এম এ মালেক আজ শুধুই দৈনিক আজাদীর সম্পাদক নন, নিজের কর্মযজ্ঞের মধ্য দিয়ে আজ চট্টগ্রাম তথা এ দেশের একজন অভিভাবকে পরিণত হয়েছেন।
রোববার চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের বঙ্গবন্ধু হলে তাঁকে নিয়ে প্রকাশিত সম্মাননা স্মারক ‘অগ্রপথিক’ এর প্রকাশনা অনুষ্ঠানে অতিথিবৃন্দ এ কথা বলেন।
অগ্রপথিক এর প্রকাশনা সংস্থা নাট্যমঞ্চের সম্পাদক জাহেদুল আলমের সভাপতিত্বে এবং কৃতি বাচিক শিল্পী আয়েশা হক শিমুর সঞ্চালনায় অতিথি ছিলেন, সমাজবিজ্ঞানী ড. অনুপম সেন, সাবেক সংস্কৃতিমন্ত্রী নাট্যব্যক্তিত্ব আসাদুজ্জামান নূর এমপি, বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক মুহম্মদ নূরুল হুদা, ভাষাবিজ্ঞানী গবেষক ড. মাহবুবুল হক, সাহিত্যিক, সাংবাদিক ও শিক্ষাবিদ আবুল মোমেন, গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব অধ্যাপক ড. শামীম রেজা এবং প্রাক্তন লায়ন্স গভর্নর কামরুন মালেক। স্বাগত বক্তব্য রাখেন স্বনামধন্য চারুশিল্পী দীপক দত্ত। দৈনিক আজাদী পরিবার তথা এম এ মালেকের পরিবারের পক্ষ থেকে তাঁকে নিয়ে স্মৃতিচারণ করেন, কন্যা ফাহমিদা মালেক ও পুত্র বধূ পারিহা মালেক।

ড. অনুপম সেন বলেন, দৈনিক আজাদী ইতিহাসের অংশ। আর কোন পত্রিকার এ অর্জন নেই। বাঙালির একুশ, এম এ মালেক কেবল সম্পাদকই নন, একজন অসাধারণ জীবনমুখী মানুষ। স্বাধীনতা যুদ্ধের সূচনা এবং দেশের স্বাধীনতা অর্জনের সাথে জড়িয়ে আছে আজাদীর নাম। একই সাথে এ অর্জনে এম এ মালেকের ভ’মিকাও ছিল অনন্য।
নাট্য ব্যক্তিত্ব আসাদুজ্জামান নূর এমপি বলেন, এম এ মালেক একজন প্রাণবন্ত মানুষ। তাঁর মধ্যে একধরনের সহজাত সৌজন্যবোধ আছে, যা বর্তমানে তরুণ প্রজন্মের অনেকের মধ্যে নেই। তাঁর গুণাবলী যদি নিজে ধারণ করতে পারতাম, তাহলে উদ্বেগহীণ একটি জীবন কাটাতে পারতাম। চট্টগ্রামবাসীতো তাঁকে জানেন, আমরা যারা ঢাকায় থাকি, তাদের কাছেও এম এ মালেক একজন সহজ মানুষ।
ভাষাবিজ্ঞানী ড. মাহবুবুল হক বলেন, এম এ মালেক নিভৃতচারী প্রচার বিমুখ মানুষ। তিনি সফল একজন উত্তরাধিকারী, যিনি তাঁর পিতার প্রকাশিত পত্রিকাটিকে এতদূর নিয়ে এসেছেন। তিনি একজন কৃতী সম্পাদক এবং সাংবাদিক। আমাদের জীবনের ধ্রুবতারা এম এ মালেক।

অধ্যাপক কবি আবুল মোমেন বলেন, আজাদীকে কুটির শিল্প থেকে বড় শিল্পে তুলে এনেছেন এম এ মালেক। চট্টগ্রামবাসী আজাদীকে গ্রহণ করেছে, কারণ আজাদী সকলকে গ্রহণ করেছে সাদরে। আজাদীর কোন জাত্যাভিমান নেই।
তাঁর সাথে কথা প্রসঙ্গে বেশ কয়েকবার বলেছি আজাদীকে আরো চাকচিক্যময় করতে। তিনি বলেছেন, এটা সাধারণের পত্রিকা হিসেবে ছিল, আগামীতেও থাকবে।
ড. শামীম রেজা বলেন, দৈনিক আজাদীকে আঞ্চলিক পত্রিকা বলতে আপত্তি আছে। আজাদী জাতয়ি সমস্যা নিয়ে নিউজ করছে। আমি খুব কম সংখ্যক পত্রিকা দেখি এ উপমহাদেশে, যেটি ছয় দশক ধরে টিকিয়ে রাখ কঠিন একটি বিষয়। আমাদের উচিত হবে এম এ মালেককে চট্টগ্রামে সীমাবদ্ধ না রেখে দক্ষিণ এশিয়ার অগ্রগণ্য সম্পাদক হিসেবে মূল্যায়ণ করা।

