ক্রিকেটের রাজ্যে পারফরমেন্স, শক্তি সামর্থ্যে কে যে শেষ হাসি হাসবেন তা বলা খুব কঠিন। এখানে মাঠের খেলাতেই প্রমাণিত হবে কে রাজা আর প্রজা। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই টপ ফেবারিট শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে সেই বার্তা দিয়ে ফেলেছে নামিবিয়া।
বিশ্বকাপের আসরে নিজেদের শক্তি সামর্থ্য নিয়ে যে কেউ পিছিয়ে নেই সেই প্রত্যয় শোনা গেছে সকল অধিনায়কের মুখে।
আগামী ১৩ নভেম্বর ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে। সেদিন দেখা যাবে শেষ হাসির ঝিলিক কাদের মুখে? কাদের হাতে শোভা পাচ্ছে বিশ্বকাপের ট্রফি?
১৬ দলের অধিনায়ককে একত্র করে আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলন করেছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)।
১৫ অক্টোবর মেলবোর্নে টুর্নামেন্ট নিয়ে নিজেদের সেই স্বপ্নের কথা শুনিয়েছেন প্রত্যেক দলপতি।
দাসুন শানাকা : দারুণ এশিয়া কাপের পর আমরা এখন খুব আত্মবিশ্বাসী। দলের আবহ দারুণ। আমরা আমাদের ব্যাটিংয়ের ওপর মনোযোগী। যেহেতু এখন গ্রীষ্মের শুরু, তাই কন্ডিশন কিছুটা ভিন্ন হতে পারে। আমরা সেদিকেই মনোযোগ রাখছি।
মোহাম্মদ নবী : সেরা আটে থেকে খেলা এবং বাছাই পর্ব না খেলাটা সম্মানের। আমাদের ওই পর্বটা খেলতে হচ্ছে না, এটা আমাদের জন্য গর্বের মুহূর্ত। আমরা আমাদের সেরাটা দিয়ে দেশের মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে চাই। এজন্য আমরা সবসময় কঠিন পরিশ্রম করি, প্যাশন নিয়ে খেলি এবং ম্যাচ জিততে চাই।
অ্যারন ফিঞ্চ: আপনি যখন বিশ্বকাপ খেলবেন তখন শুধু ১১ জন নয়, ১৫ জনই গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বকাপে সবাইকে অবদান রাখতে হবে। আমরা ভারসাম্যপূর্ণ দল। আমাদের ব্যাটিং-বোলিং দুই বিভাগেই বেশ কয়েকজন ম্যাচ জেতানো খেলোয়াড় আছে।
জস বাটলার:টি-টোয়েন্টিতে একজন ক্রিকেটারই আপনার কাছ থেকে ম্যাচ ছিনিয়ে নিয়ে যেতে পারে। আপনাকে পরের ম্যাচের জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে। আমাদের ভালো প্রস্তুতি হয়েছে, টুর্নামেন্টে দারুণ কিছু করতে মুখিয়ে আছি। আমরা বেশি কিছু চেষ্টা করতে চাই না। আগের টুর্নামেন্ট থেকে শেখার চেষ্টা করছি এবং প্রতিদিন উন্নতি করার চেষ্টা করছি।
কেন উইলিয়ামসন: আমরা যে ধরনের ক্রিকেট খেলতে চাই, সেটাতে মনোযোগ দিচ্ছি। আমাদের সামনে যা আছে সেটা মোকাবিলা করতে চাই। কয়েক মাস পেছনে তাকালে দেখবেন, আমাদের স্মরণীয় একটা বিশ্বকাপ আছে এবং এই ছেলেরাই ফাইনাল খেলেছে। এ ধরনের টুর্নামেন্টের অংশ হওয়াটা দারুণ ব্যাপার।
আমার মনে হয় সবারই আলাদা ভাবনা রয়েছে, সারা বছর র্যাঙ্কিংয়ে ওঠানামা হয়েছে, সবারই আলাদা আলাদা পরিকল্পনা রয়েছে; কিন্তু আমরা এখানে টুর্নামেন্ট খেলতে এসেছি। এখানে যে কোনো দিন যে কোনো কিছু হতে পারে। আপনি যদি খেয়াল করেন, তবে দেখতে পাবেন যে সব দলেই ম্যাচ জেতানো খেলোয়াড় আছে।
টেম্বা বাভুমা: ছেলেরা দারুণ আত্মবিশ্বাসী। আমাদের আত্মবিশ্বাস আছে, যা আমরা পুরো টুর্নামেন্টে টেনে নিতে পারি এবং দল হিসেবে পারফর্ম করতে পারি।
বাবর আজম: নিউজিল্যান্ডে আমরা দারুণ একটি সিরিজ খেলেছি। বিশ্বকাপের আগে এটা আমাদের অনেক সাহায্য করবে। ছেলেদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস আছে, আশা করছি এই ছন্দ তারা বিশ্বকাপে ধরে রাখতে পারবে। টুর্নামেন্টের আগে দল হিসেবে এমন পারফরম্যান্স আমাদের আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছে।
রোহিত শর্মা: দলগুলো এখন ভয়ডরহীন হয়ে উঠেছে। তারা এখন ফলাফলের কথা চিন্তা না করেই ঝুঁকি নিচ্ছে। এটি এমন একটি সংস্করণ যেখানে ঝুঁকি আছে এবং সেটার পুরস্কারও আছে। ঝুঁকি নেওয়ার জন্য আপনাকে যথেষ্ট সাহসী হতে হবে। আমরা এটি করতে প্রস্তুত।
নিকোলাস পুরান: সত্যি কথা বলতে, আমি এখানে খুব একটা চাপ অনুভব করছি না। হ্যাঁ, টি-টোয়েন্টিতে আমাদের দলটা নতুন। তবে সব কিছু ছাপিয়ে এ দলটা ওয়েস্ট ইন্ডিজকে প্রতিনিধিত্ব করছে। বিশ্বকাপে আমাদের পথটা কঠিন (বাছাইপর্ব থাকায়) যা ছেলেরা ভালো করে জানে।
ইউডি

