চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউস চলতি আগস্ট মাসে নিলামযোগ্য ৪৪২টি কনটেইনার পণ্য ই-অকশন পদ্ধতিতে বিক্রির উদ্যোগ নিয়েছে।
আজ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এ তথ্য জানায়। এতে বলা হয়েছে- চট্টগ্রাম বন্দরের কর্ম-উপযোগিতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধি, বিদ্যমান কনটেইনার জট নিরসন, ভৌত ও আর্থিক নিরাপত্তাসহ জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং সর্বোপরি রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয় রোধে অখালাসকৃত ও নিলামযোগ্য বিভিন্ন পণ্য নিয়মিতভাবে নিলামের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করছে চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউস। এরই ধারাবাহিকতায় এই নিলামে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড থেকে জারিকৃত নিলামের স্থায়ী আদেশ নং-৯১/কাস্টমস/২০২৫/১২৩ এবং বিশেষ আদেশ নং-৮২/২০২৫/কাস্টমস অনুযায়ী বিশেষ ই-অকশন নং-১০/২০২৬-এর আওতায় সর্বমোট ১০১টি লট রয়েছে, যাতে ২৯০টি কনটেইনার রয়েছে। এসব কনটেইনারে বিভিন্ন ধরনের কেমিক্যাল, যন্ত্রপাতি ও যন্ত্রাংশ, প্লাস্টিক ওয়েস্টেজ (স্ক্র্যাপ), চেস্ট ফ্রিজার, পাইপ, বিভিন্ন ধরনের সুতা ও কাপড়, সোলার মডিউল, বিভিন্ন ধরনের লবণ, কাগজ, টাইলস, গৃহস্থালি পণ্য এবং ৮৬টি পুরাতন খালি কনটেইনারসহ বিভিন্ন পণ্য রয়েছে। এসব পণ্যচালানের নিলামে কোনো সংরক্ষিত মূল্য থাকবে না।
অপরদিকে, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড কর্তৃক জারিকৃত স্থায়ী আদেশ নং-৯১/কাস্টমস/২০২৫/১২৩ অনুসারে ই-অকশন নং-০৯/২০২৬-এর আওতায় ১০৯টি লটে মোট ১৫২টি কনটেইনার পণ্য নিলামে বিক্রি করা হবে। এর মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের ক্যাপিটাল মেশিনারিজ, ফেব্রিক্স, পিভিসি ফ্লেক্স ব্যানার, কেমিক্যাল, এসির যন্ত্রাংশ, টাইলস, স্টেইনলেস স্টিল কয়েল, স্ক্যানার, ব্যাডমিন্টন র্যাকেট, এলিভেটর ও লবণসহ অন্যান্য পণ্য।
নিলাম কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সম্পূর্ণ ডিজিটাল প্রক্রিয়ায় এ নিলাম পরিচালিত হবে।
নিলাম কার্যক্রম অধিকতর প্রতিযোগিতামূলক করার লক্ষ্যে ই-অকশন নং-০৯/২০২৬-এর পণ্য ৩০ আগস্ট থেকে ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত এবং বিশেষ ই-অকশন নং-১০/২০২৬-এর পণ্য ৩০ আগস্ট থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত অফিস চলাকালে বিডারদের সরেজমিনে পরিদর্শনের সুযোগ থাকবে। পাশাপাশি অনলাইনে বিড করার ব্যবস্থাও রয়েছে।
আগ্রহী ক্রেতারা ঘরে বসেই কাস্টমসের অফিসিয়াল ই-অকশন পোর্টালে নিবন্ধন করে ই-অকশন নং-০৯/২০২৬-এর দরপত্র ২৭ আগস্ট থেকে ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ বিকেল ৩টা পর্যন্ত এবং বিশেষ ই-অকশন নং-১০/২০২৬-এর দরপত্র ২৭ আগস্ট থেকে ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ বিকেল ৩টা পর্যন্ত অনলাইনে দাখিল করতে পারবেন।
অনলাইন বিডিংয়ের সময় প্রস্তাবিত দরমূল্যের ন্যূনতম ১০ শতাংশ জামানতের স্ক্যান কপি আপলোড করতে হবে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট মূল কাগজপত্র দাখিল করতে হবে।
সর্বোচ্চ দরদাতাদের আমদানি নীতি আদেশ ২০২১-২০২৪-এর প্রযোজ্য শর্ত পরিপালন সাপেক্ষে পণ্যসমূহ খালাস গ্রহণ করতে হবে।
আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর দুপুর সাড়ে ৩টায় ই-অকশন নং-০৯/২০২৬-এর দরপত্র বাক্স খোলা হবে। অন্যদিকে, ২০ সেপ্টেম্বর সকাল ১১টায় বিশেষ ই-অকশন নং-১০/২০২৬-এর দরপত্র বাক্স খোলা হবে।
নিলাম সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্যের জন্য বিডারদের কাস্টমসের ই-অকশন পোর্টাল পরিদর্শনের জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং জাতীয় সম্পদের কার্যকর ব্যবস্থাপনায় প্রযুক্তিনির্ভর এ নিলাম কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড।

