রাশিয়ার একটি সামরিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে বন্দুক হামলায় কমপক্ষে ১১ জন নিহত হয়েছে। এই হামলায় আরও ১৫ জন আহত হয়েছে। এটাকে সন্ত্রাসী হামলা আখ্যা দিয়ে পাল্টা প্রতিশোধের ঘোষণা দেয় মস্কো। একই দিন ইউক্রেনে পাল্টা হামলা চালিয়েছে রুশ বাহিনী।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইউক্রেন সীমান্তবর্তী বেলগোরোড অঞ্চলে আগ্নেয়াস্ত্র প্রশিক্ষণের সময় এই হামলার ঘটনা ঘটেছে।
রাশিয়া গত ফেব্রুয়ারির শেষে ইউক্রেনে বিশেষ সামরিক অভিযান শুরু করে। গত মাসে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ৩ লাখ রাশিয়ানদের একত্রিত করার নির্দেশ দিয়েছেন যারা আগে বাধ্যতামূলক সামরিক বাহিনীতে যোগ দিতে সম্মত হয়েছিলেন।
‘১৫ অক্টোবর একটি সিআইএস (কমনওয়েলথ অব ইন্ডিপেন্ডেন্ট স্টেট) দেশের দুই নাগরিক বেলগোরোড অঞ্চলের পশ্চিম সামরিক জেলার একটি প্রশিক্ষণ রেঞ্জে সন্ত্রাসী কর্মকান্ড চালিয়েছে।’ মন্ত্রণালয়ের উদ্ধৃতি দিয়ে রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থাগুলো এ কথা জানায়।
‘এর ফলে, গুরুতর আহত ১১ জন মারা যায় এবং অপর ১৫ জন বিভিন্ন আঘাতের শিকার হয়েছে এবং তাদের চিকিৎসা সুবিধায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে।’ মন্ত্রণালয় জানায়, দুই হামলাকারী ‘প্রতিশোধমূলক গুলিতে নিহত হয়েছে’।
সোভিয়েত ইউনিয়নের অংশ ছিল এমন প্রজাতন্ত্রগুলো নিয়ে সিআইএস বা স্বাধীন রাষ্ট্রগুলোর কমনওয়েলথ গঠিত হয়েছিল।
২১ সেপ্টেম্বর আংশিক সংঘবদ্ধকরণের ঘোষণার পর থেকে ২ লাখের বেশি লোককে রাশিয়ান সশস্ত্র বাহিনীতে নিয়োগ করা হয়েছে।
এদিকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি শনিবার বলেছেন যে, তার সৈন্যরা পূর্বাঞ্চলীয় শহর বাখমুতের কাছে একটি ‘সবচেয়ে কঠিন’ পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছে, যেটি কয়েক সপ্তাহ ধরে রাশিয়ান সেনাবাহিনীর আক্রমণের মুখে রয়েছে।
তারা কয়েক মাস ধরে রাশিয়ার দখলে থাকা পূর্ব ও দক্ষিণে ইউক্রেন ভূখণ্ড ফিরিয়ে নিচ্ছে, কিন্তু কিছু এলাকায় কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে।
এদিকে শনিবার (১৫ অক্টোবর) ইউক্রেনের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ শহর জাপোরিঝিয়ার বাসিন্দাদের ঘুম ভাঙে বিকট শব্দে। এদিন রুশ সেনাদের চালানো একাধিক হামলায় লণ্ডভণ্ড হয়ে পড়ে শহরটির একটি পার্কি লট। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয় বহু যানবাহন। পাশাপাশি ধসে পড়ে ঘরবাড়িসহ নানা স্থাপনা। এ হামলার জন্য রুশ সেনাদের দায়ী করেছেন ইউক্রেনের বাসিন্দারা।
অন্যদেকে চলমান ইউক্রেন যুদ্ধের মধ্যেই বেলজিয়াম, উত্তর সাগর এবং ব্রিটেনের আকাশসীমায় ব্যাপক আকারে সামরিক মহড়া শুরু করতে যাচ্ছে পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটো। তবে এতে কোনো পারমাণবিক তাজা বোমা ব্যবহার করা হবে না বলে নিশ্চিত করেছে জোটটি। আগামী ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে অনুশীলন।
ন্যাটোর এমন ঘোষণায় ব্যাপক চটেছে রাশিয়া। পাল্টা জবাবে বেলারুশের সেনাবাহিনীর সঙ্গে যৌথ বাহিনী গঠনের অংশ হিসেবে রুশ সেনাদের প্রথম বহর পাঠিয়েছেন পুতিন। বেলারুশের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সীমান্তের সুরক্ষা এবং প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করাই যৌথ বাহিনীর প্রধান লক্ষ্য।
ইউডি

