রেলওয়ে থেকে লীজ দাবীদার হালিশহর আনন্দবাজার এলাকার নার্সারী ব্যবসাযী নজরুল ইসলাম দুলাল কর্তৃক চট্টগ্রাম ওয়াসার সুয়ারেজ প্রকল্পের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আবেদন খারিজ করেছেন বিজ্ঞ আদালত।
চট্টগ্রামের ৩য় সিনিয়র সহকারী জজ মোছাম্মৎ রেশমা খাতুন এর আদালত শুনানী শেষে নথিপত্র ও বাদীর আবেদন ও ওয়াসার আপত্তি পর্যালোচনা শেষে উক্ত অস্থায়ী নষিধোজ্ঞার আবেদন খারিজ করেন। ওয়াসার বিজ্ঞ আইন উপদষ্টোগণ বলেন, চট্টগ্রাম ওয়াসার সম্পত্তিতে বাদীর কোনরূপ স্বত্ব দখল নেই। বাদীর মূল মামলাটি অচল ও অরক্ষণীয় বিধায় উক্ত নিষেধাজ্ঞার আবেদন খারিজযোগ্য। নিষেধাজ্ঞার দরখাস্তের তপশীল অষ্পষ্ট ও যথার্থ নহে। এতে কোন চৌহদ্দী নেই। নিষেধাজ্ঞার দরখাস্তের কোন হেতু নেই। ৩৮০৮ কোটি টাকা ব্যয়ে চলমান সরকারের উন্নয়ন কাজে বাধা প্রদানের উদ্দেশ্যে আনীত দরখাস্ত খারিজ যোগ্য।
আপত্তি শুনানীকালে ওয়াসার পক্ষে বিজ্ঞ আইন উপদেষ্টা জিয়া হাবীব আহ্সান বলেন, ‘প্রকল্পটি জনস্বার্থে সরকারের একটি চার হাজার কোটি টাকার মেগা প্রকল্প । এটা চট্টগ্রামের সুয়ারেজ সিস্টেমকে আধুনিকরণে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সর্বোচ্চ গ্র্যান্ট যা কোন ঋণ নয় । এটি চট্টগ্রামকে হেলদি সিটি রূপায়ন প্রকল্প বা বিশাল কর্মযজ্ঞ । চট্টগ্রাম ওয়াসার জন্য সরকারের সানুগ্রহ অনুমোদন গ্রান্ড প্রায় চার হাজার কোটি টাকার বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় কর্তৃক মনিটরিং করা হচ্ছে । এটা ২০১৫ সালে গৃহীত জাতিসংঘের নির্ধারিত কর্মসুচী ২০৩০ লক্ষমাত্রা ৬.২ অর্জন এর আলোকে গৃহীত । জনগণের সুস্থভাবে বেঁচে থাকার অধিকার বাস্তবায়নের আলোকে প্রকল্পটি বাস্তবায়নাধীন । প্রকল্পটির জন্য আন্তর্জাতিক টেন্ডারের মাধ্যমে বিদেশী ঠিকাদারকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে । চট্টগ্রাম মহানগরীর স্যানিটেশন মাষ্টার প্যালনেরে অন্তর্ভুক্ত প্রকল্প ওয়াসা, সিডিএ, সিটি কর্পোরেশন, গণপূর্ত সহ সকল উন্নয়ন সংস্থা মিলে ২০১৭ সালে যা প্রস্তুত হয় । ড্রেনেজ ব্যবস্থা চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন সিসিসিকে এবং স্যানিটেশন বাস্তবায়ন এর দায়িত্ব দেয়া হয় চট্টগ্রাম ওয়াসাকে । পুরো চট্টগ্রাম শহরকে ৬টি ক্যাচমেন্টে ভাগ করে পুরো শহরকে স্যানিটেশন ব্যবস্থার আওতায় আনা হবে । এর মধ্যে ‘চট্টগ্রাম মহানগরীর পয়নিস্কাশন স্থাপন প্রকল্প ১ম পর্যায়’ – শীর্ষক প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে । উক্ত অধিগ্রহণকৃত ১৬৩.৮৫৫ একর ভূমিতে মোট ৩টি পয়ঃশোধনাগার নির্মাণ ও ১টি ঋবপধষ ঝষঁফমব ঃৎবধঃসবহঃ চষধহঃ নির্মাণ করা হবে । বর্তমান চলমান ফিলিং কার্যক্রম শেষ করতে হবে । প্রকল্পের কাজ বিলম্ব হলে প্রকল্পের ব্যয়ভার বহুগুণে বেড়ে যাবে । বিলম্ব জনিত কারণে বিদেশী ঠিকাদার ক্লেইম করবে । মামলার বাদী সম্পত্তি বাংলাদেশ রেলওয়ে হতে লীজ প্রাপ্ত মর্মে দাবী করলেও বাংলাদেশ রেলওয়ের প্রদত্ত মামলায় পক্ষভুক্ত করা হয়নি। অধিকন্ত কথিত লীজ হাল নাগাদ করার সমর্থনে বাংলাদেশ রেলওয়ের কোন ডকুমেন্ট দাখিল করা হয়নি।
আদালত উভয় পক্ষের শুনানী ও যুক্তিতর্ক শুনে নথিপত্র পর্যালোচনায় বাদীর অন্তর্বতীকালীন নিষেধোজ্ঞার আবদেন খারিজ করেন। বিবাদী ওয়াসার পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন ওয়াসার আইন উপদেষ্টা এডভোকেট জিয়া হাবীব আহ্সান, এডভোকেট সৈয়দ মোহাম্মদ হারুন, এডভোকেট মোঃ সাইফুদ্দিন খালেদ, এডভোকেট মোঃ হাসান আলী, এডভোকেট মোহাম্মদ বদরুল হাসান, এডভোকেট মোহাম্মদ জিয়াউদ্দীন (আরমান) প্রমুখ ।
ইমা

