প্রধানমন্ত্রীর তথ্য, পলিসি ও স্ট্র্যাটেজি উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান বলেছেন, শিগগির গ্যাসের সংকট কেটে যাবে। গ্যাস সংকট কাটলে বিদ্যুৎ উৎপাদনও বাড়বে। তবে মধ্যপ্রাচ্যে জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত হওয়ায় সামনে জ্বলানি ও কৃষি খাতকে অস্থির সময়ের মধ্য দিয়ে যেতে হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সাপ্তাহিক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন জাহেদ উর রহমান। জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকটের ব্যাপারে তিনি বলেন, এলএনজি টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ড হয়েছে। খুব বড় দুর্ঘটনা হয়নি, কিন্তু কাজ করতে পারছে না। এই কারণে গ্যাস সরবরাহ কমে গেছে। গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়ায় শিল্প খাত ও বাসাবাড়িতে রান্নার কাজে বিদ্যুৎ ব্যবহার বেড়েছে। আর এ কারণেই বিদ্যুৎ সংকট দেখা যাচ্ছে।তিনি বলেন, ঢাকার বাইরে প্রচুর লোডশেডিং হচ্ছে। তীব্র গরমের মধ্যে বিদ্যুৎ সংকটে মানুষ ভুগছেন।
গ্যাস সংকটের কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, আমদানি করা গ্যাস এলএনজি টার্মিনালে আনা হয়। সেখানে রিগ্যাসিফিকেশন করতে হয়। এ রকম দুটি প্ল্যাটফর্ম আছে আমাদের। এর মধ্যে একটি আমেরিকান কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জি পরিচালনা করে। সেটায় একটি দুর্ঘটনা ঘটেছে। এ কারণে গ্যাস সরবরাহ কমে গেছে।
তিনি বলেন, এর প্রভাব সব জায়গায় পড়েছে। আমার নিজের বাসাতেও গ্যাসের চাপ থাকে না। আমি নিজে ভুক্তভোগী। আমাদের সংকট আগেই ছিল, এখন একটি টার্মিনাল থেকে যখন গ্যাস আসা বন্ধ হয়ে গেল, এটা মারাত্মক সংকট তৈরি করল। শিল্পে, বাসাবাড়িতে, সিএনজি পাম্পগুলোতে। সিএনজি অটোরিকশা-গাড়ির লম্বা লাইন হচ্ছে।
তথ্য উপদেষ্টা বলেন, সরকার লোডশেডিং করতে চায় না। যেহেতু গ্যাসের বিদ্যুৎকেন্দ্র কমে গেছে, সরকার অত্যন্ত ব্যয়বহুল তরল জ্বালানি ডিজেলভিত্তিক জ্বালানি দিয়েও বিদ্যুৎ উৎপাদন করছে। এগুলো পাবলিক মানি। সরকার পারতো পক্ষে এগুলো কম ব্যবহারের চেষ্টা করে। কারণ উৎপাদন ব্যয় অনেক বেশি। এই সংকটের কারণে সেটাও করছে। তারপরও লোডশেডিং হচ্ছে।
যখন গ্যাস কমে যায়, আমরা বাসা-বাড়িতে অনেকে ইলেকট্রিক চুলা ব্যবহার করতে শুরু করি। একইসঙ্গে যেসব শিল্পে ক্যাপটিভ বিদ্যুৎকেন্দ্র ছিল, মানে তারা সরকারের কাছ থেকে গ্যাস নিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করতো। যেহেতু গ্যাসের সংকট হলো, তারা এখন গ্রিডের বিদ্যুৎ ব্যবহার করতে শুরু করেছে। ফলে গ্যাস সংকটের কারণে বিদ্যুতের চাহিদাও অনেক বেড়ে গেছে। যেটা তরল জ্বালানিভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র দিয়েও পুরোপুরি সামলানো যাচ্ছে না।
শিগগির সংকট কেটে যাওয়ার আশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, গ্যাসের সমস্যার সমাধান হলে বিদ্যুতের অতিরিক্ত চাহিদা কমে যাবে এবং গ্যাসের সংকটও থাকবে না।
তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের যে সংকট, কখনো মনে হচ্ছে এটা শেষ হলো, কখনো মনে হচ্ছে এটা আরও খারাপের দিকে যেতে পারে। যেকোনো কিছুই হতে পারে।
নাগরিকদের বলবো, আমাদের সামনে অস্থির সময় আছে। হরমুজ প্রণালি তো আছেই, বাব-আল মানদেব প্রণালিতেও যদি সংকট হয়…হরমুজ প্রণালি দিয়ে ব্যবহার করে পৃথিবীর ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ সার পরিবহন করা হয়…এই সংকটগুলো হওয়ার সম্ভাবনা আছে। সরকার তার জায়গা থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে, করছে কিন্তু যে সংকটটা বৈশ্বিক, সেই সংকটের কিছু আঁচ আমাদের গায়ে লাগার ঝুঁকি আছে।
নাগরিকদের প্রস্তুত থাকতে ও জ্বালানি ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। জাহেদ আরও বলেন, সব কিছুর পরও কিছু সংকট হবে, যেটা সবাইকে ভাগ করে নিতে হবে।
ভবিষ্যতে এলএনজি টার্মিনালের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং নিজস্ব উৎস থেকে গ্যাস সন্ধানের উদ্যোগ আরও বিস্তৃত করবে সরকার, জানান তিনি। পাশাপাশি রিনিউয়েবল এনার্জি নিয়ে সরকার কাজ করছে। ‘এগুলো একটু সময় নেবে। অন্তর্বর্তীকালে কিছুটা সংকট হতে পারে। অফশোর গ্যাস অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নিলেও এই মেয়াদে পারবো না। স্থলভাগে যদি পাই, সেটা হয়তো আমরা শেষের দিকে পাব। সুতরাং আমরা ব্যর্থ হয়েছি কি না সেটার জন্য আমাদের আরেকটু সময় দেওয়ার আবেদন করছি এবং যৌক্তিকভাবে করছি। নাগরিকদের কষ্টের প্রতি সহানুভূতি রেখে বলতে চাই, আর কয়েক দিনের মধ্যে এটা (লোডশেডিং ও গ্যাস সংকট) ধাপে ধাপে কমবে।
তিনি বলেন, পৃথিবীকে নতুন করে জ্বালানি নিয়ে ভাবতে হবে। কোনো দেশ যদি তার নিজের দেশের ভেতর থেকে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে না পারে বা অধিকাংশ চাহিদ পূরণ করতে না পারে—সে দেশ সংকটে থাকবে। আমরা বাইরের ওপর নির্ভরতা কমানোর চেষ্টা করে যাচ্ছি।

