অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সর্বশেষ সিরিজের ঐতিহাসিক সাফল্যের পর কাল থেকে শুরু হওয়া আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টেও ধারাবাহিক পারফরমেন্স অব্যাহত রাখতে চায় বাংলাদেশ।
আগামীকাল (শুক্রবার) আবুধাবির শেখ জায়েদ স্টেডিয়ামে সিরিজের একমাত্র টেস্টে মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ-আফগানিস্তান।
বাংলাদেশ সময় দুপুর ১২টায় শুরু হওয়া ম্যাচটি টি স্পোর্টস চ্যানেলে সরাসরি সম্প্রচার করা হবে।
গত আগস্টে অস্ট্রেলিয়া সফরে দুই ম্যাচের টেস্ট ১-১ সমতায় শেষ করে বাংলাদেশ। ডারউইনে প্রথম টেস্ট ৯ উইকেটে জিতে নেয় টাইগাররা। প্রথমবারের মত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্টে জয় পায় বাংলাদেশ। তবে ম্যাকাইতে দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট ইনিংস ও ৫১ রানে হারে নাজমুল হোসেন শান্তর দল। চলতি শতাব্দীতে ভারতের বাইরে খুব কম দলই অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট জয়ের দেখা পেয়েছে।
অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট জয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে খেলার স্বপ্ন দেখাচ্ছে বাংলাদেশকে। আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টটি চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ নয়। তারপরও এই টেস্ট বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, এরপর ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজ আছে বাংলাদেশের। এই দুই সিরিজের আগে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচে নিজেদের প্রস্তুত করার সুযোগ পাবে টাইগাররা।
তবে টেস্টে অনভিজ্ঞ দল হলেও আফগানিস্তানকে হারানো বাংলাদেশের জন্য সহজ হবে না। সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে নিজেদের ‘হোম ভেন্যু’-তে খেলবে আফগানরা। আবুধাবির স্পিন সহায়ক উইকেট থেকে সুবিধা পাবে আফগানিস্তানের স্পিনাররা। কারণ এখানকার উইকেট সাধারণত ধীরগতির ও নিচু বাউন্সের হয়ে থাকে। যা স্পিন সহায়ক হয়ে থাকে।
যদিও সাম্প্রতিক সময়ে খুবই ভালো করছে বাংলাদেশের পেস আক্রমণ। দলের জয়েও বড় ভূমিকা রাখছে তারা। তবে বাংলাদেশের স্পিন আক্রমণ বিশ্বমানের। কাগজে-কলমে আফগানিস্তানের চেয়ে এগিয়ে টাইগাররা।
বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হতে পারে সংযুক্ত আরব আমিরাতের তীব্র গরম। যা অনেক সময় অসহনীয় হয়ে উঠতে পারে।
আবুধাবির গরমের সাথে মানিয়ে নেওয়ার জন্য বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে বাংলাদেশ টিম ম্যানেজমেন্ট। তারপরও টেস্টের পাঁচদিন আবহাওয়া দলের জন্য অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
গত মঙ্গলবার টেস্ট দলের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন এশিয়ান গেমস স্কোয়াডে থাকা লিটন দাস, নাজমুল হোসেন শান্ত, তাওহিদ হৃদয়, শরিফুল ইসলাম, হাসান মাহমুদ ও তানজিদ হাসান তামিম। তীব্র গরমের সাথে মানিয়ে নেওয়ার জন্য খুব কম সময় পেয়েছেন তারা।
বিসিবির এক ভিডিও বার্তায় বাংলাদেশ দলের প্রধান কোচ ফিল সিমন্স বলেন, ‘আপাতত এটাই একমাত্র বিষয়। যারা জাপান থেকে এসেছে, সেখানে তারা খুব একটা খেলার সুযোগ পায়নি। এরপর এই আবহাওয়ায় এসে মানিয়ে নেওয়া সব মিলিয়ে দুই দিনের ব্যাপার। দেখা যাক তারা কীভাবে মানিয়ে নেয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘দিন শেষে এটি মানসিক বিষয় এবং মানিয়ে নেওয়ার ব্যাপার। আজ তাদের বেশ ভালোই মনে হচ্ছে। প্রথম দিন হিসেবে তীব্র গরমের মধ্যেও তাদের ভালোই মনে হচ্ছে। আমি নিশ্চিত যে, তারা ঠিকঠাকভাবেই মানিয়ে নিতে পারবে।’
তবে সিমন্স মনে করেন, আবুধাবির উইকেটে ব্যাট ও বলের ভালো লড়াই হবে। পাশাপাশি উইকেট স্পিন সহায়ক হতে পারে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
সিমন্স বলেন, ‘আমি উইকেট দেখেছি। উইকেটটা ভালোই মনে হচ্ছে। এটি কিছুটা ধীরগতির হতে পারে, তবে সব মিলিয়ে ভালো উইকেট বলেই মনে হচ্ছে। আমরা ভালো উইকেটের কথা মাথায় রেখেই প্রস্তুতি নিচ্ছি। আমরা জানি, আমাদের বেশ কয়েকজন স্পিনারের মুখোমুখি হতে হবে, এজন্য আমরা সেভাবেই প্রস্তুতি নিচ্ছি।’
উইকেট নিয়ে সিমন্সের এই ধারণা থেকে মনে হচ্ছে বাড়তি স্পিনার নিয়ে একাদশ সাজাতে পারে বাংলাদেশ।
এখন পর্যন্ত টেস্টে দু’বার মুখোমুখি হয়েছে বাংলাদেশ ও আফগানিস্তান। এরমধ্যে একবার করে জিতেছে ও হেরেছে দু’দল।
বাংলাদেশ দল : নাজমুল হোসেন শান্ত (অধিনায়ক), তানজিদ হাসান তামিম, সাদমান ইসলাম, সৌম্য সরকার, মোমিনুল হক, মুশফিকুর রহিম, লিটন দাস, তাওহিদ হৃদয়, জাকের আলী অনিক, মেহেদি হাসান মিরাজ, তাইজুল ইসলাম, হাসান মাহমুদ, সৈয়দ খালেদ আহমেদ, এবাদত হোসেন চৌধুরী, শরিফুল ইসলাম।
ট্রাভেলিং রিজার্ভ : নাঈম হাসান, মুশফিক হাসান ও ইকবাল হোসেন ইমন।
আফগানিস্তান দল : রহমত শাহ (অধিনায়ক), ইকরাম আলিখিল, আফসার জাজাই, সেদিকুল্লাহ আতাল, আব্দুল মালিক, হাশমতউল্লাহ শাহিদি, রহমানউল্লাহ জাদরান, শহিদউল্লাহ কামাল, ইসমাত আলম, কাইস আহমাদ, জিয়া উর রাহমান আকবর, খলিল গুরবাজ, মোহাম্মাদ সেলিম সাফি, জিয়া উর রহমান শারিফি ও ইয়ামিন আহমাদজাই।

