গান গেয়ে দেব। আপনাদের অসুবিধা হবে না।’
‘সুমনের বাংলা খেয়াল’ শিরোনামে এ আয়োজনে দেখা মিলল অন্য এক কবীর সুমনের। মঞ্চে উঠে তিনি শুরুতে নিজের সংগীতচর্চা সম্পর্কে বলেন, রবীন্দ্রসংগীত, নজরুলসংগীত, আধুনিক গান গাইলেও মুগ্ধতা খুঁজে পেয়েছেন বাংলা খেয়ালে। তাঁর বাবা সুরীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়েরও চাওয়া ছিল, তিনি যেন রেকর্ড আকারে রবীন্দ্রসংগীত প্রকাশ করেন, আর তৈরি করেন বাংলা খেয়াল। সুমন বলেন, তাঁর গানের শ্রোতা যত না ভারতে আছে, এর চেয়ে বেশি বাংলাদেশে। বাংলা খেয়াল পশ্চিমবঙ্গের অনেকেই মেনে নিতে পারেননি। বাংলাদেশে তিনি তরুণদের মধ্যে এ বিষয়ে উৎসাহ দেখেছেন।
এ সময় তিনি আচার্য সত্য কিঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় ও আজাদ রহমানকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। মঞ্চে এ দুই আচার্যের ছবি ছিল। সুমন বরেণ্য সংগীতস্রষ্টা আজাদ রহমানের ‘রাগ আজাদ’ পরিবেশন করেন। তিনি সবাইকে বাংলা খেয়াল শোনার অভ্যাস করার আহ্বান জানান।
ওপার বাংলার নন্দিত সংগীতশিল্পী কবীর সুমন। কয়েক বছর ধরেই বাংলা খেয়াল নিয়ে কাজ করলেও ঢাকার মঞ্চে এবারই প্রথম এই ভারতীয় শিল্পী। এরইমধ্যে ১৫ এবং ১৮ অক্টোবর দর্শকদের গান শুনিয়েছেন।
শুক্রবার (২১ অক্টোবর) আবারও বাংলাদেশের শ্রোতাদের মাতাবেন তিনি।
ইউডি

