জাতিসংঘ ঘোষিত বিশ্ব পানিতে ডুবে মৃত্যু প্রতিরোধ দিবস–২০২৬ উপলক্ষে চট্টগ্রামে আলোচনা সভা, সচেতনতামূলক র্যালি, ওয়াটার সেফটি সেমিনার এবং নিরাপত্তাবিষয়ক প্রকাশনা বিতরণ করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে বক্তারা পানিতে ডুবে মৃত্যুর হার কমাতে জাতীয় শিক্ষাক্রমে সাঁতার, পানিতে নিরাপত্তা (ওয়াটার সেফটি) এবং জরুরি প্রাথমিক চিকিৎসা বিষয়ে শিক্ষা অন্তর্ভুক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।
শনিবার চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে লাইফ সেভিং সোসাইটি চট্টগ্রাম এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন একুশে পদকপ্রাপ্ত সাংবাদিক, দৈনিক আজাদী সম্পাদক এম এ মালেক। সভাপতিত্ব করেন লাইফ সেভিং সোসাইটি চট্টগ্রামের সভাপতি প্রকৌশলী মো. আনোয়ার কবির। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন মেয়রের প্রতিনিধি ক্যাপ্টেন (অব.) ইফতেখার উদ্দিন, লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) এবিএম জাইনূর রশিদ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মো. জাহেদুল ইসলাম, স্যার আশুতোষ সরকারি কলেজের সহযোগী অধ্যাপক জাহাঙ্গীর কবির, নৌ প্রকৌশলী সাজিদ হোসেন, ট্যুরিস্ট পুলিশ চট্টগ্রাম জোনের কর্মকর্তা স্বপন কুমার আইচ, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স চট্টগ্রামের উপ–পরিচালক তৌফিক ইসলাম ভূঁইয়া এবং লাইফ সেভিং সোসাইটি চট্টগ্রামের সাধারণ সম্পাদক মো. হাবিবউল্লাহ বাহার।
বক্তারা বলেন, পানিতে ডুবে মৃত্যু একটি নীরব জনস্বাস্থ্য সংকট। এ দুর্ঘটনা প্রতিরোধে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি জাতিসংঘের প্রস্তাবনা অনুযায়ী শিক্ষাক্রমে সাঁতার, পানিতে নিরাপত্তা এবং জরুরি প্রাথমিক চিকিৎসার বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা সময়ের দাবি।
তারা বলেন, গ্রামাঞ্চলের পুকুর ও জলাশয়ের চারপাশে নিরাপত্তা বেষ্টনী নির্মাণ, সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড স্থাপন এবং স্থানীয় পর্যায়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে। একই সঙ্গে দেশে পর্যটকের সংখ্যা বাড়ার প্রেক্ষাপটে সমুদ্রসৈকত ও অন্যান্য জলভিত্তিক পর্যটনকেন্দ্রে নিরাপত্তা অবকাঠামো, রিপ কারেন্ট সম্পর্কে জনসচেতনতা, আধুনিক উদ্ধার সরঞ্জাম এবং প্রশিক্ষিত লাইফগার্ড নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন বক্তারা। তারা বলেন, চট্টগ্রাম বিভাগ দেশের অন্যতম প্রধান পর্যটন অঞ্চল। পর্যটনকে আরো নিরাপদ ও পর্যটকবান্ধব করতে ট্যুরিস্ট মেডিকেল সেবা, জরুরি উদ্ধারব্যবস্থা এবং পানিতে নিরাপত্তাবিষয়ক প্রচারণা জোরদার করা প্রয়োজন।
অনুষ্ঠানে পানিতে ডুবে স্বজন হারানো কয়েকজন অভিভাবক তাদের হৃদয়বিদারক অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন এবং এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান। অনুষ্ঠান শেষে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ‘বাতিঘর’ ম্যাগাজিন ও সেফটি বুকলেট বিতরণ করা হয়।

