অপহরণ চক্রটি ভাড়ায় চালিত সিএনজি অটোরিকশা নিয়ে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে বেড়ায়। তারপর তারা সাধারণ পথচারীদের মধ্যে সাদাসিদে টাইপের পথচারীদের টার্গেট করে। টার্গেটকৃতদের অপহরণ করে তাদের আস্তানায় নিয়ে যায়। আস্তানায় নিয়ে যাওয়ার পর অপহরণ করা ব্যক্তির সাথে মেয়ে দিয়ে বিভিন্ন অশ্লীল ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছেড়ে দেওয়ার ভয়ভীতি দেখিয়ে মুক্তিপণ আদায় করে।
কোতোয়ালি পুলিশের অভিযানে গ্রেফতারকৃত এই অপহরণ চক্রের সদস্যদেরকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।
রবিবার (১৬ অক্টোবর) দিবাগত রাত পৌনে ১টায় হালিশহরের রঙ্গীপাড়া ছোট মসজিদ এলাকা থেকে অভিযান চালিয়ে মুক্তিপণ আদায় চক্রের ৪ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
নগরীর কোতোয়ালীর হাজারি গলির মুখ থেকে খোরশেদুল আলম নামে এক ব্যক্তিকে অপহরণের ঘটনা তদন্তে নেমে এই চারজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে তাদের দেয়া তথ্যমতে অপহৃত খোরশেদুল আলমকে উদ্ধার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলো- সন্দ্বীপ থানার মুছাপুর গ্রামের আবুল কালামের ছেলে মো. জাহেদ আলম (১৮), কুমিল্লা জেলার মুরাদনগর থানার মৃত মো. আদিল হোসেনের ছেলে মো. বেলাল হোসেন ইমন (১৮), একই জেলার লাকসাম থানার পচ্ছিঙ্গা গ্রামের মৃত ফজল হকের ছেলে মো. কাউছার (১৯) ও নগরীর হালিশহর থানার রঙ্গিপাড়ার মো. হেলালের ছেলে মো. ইমন (১৮)।
এই ব্যাপারে কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহেদুল কবির বলেন, রবিবার দুপুর সাড়ে ১২টায় হাজারী গলির মুখ থেকে খোরশেদুল আলম নামে এক ব্যক্তিকে অপহরণ করা হয়। এ ঘটনায় তার মেয়ের জামাই মোরশেদুল আলম বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। ঘটনা তদন্তে নেমে এদিন দিবাগত রাত পৌনে ১টায় হালিশহরের রঙ্গীপাড়া ছোট মসজিদ এলাকা থেকে জাহেদ আলম ও ইমন নামে দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাদের দেয়া তথ্যমতে হাজারি গলির মুখ থেকে অপহৃত খোরশেদুল আলমকে রাত ২টায় হালিশহরের মুহুরিপাড়ার উত্তর আবাসিকের একটি ভবন থেকে উদ্ধার করা হয়।
এসময় কাউছার ও ইমন নামে আরও দুই জনকে গ্রেফতার করা হয়। তবে ঘটনাস্থল থেকে মনোয়ার ও ইয়াছমিন আক্তার মনি নামে দুইজন পালিয়ে যায়। গ্রেপ্তার ৪ জনই অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায় চক্রের সদস্য।
ইউডি

