বাংলা সাহিত্যের প্রতিবাদী ও গণমানুষের কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে উদীচী চট্টগ্রাম জেলা সংসদের আয়োজনে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান গতকাল বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হয়। এতে বক্তারা বলেছেন, কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের কবিতায় শোষণমুক্ত, বৈষম্যহীন ও মানবিক সমাজের স্বপ্ন উচ্চারিত হয়েছে। তাঁর জন্মশতবর্ষে সেই স্বপ্ন ও আদর্শ নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে হবে। সুকান্তের কবিতা, জীবনদর্শন ও সংগ্রামী চেতনার প্রাসঙ্গিকতা সমাজে ছড়িয়ে দিতে হবে। থিয়েটার ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে এ অনুষ্ঠানে কবি, সাহিত্যিক, শিল্পী, সংস্কৃতিকর্মীসহ নানা শ্রেণিপেশার মানুষের সমাগম ঘটে।
সভায় কবি ও সাংবাদিক আবুল মোমেন বলেন, ষাটের দশককে নিয়ে প্রগতিশীল সমাজ প্রগতির আন্দোলনের যে কল্পচিত্র তৈরি হয়েছে, তাতে রবীন্দ্রনাথ, নজরুল, সুকান্তের সবচেয়ে বড় অবদান আছে। সুকান্ত তাঁদের মধ্যে সবচেয়ে কনিষ্ঠ ও স্বল্পায়ূ। মাত্র ২১ বছর বয়সে তিনি কীভাবে এত শিল্পকর্ম সৃজন করেছেন, এটা এক বিস্ময়কর।
প্রাবন্ধিক ও সাংবাদিক সুভাষ দে বলেন, সুকান্ত আমৃত্যু মার্কসবাদী দর্শনে নিজেকে নিয়োজিত রেখেছিলেন।
চবি চারুকলা বিভাগের সাবেক অধ্যাপক আবুল মনসুর বলেন, প্রযুক্তির উল্লম্ফনে মানুষের জীবনযাত্রা পাল্টে গেছে। চিন্তার জগত পরিবর্তন হয়ে গেছে। বাম রাজনীতির মধ্যেও নানা ধরনের নতুন চিন্তা দেখা যাচ্ছে। এ জায়গায় সুকান্তকে প্রাসঙ্গিক রেখেই এগিয়ে যেতে হবে। নতুনভাবে আমাদের রাজনৈতিক চিন্তার জগতকে সাজাতে হবে।
কবি ও নাট্যজন অভীক ওসমান বলেন, একজন কিশোর কবি পুরো ভারতবর্ষকে কাঁপিয়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু আজকের প্রেক্ষাপটে সুকান্তকে আমরা আমাদের লড়াই–সংগ্রামে কতটা প্রাসঙ্গিক রাখতে পেরেছি সেটা ভাবতে হবে। উদীচী চট্টগ্রাম জেলা সংসদের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা অমল কান্তি নাথের সভাপতিত্বে ও যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক শীলা দাশগুপ্তার সঞ্চালনায় আলোচনায় অংশ নেন কবি ইউসুফ মুহম্মদ ও কেন্দ্রীয় উদীচীর সহসভাপতি বেলায়েত হোসেন। স্বাগত বক্তব্য দেন উদীচী জেলা সংসদের সদস্য শিমুল সেন। সাংস্কৃতিক পর্বে উদীচী ও রাগেশ্রীর শিল্পীরা দলীয় সংগীত পরিবেশন করেন। একক আবৃত্তিতে অংশ নেন সোমা মুৎসুদ্দি, অঞ্চল চৌধুরী, ফারুক তাহের ও বেলায়েত হোসেন। একক গান পরিবেশন করেন জয় নেন, ভাস্কর রায়, বিউটি দেব ও বর্ণালী দাশ।

