দুদকের মামলায় টেকনাফ থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রদীপ কুমার দাশ ও তাঁর স্ত্রীর সাজা পাওয়ার একদিনের মাথায় একই সংস্থার করা মামলায় আসামি হলেন আরেক সাবেক ওসি ও তাঁর স্ত্রী। বৃহস্পতিবার লোহাগাড়া থানার সাবেক ওসি ও বর্তমানে শিল্প পুলিশ চট্টগ্রাম অঞ্চলের পরিদর্শক মো. শাহজাহান (৫৪) ও তাঁর স্ত্রী ফেরদৌসী আকতারের বিরুদ্ধে এই মামলা করা হয়েছে।
দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয় চট্টগ্রাম-২ এ মামলাটি করেন দুদকের উপপরিচালক মো. আতিকুল আলম।
মামলায় ফেরদৌসী আকতারের ঠিকানা দেওয়া হয়েছে চট্টগ্রাম মনগরীর খুলশী থানাধীন লালখান বাজার হাইলেভেল রোডের ১৪নম্বর শাহজাহানের বাড়ি। অন্যদিকে, সাবেক ওসি শাহজাহানের ঠিকানা দেওয়া হয়েছে কুমিল্লার লালমাই থানার কাতালিয়া গ্রামে। তিনি বর্তমানে শিল্প পুলিশ চট্টগ্রাম রিজিয়নে পরিদর্শক হিসেবে কর্মরত রয়েছে। মামলায় জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদের মধ্যে ১ লাখ ৭১ হাজার ৭৩৪ টাকার সম্পদের তথ্য গোপন, এক কোটি ৪৮ লাখ ৪ হাজার ৪১৩ টাকার মানিলন্ডারিংয়ের মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ স্থানান্তর, হস্তান্তর ও রূপান্তরের অভিযোগ করা হয়েছে।
মামলায় দুদক আইনের ২৬(২), ২৭(১), ২০১২ সালের মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের ৪(২) ও ৪(৩) এবং ১৯৪৭ সনের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারাসহ দণ্ডবিধির ১০৯ ধারায় অভিযোগ করা হয়। মামলায় ফেরদৌসী আকতার সম্পদ অর্জনের সহযোগী হিসেবে তার স্বামীকে আসামি করা হয় বলে জানায় দুদক।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ২০১৭ সালে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ অনুসন্ধানের সত্যতা পাওয়া যায়। পরে দুদকের পক্ষ থেকে ২০১৯ সালের ১৪ মার্চ লোহাগাড়া থানার তৎকালীন ওসি মো. শাহজাহান ও তার স্ত্রী ফেরদৌসী আকতারের কাছ থেকে সম্পদ বিবরণী চাওয়া হয়। ফেরদৌসী আকতার সম্পদ বিবরণীতে ৩ কোটি ২১ লাখ ৮৬ হাজার টাকা স্থাবর সম্পদ অর্জনের তথ্য দেন। তার স্বামীর কাছ থেকে ৪৩ লাখ ১০ হাজার ৮৬৭ টাকার স্থাবর সম্পদ দান হিসেবে পেয়েছেন বলে উল্লেখ করেন। কিন্তু অনুসন্ধানে নেমে ১ লাখ ৭১ হাজার ৭৩৪ টাকার বেশি সম্পদের খোঁজ পায় দুদক।
ফেরদৌসী আকতার ২০০৬-০৭ থেকে ২০২০-২০২১ কর কছর পর্যন্ত ঘরভাড়া হতে আয়, বৈদেশিক রেমিট্যান্স, ব্যবসার আয় ও অন্যান্য উৎস থেকে ২ কোটি ৪৩ লাখ ৫১ হাজার টাকা বৈধ আয় করলেও তিনি আয়কর রিটার্নে পোল্ট্রি খামার ও মৎস্য খামার থেকে আয় দেখালেও দুদকের অনুসন্ধানে ওই ব্যবসা সম্পর্কিত সরকারি কর্মকর্তার স্ত্রী হিসেবে ব্যবসা করার জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি মৎস্য ও পোল্ট্রি খামারে বিদ্যুৎ সংযোগের রেকর্ড, পরিবেশ ছাড়পত্র, খামারের লেনদেন সংক্রান্ত ব্যাংক স্টেটমেন্ট, মালামাল কেনাবেচার বিল ভাউচারসহ প্রামাণ্য রেকর্ডপত্র দেখাতে পারেননি। তার স্বামী ওসি মো. শাহজাহানের সহযোগিতায় ক্ষমতার অপব্যবহার করে দুর্নীতি ও ঘুসের মাধ্যমে পোল্ট্রি ও মৎস্য খামার দেখিয়ে ২ কোটি ২৯ লাখ ৩০ হাজার ৭৩৫ টাকা ভুয়া আয় প্রদর্শন করেছেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়।
তাছাড়া ১ কোটি ৪৮ লাখ ৪ হাজার ৪১৩ টাকার জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করে ভোগদখলে রাখতে মানিলন্ডারিংয়ের অপরাধ করেছেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়। মামলায় ফেরদৌসী আকতার সম্পদ অর্জনের সহযোগী হিসেবে তার স্বামীকে আসামি করা হয়।
চট্টগ্রামের লোহাগাড়া ও সন্দ্বী থানার সাবেক ওসি মো. শাহজাহানের বিরুদ্ধেও চলতি বছরের ৪ জানুয়ারি ক্ষমতার অপব্যবহার করে জ্ঞাত আয় বর্হিভূত সম্পদ অর্জন ও দুদকে দাখিল করা সম্পদ বিবরণীতে তথ্য গোপন করার অভিযোগে মামলা করে দুদক।

