জাতীয় রাজনীতিতে সকল দলের কাছেই বিশেষ হয়ে থাকে সবসময় নারায়ণগঞ্জ।আওয়ামী লীগের কাছেতো আরও স্পেশাল।কেননা আওয়ামী লীগের জন্ম এ নারায়ণগঞ্জ জেলাতেই। রাজনীতির প্রেক্ষাপটে আওয়ামী লীগের দুর্গ হিসেবে পরিচিত নারায়ণগঞ্জ। সেই নারায়ণগঞ্জ জেলায় দীর্ঘ ২৫ বছর পর হতে যাচ্ছে নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন।আগামী ২৩ অক্টোবর এই ত্রি- বার্ষিক সম্মেলনকে ঘিরে নেওয়া হয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি।সম্মেলন ২০২২ সফল করার লক্ষ্যে নয়টি উপ-কমিটি গঠন করা হয়েছে।
জানাগেছে, নারায়ণগঞ্জ জেলার সর্বশেষ কাউন্সিল হয় ১৯৯৭ সালের ২০ ডিসেম্বর। অধ্যাপিকা নাজমা রহমান সভাপতি ও এমপি শামীম ওসমান সাধারণ সম্পাদক হয়েছিলেন। এর পর ২০০২ সালের ২৭ মার্চ নারায়ণগঞ্জ-৫ (সদর-বন্দর) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এস এম আকরামকে আহ্বায়ক করে কেন্দ্র থেকে ৬১ সদস্যের একটি আহ্বায়ক কমিটি করে দেওয়া হয়।
পরে আহ্বায়ক এস এম আকরাম পদত্যাগ করে যুক্ত হয়ে পড়েছেন নাগরিক ঐক্যের সঙ্গে। পরে ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক করা হয় যুগ্ম-আহ্বায়ক মফিজুল ইসলামকে। ২০১৪ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি মফিজুল ইসলাম মারা যান।
এরপর ২০১৬ সালের ৯ অক্টোবর নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের তাৎকালীন প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল হাইকে সভাপতি এবং সিটি কর্পোরেশনের বর্তমান মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীকে সিনিয়র সহ- সভাপতি ও এড. আবু হাসনাত মো. শহীদ বাদলকে সাধারণ সম্পাদক করে তিন সদস্য বিশিষ্ট জেলা আওয়ামীলীগের আংশিক কমিটি ঘোষণা করে কেন্দ্র।
এর ১৩ মাস পর নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের ৭৪ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন দেয় কেন্দ্র। ইতিমধ্যে জেলা আওয়ামীলীগ রূপগঞ্জ, আড়াইহাজার, বন্দর, ফতুল্লা ও সর্বশেষ সোনারগাঁও উপজেলা আওয়ামীলীগের সম্মেলন সম্পন্ন করেছেন। বাকী রয়েছে নারায়ণগঞ্জ সদর থানা আওয়ামী লীগের সম্মেলন।এবিষয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল হাই বলেন, উৎসবমুখর পরিবেশের মধ্য দিয়ে আগামী ২৩ অক্টোবর জেলা আওয়ামী লীগের ত্রি- বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। সম্মেলনকে ঘিরে আমরা ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছি।
অন্যদিকে তৃনমূলেও এ সম্মেলনকে ঘিরে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা বিরাজ করছে।তাঁদের প্রত্যাশা অতীত অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে কেন্দ্র এবার এমন একটি জেলা কমিটি তাঁদের জন্য দিয়ে যাবেন,যাঁদের কাছে শেখ হাসিনা ও নৌকাই শেষ কথা হিসেবে বিবেচিত হবে।
যাঁরা মনোনয়ন বানিজ্যের মাধ্যমে নৌকা ডুবিয়ে দিবেনা।নাম প্রকাশ না করার শর্তে জেলার সজ্জন হিসেবে পরিচিত প্রবিণ আওয়ামীলীগ নেতা স্লোগানকে বলেন,কোন অবস্থাতেই যেনো আল মামুনদের মতো অর্থলোভী বেঈমানরা দলে আর ঢুকতে না পারে।একই দাবী করেন গোগনগর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীগণ।সদর থানা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক পদে থেকে টাকার বিনিময়ে তিনি আমপাতা মার্কাকে নৌকার বিরুদ্ধে জয়ী করার প্রত্যয়ী ঘোষণা দিয়ে ব্যাপক সমালোচিত ও পরে জেলা সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে অশালীন বক্তব্য দিয়ে বহিস্কৃত হয়ে আছেন।সকলের প্রত্যাশা তাঁর এই বহিষ্কারাদেশ বহাল থাকবে।দলে তাঁকে যেনো আর সুযোগ না দেওয়া হয়।প্রবিন এই নেতা আরও বলেন,গত
ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন,সিটি নির্বাচনে কে কে নৌকা ডোবাতে ভূমিকা রেখেছেন তা আমলে নিয়ে যেনো কেন্দ্র একটি প্রান সঞ্চারকারী কমিটি দিয়ে যান জেলাবাসীকে।বর্তমান সভাপতি আবদুল হাই বলেন,
এবার সারাদেশে আলোচিত একটা সম্মেলনের সকল প্রস্তুতী সম্পন্ন করে এনেছেন তাঁরা।এ প্রসঙ্গে দলীয় নেতা-কর্মীদের কথা হলো,সকল আয়োজনই পন্ড হয়ে যাবে যদি কেন্দ্র একটি দৃঢ় ও কর্মীবান্ধব নেতৃত্ব দিয়ে যেতে ব্যর্থ হন।
আসলে কি হতে চলেছে তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে
আগামী রবিবার পর্যন্ত।

