জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৫০তম প্রয়াণ দিবস উপলক্ষে বৃহস্পতিবার জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে আয়োজিত হয়েছে কবির স্মরণে বিশেষ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও আলোচনা সভা। শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে আবৃত্তি, নজরুলসঙ্গীত, নৃত্য ও কবির জীবনের ওপর আলোচনার মাধ্যমে বিদ্রোহী কবিকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন সর্বস্তরের সংস্কৃতিপ্রেমী মানুষ। অনুষ্ঠানের শুরুতে জাতীয় কবির প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। এরপরই কথামালা পর্বের স্বাগত বক্তব্যে কবির সাহিত্য ও সৃষ্টিকর্ম নিয়ে আলোচনা করেন জেলা কালচারাল অফিসার সৈয়দ মুহম্মদ আয়াজ মাবুদ। মূখ্য আলোচক হিসেবে কবির জীবনী নিয়ে আলোচনা করেন নানুপুর লায়লা কবির কলেজের বাংলা বিভাগের প্রাক্তন অধ্যাপক বিশ্বজিৎ চক্রবর্ত্তী। অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি ও গবেষকরা কবির স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, কাজী নজরুল ইসলাম ছিলেন অসামপ্রদায়িক চেতনা, অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ এবং মানবতার প্রতীক। তাঁর সাহিত্য ও সঙ্গীত আজ বহুগুণ বেশি প্রাসঙ্গিক। ৫০তম প্রয়াণ দিবসে তাঁর আদর্শ ও লেখনীকে তরুণ প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার অঙ্গীকার করতে হবে।
আলোচনা পর্ব সমাপনে একাডেমির মিলনায়তনে শুরু হয় মূল সাংস্কৃতিক আয়োজন। জেলা শিল্পকলা একাডেমির ছাত্র–ছাত্রী এবং স্থানীয় শিল্পীদের পরিবেশনায় নজরুলের কবিতা ও কালজয়ী গানগুলো এক অনন্য আবহ তৈরি করে। অনুষ্ঠানে সমবেত সঙ্গীত পরিবেশন করে সঙ্গীত প্রশিক্ষক অপু বর্মন এর পরিচালনায় জেলা শিল্পকলা একাডেমি সঙ্গীতদল, তাপস কুমার বড়ুয়ার সঙ্গীত পরিচালনায় নজরুল একাডেমি। জেলা শিল্পকলা একাডেমি নৃত্যদল ও স্থানীয় নৃত্যদলের পরিবেশনায় নজরুলসঙ্গীতের সাথে মনোজ্ঞ পরিবেশনা উপস্থিত দর্শক–শ্রোতাদের মুগ্ধ করে। দলীয় নৃত্য পরিবেশন করে, জেলা শিল্পকলা একাডেমি নৃত্যদল– নৃত্য পরিচালনায় নৃত্য প্রশিক্ষক প্রমা অবন্তী ও তরুণ চক্রবর্ত্তী, দ্বীপশিখা নৃত্যগোষ্ঠি, কল্পবৃক্ষ–নৃত্য পরিচালনায় সৌমিত্র শুভ্র।এছাড়া জেলা শিল্পকলা একাডেমির আবৃত্তি দলের আবৃত্তিশিল্পীরা কবি নজরুলের সাম্যবাদী ও চেতনামূলক গণজাগরণে কবিতা আবৃত্তি করেন। অনুষ্ঠান সঞ্চলনায় ছিলেন আবৃত্তি শিল্পী শ্রাবণী দাশগুপ্তা।

