চট্টগ্রামের রাউজানে একটি নবনির্মিত বিল্ডিংয়ের ভিতরে রয়েছে বিপজ্জনক বৈদ্যুতিক খুঁটি। দ্বিতীয় তলা বিশিষ্ট এই বিল্ডিংয়ের ছাদের তিন ফুট উপর দিয়ে গেছে তেত্রিশ হাজার ভোল্টেজের বৈদ্যুতিক লাইন।
এমন অকল্পনীয় ও অপরিকল্পিত বিল্ডিংটির অবস্থান উপজেলার পাহাড়তলী ইউনিয়ন ৭ নং ওয়ার্ডে চুয়েট বঙ্গবন্ধু হলে বিপরীতে চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়কের সংলগ্ন দক্ষিণে। জানা গেছে বিল্ডিংটির মালিক রাঙ্গুনিয়া উপজেলা বেতাগী ইউনিয়ন নিবাসী আব্দুল হক।
এমন পরিস্থিতিতে কোন প্রকার তদন্ত ছাড়া ভবনটি দায়সারাভাবে বৈদ্যুতিক সংযোগ দেন চট্টগ্রাম পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২। চট্টগ্রাম পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এমন দায়িত্বহীন কর্মকাণ্ডে হতভম্ব স্থানীয়রা।
গত বুধবার (১২ অক্টোবর ) বেলা আড়াইটার দিকে ভবনের ছাদে কাজ করতে গিয়ে শান্ত দত্ত (২৬) এক শ্রমিক তড়িতাহত হয়ে বর্তমানে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বার্ণ ইউনিটে মৃত্যুশয্যায় রয়েছেন। আহত শান্ত দত্ত রাউজান উপজেলার পাহাড়তলী ইউনিয়ন দক্ষিণ দেওয়ানপুর গ্রামের কাঞ্চন দত্তের ছেলে। স্থানীয় ইউপি সদস্য মোহাম্মদ জানে আলম ঘটনাটির সত্যতা নিশ্চিত করেন।
সুফিয়া নামের স্থানীয় এক নারী বলেন, ভাত খাওয়ার বিকট শব্দ শুনার বের হয়ে দেখি সামনের দোতালা বিল্ডিংয়ে ছাদে কারেন্ট লেগে পুড়ে যাওয়া একজনকে উদ্ধার করে মেডিক্যালে নিয়ে যাচ্ছে।
ওমর ফারুক নামে স্থানীয় এক যুবক বলেন, পাঁচ বছর আগে সড়কে গাছের খাম্বা ছিল। সেখান হতে ২৫ফুট মত সরিয়ে এখানে খাম্বাটি স্থাপন করা হয়। বছর দুয়েক আগে বিল্ডিংটি তৈরি করার সময় ঘরের ভিতর ঢুকিয়ে নেয়। এই সময় পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ হতে কোন বাঁধা আসে নি।
সায়েদুর রহমান নামের আরেক যুবক বলেন, ছাদের তিন ফুট উপরে তেত্রিশ হাজার ভোল্টেজের লাইন গেলেও কোন কাভার করা হয় নি। এই চুয়েট এলাকায় এমন অনেক ঝুঁকিপূর্ণ বিল্ডিং আছে। যেকোন সময় ভয়াবহ দূর্ঘটনা ঘটতে পারে। এই বিষয়ে পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ একেবারে দায়সারা বলা চলে।
এই ভবনের মালিক একজন প্রবাসে থাকার কারণে ঝুঁকিভাবে ভবন নির্মাণে মালিক পক্ষের কারো বক্তব্য পাওয়া যায় নি।
চট্টগ্রাম পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর জিএম সরোয়ার জাহান বলেন, বিষটি তদন্ত করে দেখব। তবে, আমাদের তেমন কিছু করার ক্ষমতা থাকে না। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিকে সাথে এসবের সমস্যা সমাধান করব। এমন ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে তদন্ত ছাড়া কিভাবে বৈদ্যুতিক মিটার সংযোগ দেওয়া হয়েছে তা জানতে চাইলে তিনি কোন সদুত্তর দিতে পারে নি।
উল্লেখ্য, বিগত ৭ জুলাই একই ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডে ছাদে দাঁড়িয়ে আম পারার সময় ৫ ফুট দূরে থাকা ১১ হাজার ভোল্টেজ লাইনে স্পৃষ্ট হয়ে সানজিদা চৌধুরী নামে এক তরুণীর মৃত্যু হয়।
৪বছর পূর্বে চুয়েট এলাকায় একটি দ্বিতল ভবনে ছাদে কাজ করতে গিয়ে ৩৩হাজার ভোল্টেজ লাইনে বিদ্যুৎ স্পৃষ্ট এক নির্মাণ শ্রমিকের মৃত্যু হয়। এছাড়াও মৃত্যুর ঘটনা না ঘটলেও বেশ কিছু ছোট-বড় ঘটনা সংগঠিত হয়েছে।
অপরিকল্পিত বিদ্যুৎ সংযোগ প্রদান, খুঁটি স্থাপন, বৈদ্যুতিক খুঁটির ঘিরে ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনা নির্মাণে পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের বাঁধা না দেওয়া সহ নানান অভিযোগ রয়েছে সচেতন মহলের। তাদের মতে পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের এইসব দায়সারা কর্মকাণ্ডে বৈদ্যুতিক লাইনগুলো মৃত্যু ফাঁদে পরিণত হয়েছে।
ইমা

